অধিনায়কত্ব পাওয়ার পর থেকে দলকে যেমন সাফল্য এনে দিচ্ছেন, নিজেও আছেন দারুণ ফর্মে। মাঝে অভিমান করে কাজটা ছেড়ে দিতে চাইলেও আজ অনেক বড় এক চ্যালেঞ্জ নিয়ে নতুন করে যাত্রা শুরু করবেন অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। তার আগে গতকাল সংবাদ সম্মেলনে কথা বললেন বাংলাদেশ অধিনায়ক—
২০১০ সালে ওদের হোয়াইট ওয়াশ করার স্মৃতিটা এই সিরিজে কাজে লাগবে?
কাজে লাগানোর ভাবনা আসলে ওভাবে নেই। ওই সিরিজ অবশ্যই আমাদের অনুপ্রেরণা ও বাড়তি আত্মবিশ্বাস জোগায়। তবে সত্যি বলতে, টেস্ট ক্রিকেট ভিন্ন ঘরানার খেলা। আমরা টেস্ট খেলছি দীর্ঘদিন পর। সর্বশেষ টেস্টের পর মাত্র একটি তিনদিনের ম্যাচ খেলেছি আমরা। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে খেলেছি বটে, কিন্তু টেস্ট ক্রিকেট ভিন্ন ব্যাপার। আসলে আমাদের মূল চ্যালেঞ্জ ওদের চেয়ে বেশি নিজেদের সঙ্গেই। কারণ অনেকদিন পর টেস্ট খেলছি, উইকেটও একদম নতুন। তবে এটাও সত্যি, সমস্যা কিছু হলে আমাদের চেয়ে ওদের সমস্যা হবে তিনগুণ বেশি। আশা করছি আমরা দ্রুত খাপ-খাইয়ে নিতে পারব।
একাদশ ঠিক কেমন হচ্ছে? ঠিক করেছেন কিছু?
আমরা সাধারণত যে কম্বিনেশনে একাদশ সাজাই, তেমনই হবে। উইকেট দেখে মনে হচ্ছে স্পিনাররা অনেক সাহায্য পাবে। স্পিনার তাই বেশি খেলাতে পারি। সন্ধ্যায় টিম মিটিংয়ের পর সেটা ঠিক হতে পারে বা আগামীকাল (আজ) সকালেও উইকেট দেখে ঠিক হতে পারে। ব্যাটিং লাইন-আপে আগের সিরিজে আশরাফুল ভাই ছিলেন, এখন সেখানে নতুন একজন আসবে।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে এবার প্রত্যাশার চাপ কী যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি?
চাপ তো সব সময়ই থাকে। দেশের মাটিতে এমনিতেও আরও বেশি থাকে। গত এক-দেড় বছর দেশের মাটিতে আমরা ভালো ক্রিকেট খেলছি। এর চেয়েও বড় বড় সিরিজ আমরা খেলে এসেছি। আমার মনে হয় ক্রিকেটাররা আগের চেয়ে অনেক পরিণত ও দায়িত্বশীল হয়েছে। যদি সামর্থ্য অনুযায়ী খেলতে পারি এবং একটা দল হিসেবে খেলতে পারি, এই চাপকে জয় করা অবশ্যই সম্ভব।
গত কয়েকটা সিরিজে কয়েকটা টেস্ট আপনারা কাছাকাছি গিয়েও জিততে পারেননি। এটা নিয়ে বিশেষ কিছু ভাবছেন?
এটা আমরা ভেবেছি এবং সেভাবেই নিজেদের প্রস্তুত করার চেষ্টা করেছি। টেস্ট পাঁচ দিনের খেলা, প্রতিদিন তিনটি করে সেশন। অনেকবারই আমরা তিনদিন ভালো খেলে একদিন-বা দুদিনে ম্যাচ হেরে গেছি। শ্রীলঙ্কা সফরে একটা ইনিংস ভালো খেলার পর আমরা পরস্পরকে মনে করিয়ে দিচ্ছিলাম যেন পরের ইনিংসটাও ভালো খেলতে পারি। তো এভাবেই আমরা ছোট-ছোট লক্ষ্য অর্জন করার চেষ্টা করছি। আশা করছি এ টেস্টের পাঁচটা দিন আমরা সেশন বাই সেশন ভালো খেলতে পারব এবং ধারাবাহিকতা ধরে রাখার চেষ্টা করব।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে কী তাহলে সিরিজ জয়ের লক্ষ্য নিয়েই শুরু করছেন?
সিরিজ জয়ের লক্ষ্য তো অবশ্যই আছে। আমরা প্রতিটি ম্যাচ জয়ের জন্য খেলব। জিততে যা যা করা প্রয়োজন, সব করার চেষ্টা করব। শুধু টেস্ট নয়, টেস্ট, ওয়ানডে, টি-২০ সব জয়ের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করছি। ইনশাল্লাহ যদি সবকিছু ঠিকঠাক করতে পারি, অবশ্যই আমরা সেটা পারব।
সাকিব কী ম্যাচ খেলার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত?
তিনদিনের প্রস্তুতি ম্যাচটি খেলতে পারলে অবশ্যই ওর জন্য ভালো হতো। তবে সাকিব স্মার্ট ক্রিকেটার। যতটুকু অনুশীলনের সুযোগ আমরা পেয়েছি, ও কাজে লাগিয়েছে। প্রস্তুতিতে ঘাটতি এরপরও থাকতে পারে, তবে সাকিবের সামর্থ্য আছে সেটা পুষিয়ে দেবার।
সাকিবের উপস্থিতি কী একটু স্বস্তিতে রেখেছে আপনাকে?
এমন একজন ক্রিকেটার থাকলে অধিনায়কের কাজ অনেক সহজ হয়ে যায়। আশা করি সাকিব আগের বারের মতোই কিছু করবে। ওই সিরিজ ছাড়াও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওর রেকর্ড খুব ভালো। আশাকরি সেটা ধরে রাখবে। আর আশাকরি আমাদেরও কিছু সুযোগ দেবে, যেন আমরা কিছু করে দেখাতে পারি! (হাসি)
সবমিলিয়ে সবাইকেই একটু বেশি আত্মবিশ্বাসী মনে হচ্ছে!
জেতার জন্য এই আত্মবিশ্বাস থাকতেই হবে। তবে আমরা ওই রকম রিল্যাক্সড বা অতিআত্মবিশ্বাসী নই। জিততে হলে আমাদের সবাইকে সেরা ক্রিকেট খেলতে হবে। আর অনেক দিন পর আন্তর্জাতিক ম্যাচ হচ্ছে, সবাই খুব ক্ষুধার্ত ভালো করার জন্য।
আপনার ব্যক্তিগত লক্ষ্য কী থাকবে?
অবশ্যই আমার চাওয়া দলীয়ভাবে ভালো করা এবং দলের সাফল্যে আমার যেন সর্বোচ্চ অবদান থাকে।
