২০১৪ সালের মাঝামাঝি সময়ের ভেতর সিরিয়ার রাসায়নিক অস্ত্র ধ্বংস করার পরিকল্পনাটি তদারকি করতে একশ’ সদস্যের একটি শক্তিশালী দল গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি-মুন। গত সোমবার নিরাপত্তা পরিষদে দেয়া এক ভাষণে তিনি এ প্রস্তাব দেন। এদিকে যৌথভাবে পরিচালিত আন্তর্জাতিক রাসায়নিক বিশেষজ্ঞ দল দেশটির রাসায়নিক অস্ত্র নিরস্ত্রীকরণ প্রকল্পে কাজ করছে, দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এমন একটি ভিডিওচিত্র দেখানো হয়েছে। ওদিকে নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপটি শুরু করায় প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ এর পুরো কৃতিত্বের দাবিদার বলে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি।
রাসায়নিক অস্ত্রের তালিকা প্রস্তুত করা ও সে অস্ত্র ভান্ডার ধ্বংসের প্রক্রিয়াটি দেখভাল করতে ১০০ জনের একটি দল গঠনের রূপরেখার কথা বিবৃতিতে উল্লেখ করেন জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি-মুন। বান বলেন, আন্তর্জাতিক রাসায়নিক অস্ত্র পরিদর্শক দল ও তাদের সহযোগীরা একটি ‘বিপদজনক এবং দুর্যোগপূর্ণ’ পরিবেশে তাদের অভিযান পরিচালনা করছেন। পুরো কাজটি তারা ২০১৪ সালের জুন মাস নাগাদ তিনটি ধাপে করবেন যা আসলেই নজীরবিহীন। জাতিসংঘ এবং রাসায়নিক অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ সংগঠন (ওপিসিডব্লিউ) যৌথ উদ্যোগে এমন একটি কার্যক্রম চালাতে যাচ্ছে যা তারা এর আগে কখনো করেনি ঐ প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন তিনি।
বান আরো বলেন, মিশন পরিচালনার জন্য ১৯ জন ওপিসিডব্লিউ এবং জাতিসংঘের ১৬ জন পরিদর্শকের প্রথম দলটি ইতিমধ্যেই সিরিয়ায় পৌঁছেছে। এই পুরো মিশনটিতে থাকবে মোট ১০০ জন। এদিকে সোমবার ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠিত এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক সম্মেলনের এক ফাঁকে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে উচ্চ পর্যায়ের আলোচনা শেষে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি বলেন, সিরিয়ার রাসায়নিক অস্ত্র ধ্বংস করা শুরু হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ নিরস্ত্রীকরণ উদ্যোগের পুরো কৃতিত্ব আসাদ সরকারের ওপরই বর্তায়। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী কেরি আরো বলেন, দেরিতে হলেও দেশটি তার রাসায়নিক অস্ত্র ভান্ডার নির্মূল প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিয়েছে এতে তার দেশ ও রাশিয়া খুবই সন্তুষ্ট। এর আগে রবিবার সিরিয়া প্রথম ধাপে রাসায়নিক অস্ত্র ধ্বংস করার প্রক্রিয়া শুরু করে।
