আলোকপাত

রিকশা চলে বিদ্যুতে

আপডেট : ০৬ অক্টোবর ২০১৩, ২২:০২
মাত্র ক’দিন আগের কথা। ব্যস্ত রাস্তা পারাপারের সময় গাড়ির তুলনায় রিকশার আগমনকে আমরা কিছুটা কমই তোয়াক্কা করতাম না। কেননা রিকশার গতি অটো রিকশার চেয়েও কম ছিলো। এখন কিন্তু সেটি করতে গেলে রিকশা নিচে পড়ার সম্ভাবনা আগের তুলনায় অনেক বেশি। কেননা আমাদের রিকশা এখন অনেক গতিময়। আর এই গতি পায়ের নয়, তেলের নয়, গ্যাসের নয়, বিদ্যুতের! অর্থাত্ বাংলাদেশে রিকশা চলে বিদ্যুতে। আগের মতো ক্রিং ক্রিং বাজে না স্প্রিংয়ের ঘন্টা। বিদ্যুতে বাজে পিপ পিপ হর্ন। পাল্টে গেছে রিকশার নাম, চেহারা, আকৃতি ও প্রকৃতি। নাম হয়েছে ডিজিটাল রিকশা। এই ডিজিটাল রিকশাই আমাদের গাড়ি। আমরা তো ছোট গাড়ি কিনতে পারি না টাকার অভাবে। বড় গাড়িতে উঠতে পারি না ভিড়ের ঠেলায়। কাজে যোগ দিতে চাই সঠিক সময়ে। দ্রুত রোগী নিয়ে যেতে চাই নিকটবর্তী হাসপাতালে। অথচ ব্যয় করার সাধ্য নেই এ্যাম্বুলেন্সের টাকা। নেই গাড়ি চলাচলের মতো বড় রাস্তা। ডিজিটাল রিকশাই এসবের সমাধান। এই রিকশায় কিছুটা হলেও বৃদ্ধি করেছে আমাদের গতি, অগ্রগতি ও জীবনযাত্রার মান। শুধু যে যাত্রীদের সুবিধা বেড়েছে, তা নয়। বৈধ ও অবৈধ সুবিধা বেড়েছে চালক, মালিক এবং আরো অনেকেরই। চালকদের কমেছে শারীরিক কষ্ট আর সময়। শুধু বড় বড় শহরেই নয়; এখন গ্রামেও দেখা যায় এই ডিজিটাল রিকশার ছুটাছুটি। তবে চালকদের বক্তব্য মতে সংশ্লিষ্ট পুলিশদেরকে মাসোয়ারা না দিয়ে রক্ষা নেই কারোরই। কারণ এই ডিজিটাল রিকশা চালানোর বৈধতা এখনো সবাইকে দেয়নি বর্তমান ডিজিটাল সরকার। অনুমতি না থাকাটাই হয়তো পুলিশের পোয়াবারো। অনেক ডিজিটাল রিকশা চালকের সাথে কথা হয়েছে আমার। একদিন রাজধানীর মিরপুর ১ নম্বরের একজন চালক জোরসে রিকশা ছেড়ে গান তোললেন গলায়: “চলছে আমার রিকশা গাড়ি হাওয়ার বেগে উইড়া উইড়া”। এই একটা লাইন গাইছিলো বার বার। আমি জুড়ে দিতে চাইলাম আরো একটি লাইন: ‘সোনার বাংলা দেখবো আমি ঘুইরা ঘুইরা’। কিন্তু সে প্রত্যাখ্যান করলো আমার দেয়া বক্তব্য। বললো: “জি না স্যার, খুব বেশি দূর ঘুরতে পারবেন না এই রিকশায়। মোহাম্মদপুর গেলেই দিতে হবে জরিমানা। আমি আরো আগ্রহ করে জানতে চাইলাম বিস্তারিত। জানা গেলো প্রতি ৩/৪টি পুলিশ স্টেশন নিয়ে তৈরি করা হয়েছে এই ডিজিটাল রিকশার একেকটি জোন। প্রতি জোনে অবাধে রিকশা চালাতে হলে প্রতি মাসে রিকশা প্রতি দিতে হয় ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা। এই টাকা দিয়ে নিতে হয় একটি ডিজিটাল কার্ড। এই কার্ড সাথে থাকলে আর আটকায় না পুলিশে! এইসব ডিজিটাল রিকশাগুলো চলে বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন ডি সি বেটারির সাহায্যে। এতিটি রিকশায় থাকে কম-বেশি ৪৮ ভোল্টের বেটারি এবং ১ হর্স পাওয়ারের ছোট্ট একটি মোটর। বেটারিগুলোতে ৪/৬ ঘন্টা চার্জ দিয়ে রিকশা চালানো যায় ১৬/১৮ ঘণ্টা। ফলে বিদ্যুতের উত্পাদন আগের তুলনায় প্রায় তিনগুণ বৃদ্ধি করা হলেও সন্তোষজনকভাবে কমানো যাচ্ছে না লোডশেডিং। যাদের পা বিকল অথবা অন্য কোন সমস্যায় শারীরিকভাবে অক্ষমতার কারণে চালাতে পারেন না ম্যানুয়াল রিকশা তাদের ক্ষেত্রে কমার্শিয়াল রেট ও অন্যান্য শর্তারোপ করে দেয়া যেতে পারে এই ডিজিটাল রিকশা চালানোর অনুমতি। যেহারে বাড়ছে এই ডিজিটাল রিকশা তাতে এখনই নেয়া উচিত সঠিক পদক্ষেপ। অতিদ্রুত নেয়া উচিত সরকারের হাতে এটির নিয়ন্ত্রণ। বিপুল পরিমাণে বিদ্যুত্ উত্পাদন বৃদ্ধি সাপেক্ষ একটা নিয়ম-নীতি নির্ধারণের মাধ্যমে লাইসেন্স ফিস আদায় করে দেয়া যেতে পারে পরিবেশ, যাত্রী ও চালকবান্ধব এই যানবাহনটির বৈধতা। এতে বৃদ্ধি পাবে সরকারের আয়, বন্ধ হবে আলোচিত দুর্নীতি এবং আরো সচল ও বিস্তৃত হবে ডিজিটাল বাংলাদেশের ডিজিটাল রিকশা। লেখক :অধ্যক্ষ, কিশলয় গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা Email: [email protected]

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন