শেষ রাউন্ডের ম্যাচটা জিতলেই চ্যাম্পিয়ন হবেন আব্দুল্লাহ আল রাকিব। এটা আগেই জানা ছিল সবার। তাই রাকিবের প্রতি দাবা সংশ্লিষ্টদের আগ্রহটা বেশিই ছিল। শেষ পর্যন্ত জাতীয় দাবার শিরোপা গ্র্যান্ডমাষ্টার আব্দুল্লাহ আল রাকিব জিতলেও তার মধ্যে কোন উচ্ছাস দেখা গেল না। কারণ নিজের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার চেয়ে প্রতিপক্ষের ব্যর্থতাকে বড় করে দেখছেন তিনি।
আব্দুল্লাহ আল রাকিব ১৩ খেলায় ১১ পয়েন্ট পেয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন। রানার্সআপ হয়েছেন গ্র্যান্ডমাস্টার জিয়াউর রহমান জিয়া, আন্তর্জাতিক মাষ্টার মিনহাজউদ্দিন সাগর তৃতীয়, এনামুল হোসেন রাজিব চতুর্থ এবং বর্তমান চ্যাম্পিয়ন নিয়াজ মোরশেদ পঞ্চম স্থান পেয়েছেন।
রাকিব শেষ বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন ২০০৭ সালে। সেই টুর্নামেন্টেই রাকিব গ্র্যান্ডমাষ্টার খেতাবের জন্য শেষ নর্মটি অর্জন করেছিলেন। যে কারনে আজও তার কাছে দিনটি অন্যরকম আনন্দ বয়ে আনে। এরপর ২০০৮ সালে শেষ বার জাতীয় দাবায় খেলেছিলেন নারায়নগঞ্জের ছেলে আব্দুল্লাহ আল রাকিব। এরপর নানা কারনে তিনি আর জাতীয় দাবায় খেলেননি। তা ছাড়া দাবা ফেডারেশনে অস্থিরতা থাকায় অনেক দাবাড়ুু দুরে সরে গিয়েছিলেন। টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করেননি। প্রস্তুতিও ভালো ছিল না।
রাকীব বলছেন,‘এবারও যে খুব ভাল খেলে চ্যাম্পিয়ন হলাম তা নয়। আসলে আমার প্রতিপক্ষরা তাদের মান অনুযায়ী খেলতে ব্যর্থ হয়েছেন। প্রস্তুতি তেমন ভাল ছিল না। তাছাড়া আমার নিজের আক্রমনাত্বক স্টাইলেও খেলিনি। আসলে অন্যদের যেমনটা খেলার কথা ছিল তেমনটা খেলতে পারেনি বলেই আমার চ্যাম্পিয়ন হওয়াটা সহজ হয়েছে।’
অন্য গ্র্যান্ডমাষ্টাররা তাকে হারাতে পারেননি । তিন গ্র্যান্ড মাস্টার জিয়া, নিয়াজ ও রাজিবের সাথে ড্র করেন তিনি।
খেলা শেষ করে সংবাদ মাধ্যমের সাথে কথা বলার সময় দাবার ভবিষ্যত্ কী জানতে চাইলে বিরক্ত হন তিনি,‘এ ধরনের প্রশ্ন আমাকে বিব্রত করে। নিয়াজ ভাই, জিয়া ভাইরাও এই সব প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। গ্র্যান্ডমাষ্টার হওয়ার পর হওয়ার পর থেকে আমাকেও দিতে হয়। অর্থ নেই, পৃষ্ঠপোষক নেই, সুযোগ সুবিধা নেই, এই সব কথা বলতে আর ভালো লাগে না।’ একটি ছোট ফেডারেশনের পাঁচ জন গ্র্যান্ডমাষ্টার থাকার কথা না। কিন্তু আমাদের দেশের দাবাটা যেন একই জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে।
আরেক গ্র্যান্ডমাষ্টার রিফাত বিন সাত্তার এবার জাতীয় দাবায় খেলেননি। এপ্রসঙ্গে রাকিব বলেন এবারের টুর্নামেন্টের মানটা আরো ভালো হতে পারত যদি রিফাত খেলতেন এবং কয়েকজন ফিদে মাষ্টার যেমন তৈয়বুর রহমান সুমন, ফাহাদ রহমানরা বাছাইপর্বে বাদ না পড়তেন। রাকিবের রেটিং এখন ২৫১১। এ নিয়ে তার বক্তব্য, ‘এটা ভাবতে খারাপই লাগছে যে দেশের টপ র্যাঙ্কিয়ে থাকা দাবাড়ুর রেটিং এটা। এ থেকেই দাবার সামগ্রিক চিত্রটা বোঝা যায়। নভেম্বরে ভারতে দু’টি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অংশ নেবেন রাকিব।
