‘প্রত্যেক ব্যাটসম্যানের জন্য আলাদা পরিকল্পনা আছে’

আপডেট : ০৬ অক্টোবর ২০১৩, ২১:৪৩
নিজের সময়ে শোয়েব আখতার, ব্রেট লিদের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন। কেউ কেউ তার মধ্যে দেখতে পেত ভবিষ্যত্ এক গ্রেট ফাস্ট বোলারকে। কিন্তু ইনজুরি গ্রেট হতে দেয়নি শেন বন্ডকে। মাত্র ৩৪ বছর বয়সে খেলা থেকে সরে যেতে হয়েছে এই তারকা পেসারকে। সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা থেকে সাবেক ফাস্ট বোলার পরিচয়ের এই তারকা এখন নিউজিল্যান্ড দলের বোলিং কোচ। গতকাল চট্টগ্রামে নিজের সম্পর্কে, শিষ্যদের সম্পর্কে কথা বললেন বন্ড— কোচিংয়ের কাজটা কেমন লাগছে? দারুণ ভূমিকা, ভিন্ন ভূমিকা। এখানে আমার সরাসরি কিছু করার নেই। আমাদের হাতে যে অসাধারণ দলটি আছে, আমি তাদের পরামর্শ দিতে পারি। খেলোয়াড় আর কোচ; দুই জীবনে প্রধান কী পার্থক্য টের পান? আমার মনে হয়, খেলার সময় নার্ভের ওপর এতো চাপ পড়ে না, এতো টেনশন নিতে হয় না। কোচের দিক থেকে দেখলে খেলার সময় কিছুই আমার নিয়ন্ত্রণে থাকে না। ফলে মানসিক চাপটা বেশি থাকে। আমি যেটা পারি, খেলোয়াড়দের সর্বোচ্চ প্রস্তুত করে দিতে পারি। এরপর তাদের মাঠে পাঠিয়ে তাদের ওপরই বিশ্বাস রাখতে হয়। আমাকে প্রতিদিনের পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করতে হয় এবং চেষ্টা করতে হয় প্রতিনিয়ত ওদের আগের দিনের চেয়ে ভালো করে তোলা। সবমিলিয়ে খেলোয়াড়রাই আসলে সব। শেষ পর্যন্ত আমার কাজ ড্রেসিংরুমে বসে খেলা দেখা। হ্যা, আমার সুবিধা হল, আমি ক্রিকেট দেখাটা খুব উপভোগ করি! এখন তো আর ইনজুরির ভয় নেই... হ্যা, এই একটা ব্যাপার। একমাত্র নিজের পায়ে গরম চা ঢেলে পুড়িয়ে ফেলা ছাড়া আর তেমন কোনো ইনজুরির ভয় নেই। বাংলাদেশের চিরায়ত উইকেটে কী আপনার ফাস্ট বোলারদের পক্ষে ভালো করা সম্ভব? দেখুন, এখানকার উইকেট আমিও জানি নিচু ও ধীর গতির। কিন্তু আপনি ইতিহাস দেখলে দেখবেন, বাংলাদেশে ফাস্ট বোলারদের বেশ ভালো করার রেকর্ডও আছে। কোনো সন্দেহ নেই, বাংলাদেশ নিজের মাটিতে খুব শক্তিধর দল। এদের স্পিন বিভাগটা ভয়ঙ্কর। ফলে আমার মনে হয়, বেশ কঠিন একটা সময় আসছে। তবে আমাদের পেসাররা যথেষ্ট আক্রমণাত্মক মানসিকতা নিয়েই মাঠে নামবে। তারা লর্ট বল, বাউন্স বল করবে। সোজা কথা, আমি এই আক্রমণাত্মক বোলিংয়ের বার্তাটাই আমার বোলারদের দেয়ার চেষ্টা করছি। এখানে খেলার প্রধান চ্যালেঞ্জটা কী? মোটা দাগে, এখানকার আর্দ্রতা আর গরমের জন্য বাইরের যে কোনো ক্রিকেটারের জন্য উপমহাদেশে খেলা ক্যারিয়ারের কঠিনতম কাজ। তবে ছেলেরা অনেকেই শ্রীলঙ্কায় সময় কাটিয়ে এসেছে বলে প্রস্তুতিটা ভালোই। তারপরও প্রতিদিনই কাজটা কঠিন হবে। অনুশীলন ম্যাচ না হওয়ায় আপনারা খুব হতাশ? হ্যা, অনুশীলন ম্যাচটা না হওয়ায় ছেলেরা একটু নার্ভাসই হয়ে পড়েছে। প্রস্তুতির জন্য এটা ভালো একটা সুযোগ ছিল। কিন্তু চাইলেই তো বৃষ্টি থামিয়ে দেয়া যায় না। টিম সাউদিকে আপনার উত্তরসুরী বলা হচ্ছে... দেখুন টিম সাউদির মধ্যে বিশ্বসেরা ফাস্ট বোলার হওয়ার সম্ভাবনাটা আছে। গত বছর সে অসাধারণ বল করেছে। যদিও টেস্টে খেলবে না এখানে। তবে সামনের বছরগুলোতে ওর সেরাটা দেখা যাবে বলে আমার মনে হয়। আমার ধারণা, আগামী বছর পাঁচেক সময়ের মধ্যে সে নিউজিল্যান্ডের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ক্রিকেটারে পরিণত হবে। আপনার পেসারদের বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রধান লক্ষ্য কী থাকবে? মূল লক্ষ্য স্ট্যাম্প উপড়ে ফেলা; স্ট্যাম্পে আঘাত করতে পারাটাই সেরা ব্যাপার, তাই না? আমরা বাংলাদেশী খেলোয়াড়দের নিয়ে আলাদা আলাদা পরিকল্পনা করছি। এর মধ্যে কয়েকজন ব্যাটসম্যানের স্টাইল একেবারে একরকম। আমরা প্রত্যেক ব্যাটসম্যানের জন্য আলাদা পরিকল্পনা করছি। নতুন বল হোক আর পুরোনো বল; মূল কাজ হল, বলটা যেখানে চাই, সেখানেই ফেলা।