‘চট্টগ্রামকে মডেল হিসেবে দাঁড় করাতে চাই’ —আকরাম খান

আপডেট : ০৭ অক্টোবর ২০১৩, ২১:৪২
গতকাল অনানুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক নির্বাচিত হয়ে গেছেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও প্রধান নির্বাচক এবং বর্তমান টিম ম্যানেজার আকরাম খান। বর্ণিল ক্যারিয়ারের এই মানুষটি এখন স্বপ্ন দেখছেন, কর্মকর্তা হিসেবে চট্টগ্রামের ও দেশের ক্রিকেটকে বদলে দেয়ার। নিজের স্বপ্ন, পরিকল্পনা ও ভবিষ্যত্ নিয়ে দৈনিক ইত্তেফাককে দেয়া একান্ত সাক্ষাত্কারে কথা বলেছেন আকরাম খান। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন দেবব্রত মুখোপাধ্যায়— অনানুষ্ঠানিকভাবে আপনি এখন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক। অভিনন্দন। অনেক ধন্যবাদ। দেশের, চট্টগ্রামের মানুষের ভালোবাসার ফলে আজ আমি এখানে। এখন আমার চ্যালেঞ্জ হলো, আমার প্রতি মানুষের এই আস্থার প্রতিদান দেয়া। আপনার প্রতি আস্থা বা দাবি যাই বলেন; আজ তামিম নিজেই খানিকটা বলে দিয়েছেন। চট্টগ্রামের ক্রিকেটের সুদিন আপনি ফেরাবেন, এমন আশা করছেন তামিমরা... হ্যাঁ, এটা তো শুধু তামিমের নয়, আমাদেরও আফসোস। এই শহর থেকে একসময় অনেক অনেক কোয়ালিটি খেলোয়াড় বেরিয়েছেন। নান্নু ভাই, নোবেল ভাই, মাসুম ভাই, শহীদ ভাই থেকে এই তামিম, নাফীস, আফতাবরা। কিন্তু এখন তামিম ছাড়া জাতীয় দলে কেউ নেই। নতুন কেউ উঠে আসছে, তেমনও নয়। অবশ্যই আমার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এই পরিস্থিতিটা বদলানো। সে জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনা আছে? অবশ্যই। দেখুন, ক্রিকেটার বের করে আনার জন্য অনেক অনেক ক্রিকেটের বিকল্প নেই। মাঝে তো চট্টগ্রামে ক্রিকেট অনেক কমে গিয়েছিল। নাছির ভাই (আ জ ম নাছির) গত ক’বছর ধরে অবস্থাটা বদলানোর চেষ্টা করছেন। এখন তরুণদের নিয়ে অনেক কাজ হচ্ছে, খেলাও হচ্ছে অনেক। এটাকে বাড়াতে হবে। আপনি যদি প্রচুর ক্রিকেট খেলাতে পারেন; তা হলে খেলোয়াড় বের হবেই। চট্টগ্রাম ছাড়া বিভাগের বাকি জেলাগুলোর ব্যাপারে কোনো কিছু ভাবছেন? অবশ্যই। ক্রিকেটকে রাজধানী বা মহানগরীতে শুধু রাখলে কাজ হবে না। জেলা পর্যায়ে খেলাটা নিয়মিত আয়োজনের জন্য যা যা দরকার করতে হবে। আমার তো তিন পার্বত্য জেলা নিয়ে বিশেষ পরিকল্পনা আছে। এখান থেকে বিশেষ করে মহিলা ক্রিকেটারদের বেরিয়ে আসার ভালো সম্ভাবনা আছে। আমি চাই চট্টগ্রামের প্রতিটা জেলায় সারা বছর ক্রিকেট চলুক। আপনি বিসিবির পরিচালক। চট্টগ্রামে বেশি মনোযোগ দিলে সেটা কী ঠিক হবে? দেখুন, চট্টগ্রামের প্রতি আমার বিশেষ কমিটমেন্ট আছে। আমি এখানকার ছেলে, এখান থেকেই সংগঠক হিসেবে বোর্ডে এলাম। আমি সেই ১৯৯৭ সালে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি জেতার পর এখানে বলেছিলাম, আমি আমার শহরের জন্য যা সম্ভব করার চেষ্টা করবো। আমি চাইলে প্রধান নির্বাচক হিসেবে থেকে যেতে পারতাম। সেটা আমি সহজে করতে পারতাম। কিন্তু বোর্ড পরিচালক হয়েছি, এই কমিটমেন্ট এবং জাতীয় দলের আরও কিছু পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করার স্বপ্নে। পুরো দেশ নিয়েও তো ভাবতে হবে... অবশ্যই। চট্টগ্রাম নিয়ে কাজ করাটা আমি পুরো দেশের ক্রিকেট নিয়েই কাজ করার অংশ হিসেবে দেখছি। আসলে আমি এখন দেশের প্রতিটা জেলা নিয়ে পরিকল্পনা করে সেটা বাস্তবায়িত করতে পারবো না। চট্টগ্রামে কাজগুলো করে একটা মডেল যদি তৈরি করতে পারি, দেখবেন, প্রতিটা বিভাগে-জেলায় সেরকম কাজ হচ্ছে। জাতীয় দলকে আরও শক্তিশালী করা এবং দলের একটা শক্ত পাইপ লাইন করা নিয়ে আপনি অনেকদিন ধরে কথা বলছিলেন। হ্যাঁ, এটাকে বলতে পারেন, সংগঠক হিসেবে আমার প্রধান স্বপ্ন। আমাদের বয়সভিত্তিক দলগুলো যে কোনো কারণেই হোক, আগের মতো আর পাইপ লাইন হিসেবে খুব ভালো অবস্থায় নেই। আপনি এখন যারা জাতীয় দলে আছেন, তাদের খুব বেশি বিকল্প বয়সভিত্তিক দলগুলোতে পাবেন না। আমি আগেও বলেছি, যে পাইপ লাইনের কথা আমি বলি, সেটা নির্বাচক হিসেবে আমার পক্ষে করা সম্ভব হয়নি। অনেক সীমাবদ্ধতা ছিল। সেটা নিয়েই কাজ করতে চাই। এ ব্যাপারে আমার বিস্তারিত পরিকল্পনা আছে। পেস বোলারদের নিয়ে আপনার অ্যাকাডেমি করার পরিকল্পনাটা আছে এখনও? অবশ্যই। আমি তো ওটার কাজ বেশ এগিয়েছিলামও। আমি একা না, ওটার পরিকল্পনা আমরা কয়েকজন মিলেই করেছি। সেই যে সীমবদ্ধতার কথা। সেসব কারণেই হয়নি। এবার পেস বোলিং অ্যাকাডেমিটা অবশ্যই দাঁড় করাতে চাই। এই যেসব পরিকল্পনার কথা বলছেন, তাতে আপনাকে গেম ডেভেলপমেন্ট বা এরকম কোনো দায়িত্ব পেতে হবে। সে সহযোগিতা কী বোর্ড থেকে পাবেন? আমি বারবার সবাইকে বলছি, এটা একটা টীম গেম। একা কেউ কিচ্ছু করতে পারবে না। আমাকে কী পদ দেয়া হলো, সেটা বড় কথা নয়। বড় কথা হলো, আমি কাজগুলো করতে পারছি কি না। আমি খুবই আশাবাদী যে, বোর্ড আমাকে এসব কাজ করতে সহযোগিতা করবেন। আসলে এগুলো তো কোনোটাই আমার একার কাজ নয়, এগুলো বোর্ডেরই কাজ। আমরা সবাই মিলেই করবো। খেলোয়াড়, অধিনায়ক, নির্বাচক, প্রধান নির্বাচক; সব ভূমিকাতেই আপনি খেলোয়াড়ঘনিষ্ঠ ছিলেন। আমাদের একটা ধারণাই আছে, কর্মকর্তারা খেলোয়াড়দের জন্য দূরের মানুষ। এবার কী তাহলে দূরে চলে যাবেন? প্রশ্নই আসে না। আমি নিশ্চিত করে দিতে চাই, খেলোয়াড়দের জন্য আমার দরজা এখন আগের চেয়েও বেশি খোলা থাকবে। আমি তাদের আকরাম ভাই-ই আছি। আমি চেষ্টা করবো, ওদের সঙ্গে সম্পর্কটা আরও ভালো করতে। মনে রাখতে হবে, খেলাটা খেলোয়াড়দেরই, অন্য কারো নয়। শেষ প্রশ্ন। অধিনায়ক ও প্রধান নির্বাচক হিসেবে সফলতার সঙ্গে নিজের সময় শেষ করেছেন। কর্মকর্তা হিসেবে খুব বেশি লোক ‘সফল’ বলে স্বীকৃতি পায় না। আপনি পাবেন তো? আমি অধিনায়ক হিসেবে সফল ছিলাম টিমমেটদের জন্য, আমি প্রধান নির্বাচক হিসেবে সফল ছিলাম কারণ সঙ্গীরা ভালো করেছেন। কর্মকর্তা হিসেবেও ব্যাপারটা তাই। টিম ভালো করলে আমিও ভালো করবো। আমি টিম মেম্বর হিসেবেই খেলবো। আশাকরি, নিজের সুনামটা ধরে রাখতে পারবো।