মার্শাল আইয়ুবের অভিষেক আজই ?

আপডেট : ০৮ অক্টোবর ২০১৩, ২১:৫৫
সম্ভাব্য একাদশ তামিম ইকবাল, এনামুল হক, মার্শাল আইয়ূব, নাঈম ইসলাম/মোমিনুল হক, মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান, নাসির হোসেন, মাহমুদউল্লাহ, সোহাগ গাজী, রবিউল ইসলাম ও রুবেল হোসেন। শেন ওয়ার্ন আর স্টুয়ার্ট ম্যাকগিল দলে থাকলে একাদশে কাকে খেলাবেন? কিংবা ইকার ক্যাসিয়াস আর দিয়েগো লোপেজের মধ্যে কে সামলাবেন গোলপোস্ট! একেই বলে মধুর সমস্যা। বাংলাদেশ দলে ক্যাসিয়াস, লোপেজ, ওয়ার্ন বা ম্যাকগিলের মতো কেউ না থাকলেও একইরকম মধুর সমস্যায় আছে স্বাগতিকরা। বলা চলে, অধিনায়ক মুশফিকের জন্য সমস্যাটা আরও বিস্তৃত। আজ চট্টগ্রামের এম এ আজিজ স্টেডিয়ামে প্রথম টেস্ট খেলতে নামার আগে একাদশ নির্বাচন করতে গিয়ে রীতিমতো হিমসিম খাওয়ার কথা টিম ম্যানেজমেন্টের। অন্তত চারটি পজিশনে একাধিক ইনফর্ম খেলোয়াড় আছেন দাবিদার হিসেবে! এই প্রতিযোগিতায় কে জিতবেন, কে হারবেন তা ষোলো আনা নিশ্চিত হওয়া যাবে আজ খেলার আগে। অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমও বলেছেন, খেলার আগে উইকেট দেখেই তারা একাদশ ঠিক করবেন। তবে গতকাল পর্যন্ত যেটুকু খবর পাওয়া গেছে, তাতে এই দৌড়ে সামিল হওয়া তরুণ ক্রিকেটার মার্শাল আইয়ুব ইতিমধ্যে তার জায়গা অনেকটাই নিশ্চিত করে ফেলেছেন—আজ টেস্ট অভিষেক প্রায় নিশ্চিত মার্শালের। সেই সঙ্গে নিশ্চিত যে এই টেস্টে অন্তত অভিষেক হচ্ছে না পেসার আল আমিনের। আরও একটা মন ভাঙার খবর আছে। দুরন্ত পারফরম্যান্স করে দলে ফিরলেও একাদশে সম্ভবত জায়গা হচ্ছে না আব্দুর রাজ্জাকের। দলে একমাত্র স্পেশালিস্ট স্পিনার হিসেবে খেলবেন সোহাগ গাজী। এরপরও লড়াই থেকে যাবে চার নম্বরে নাঈম ইসলাম ও মোমিনুল হকের মধ্যে! নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে এই টেস্ট সিরিজ নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের ইতিহাসে অনন্য এক সিরিজ—এই প্রথম বড় কোনো দলের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ শুরুর আগে বাংলাদেশ সরাসরি জয়ের পরিকল্পনা এঁটে মাঠে নামতে পারছে। আর সে জন্যই খুব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে একাদশ নির্বাচনের ব্যাপারটা। জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের চিরায়ত উইকেট থাকলে হয়তো বাংলাদেশের সাকিবসহ তিন স্পিনার খেলানোর ঝুঁকি নিয়ে ফেলতে পারতো। কিন্তু নতুন উইকেট এবং মেঘলা আকাশ মিলিয়ে অন্তত দু’জন পেসার রাখতেই হচ্ছে দলে। যতোদূর খবর পাওয়া গেছে, সেই দুই পেসারের জায়গা নিচ্ছেন জিম্বাবুয়েতে দুরন্ত বল করা রবিউল হোসেন এবং ইনজুরি কাটিয়ে দারুণভাবে ফিরে আসা রুবেল হোসেন। এই দু’জনের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পেরে ওঠেননি তরুণ সেনসেশন আল আমিন। আর দুই পেসার নেয়ায় স্পেশালিস্ট স্পিনার একজনের বেশি রাখতে পারছে না বাংলাদেশ। অভিষেকের পর থেকে দুরন্ত ফর্মে থাকা সোহাগ গাজীকে সেই এক স্পিনারের জায়গায় নেয়ার কোনো বিকল্প ছিল না। ফলে আপাতত হতাশই হতে হয়েছে রাজ্জাককে। অবশ্য সোহাগের পাশে স্পিন ডিপার্টমেন্টে আসল দায়িত্বটা পালন করবেন ‘অটোমেটিক চয়েস’ হিসেবে দলে থাকা সাকিব আল হাসান। সেই সঙ্গে মাহমুদউল্লাহও হাত ঘোরাতে পারবেন। সাকিব, মাহমুদউল্লাহসহ দলের পাঁচ থেকে আট নম্বর পজিশনে আসলে খেলোয়াড় নির্বাচনে তেমন কোনো সমস্যা নেই। পাঁচ-ছয়ে সাকিব-মুশফিক, সাত-আটে নাসির-রিয়াদ নিশ্চিত আছেন। একইরকম ওপেনিংয়ে নিশ্চিত তামিম ইকবালের খেলা। সমস্যাটা হবে দুই থেকে চার নম্বর পর্যন্ত। দুই নম্বর ওপেনার, মানে তামিমের সঙ্গী হিসেবে এনামুল হক বিজয়ের নামটা একরকম নিশ্চিত। এবার তিন ও চার নম্বরের জন্য দাবিদার তিন দারুণ ফর্মে থাকা ব্যাটসম্যান—মার্শাল আইয়ুব, নাঈম ইসলাম ও মোমিনুল হক। সর্বশেষ বাংলাদেশের হয়ে তিন নম্বরে খেলেছিলেন মোহাম্মদ আশরাফুল। মার্শাল যেহেতু তার বড় বড় প্রথম শ্রেণির ইনিংসগুলো তিন নম্বর স্পেশালিস্ট হিসেবে খেলেছেন, সেই বিবেচনায় তাকে এই গুরুদায়িত্ব দেয়া একরকম নিশ্চিত। সে ক্ষেত্রে নাঈম ইসলামের ইনজুরিতেই দলে ফিরে পরপর কয়েকটি ফিফটি করা মোমিনুলের সঙ্গেই লড়তে হবে নাঈমকে। এই লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত কে জিতবেন, সেটা জানতে অপেক্ষা করতেই হচ্ছে।