বাইরে রিমঝিম বৃষ্টি, আগাম শীতের আগমনী বাতাস; এমন আবহাওয়ায় চরম বেরসিক মানুষের মনও আনচান করে ওঠার কথা। কিন্তু নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেটারদের কথাবার্তা শুনে মনে হল, এর চেয়ে দুঃখজনক আবহাওয়া দুনিয়ায় আর নেই!
নিউজিল্যান্ডের জন্য ব্যাপারটা দুঃখেরই বটে। উপমহাদেশের যে কন্ডিশন নিয়ে সবসময় দলটি ভাবিত থাকে, সেই কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেয়ার শেষ সুযোগটিও নষ্ট হয়ে গেল কিউইদের! বাতিল হয়ে গেল বিসিবি একাদশের বিপক্ষে তাদের অনুশীলন ম্যাচটি। তিন দিনের এই ম্যাচটি যে হচ্ছে না, সেটা শুক্রবার, ম্যাচের প্রথম দিনেই আসলে বোঝা গিয়েছিল। গতকাল সকালে আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে ম্যাচ রেফারি নিশ্চিত করলেন—এমএ আজিজ স্টেডিয়ামের বিসিবি একাদশ বনাম নিউজিল্যান্ডের অনুশীলন ম্যাচটি হচ্ছে না।
তিনদিনের ম্যাচ এখনও পুরোনো ব্যাপার হয়ে গেছে। আবহাওয়ার যে পূর্বাভাস, তাতে এখন দুশ্চিন্তা—জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য টেস্ট ঠিকমতো মাঠে গড়াবে তো?
এই প্রশ্ন উঠেছে টানা বৃষ্টিতে গতকাল অনুশীলন ম্যাচ বাতিল হয়ে যাওয়ায়। আমাদের চট্টগ্রাম প্রতিনিধি জানিয়েছেন, ভেজা মাঠ, পানির নিচে থাকা আউটফিল্ড আর টানা বর্ষণে তিন দিনের ম্যাচটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয় সকালের মাঠ পরিদর্শনের পর। মাঠে যে পরিমাণে পানি জমে আছে, তাতে আর বৃষ্টি না হলেও খেলা সম্ভব না বলেই মনে করছেন ম্যাচ রেফারি।
এই ম্যাচ বাতিলের ব্যাপারে বিসিবির পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ট্যুর ম্যানেজমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান ও বোর্ড পরিচালক গাজী আশরাফ হোসেন লিপু বলেছেন, ‘ম্যাচ রেফারি গ্রাউন্ড স্ট্যাফ ও আম্পায়ারদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং পরিস্থিতি দেখে দু’দলের ম্যানেজমেন্টকে অবস্থা খুলে বলেছেন। দু’দলই বুঝতে পেরেছে যে, এই ম্যাচে আর খেলা হওয়া প্রায় অসম্ভব ব্যাপার। তাই ম্যাচ পরিত্যক্ত করা হয়েছে।’
ম্যাচ ঠিক কী পরিস্থিতিতে বাতিল হল, সেটা বলতে গিয়ে ফোনে লিপু বলছিলেন, ‘এটা আসলে আগের রাতেই বোঝা যাচ্ছিল। যেভাবে টানা বৃষ্টি হয়েছে, তাতে ম্যাচ খেলা কঠিন ছিল। আমরা দু’দলের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা অনুশীলনের কী কী সুবিধা পাবেন, সেটা নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া আর তো আমাদের কিছু করার ছিল না।’
একদিকে এম এ আজিজ স্টেডিয়ামে বৃষ্টিতে এই অনুশীলন ম্যাচ যখন বাতিল হলো, তখনই আয়োজক ও সমর্থকদের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজটা আরও বাড়ল। কারণ এই টানা বৃষ্টি শঙ্কা তৈরি করে দিল—একই শহরের আরেক ভেন্যু জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে ৯ তারিখ থেকে টেস্ট শুরু হবে কি না! যদিও সাগরিকার এই স্টেডিয়াম নিয়ে মাঠ সংরক্ষকদের তেমন কোনো সংশয় নেই। সর্বশেষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের সময় এই স্টেডিয়ামের ড্রেনেজ ব্যবস্থা খারাপ থাকায় ম্যাচ বাতিল করতে হয়েছিল। তারপর অনেক টানাপোড়েন শেষে জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে এখন সর্বাধুনিক মানের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা বসানো হয়েছে। ফলে মাঠটির প্রধান সংরক্ষক জাহিদ রেজা বাবু খুবই আশাবাদী, ‘টানা বৃষ্টি হলে তো কিছু করা মুশকিল। তবে বৃষ্টি থামলে মাঠ তৈরি হতে সময় লাগবে না। ড্রেনেজ সিস্টেম দারুণ কাজ করছে। একেবারে আধুনিক সিস্টেম হওয়ায় সময় নষ্ট হওয়ার কোনো ভয় নেই।’
আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলছে, অন্তত ৯ তারিখ পর্যন্ত উপকূলীয় নগরী চট্টগ্রামে এরকম টানা অথবা থেমে থেকে বৃষ্টি চলতে থাকবে। তার মানে অন্তত টেস্টের শুরুর একটা দিন ভেসে যাওয়ার বেশ ভালোই সম্ভাবনা আছে।
এরপর টেস্ট শুরু হলে আরেক মুশকিলে পড়তে পারে, স্বাগতিক দল। উইকেটের চরিত্র বদলে যেতে পারে। এমনিতেই এই স্টেডিয়ামে দুই বছর হল প্রতিযোগিতামূলক খেলা হয় না। ফলে উইকেট কী আগের মতো নিচু ও ধীরগতির আচরণ করবে কী না, অনুমান করা খুব মুশকিল।
এখন দুর্ভাবনাটা আরও বেড়ে গেল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ক্রিকেট বোর্ডেরই একজন সমঝদার বলছিলেন, ‘এটা আমাদের টিমের জন্য খুব চিন্তার বিষয় হবে। এই আবহাওয়ার পর উইকেট শুরুর একটা দুটো দিন অন্তত পেসারদের দারুণ সহায়তা করতে পারে। আর নিউজিল্যান্ডের পেসাররা এরকম পরিস্থিতিতে সেরা চেহারায় চলে আসতে পারে।’
অবশ্য আয়োজকরা এসব দুশ্চিন্তার চেয়ে সুন্দর একটা টেস্ট ম্যাচ আয়োজন নিয়ে বেশি ভাবছেন। ট্যুর ম্যানেজমেন্ট কমিটির প্রধান, সাবেক অধিনায়ক লিপু তাই আছেন অন্য দুশ্চিন্তায়, ‘জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা নিয়ে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু সমস্যা হল, টেস্টের আগে যদি মাঠ ও উইকেট তৈরির মতো সময় কিউরেটররা একেবারেই না পান, তাহলে এটা তো একটা দুশ্চিন্তার ব্যাপার। আমরা এখন শুধু আশা করতে পারি যে, আবহাওয়া ভালো হয়ে যাবে।’
