গণতন্ত্রের সহজ কথা সমঝোতা নচেত্ চরম জটিলতা
গণতন্ত্রের সরল অর্থ হলো জনস্বার্থে সমঝোতা, বোঝাপড়া, আলোচনা ও সর্বাত্মক ছাড় দেয়া। যখন এগুলো গণতন্ত্রের প্রতিটি স্তরে স্তরে পালন করা হচ্ছে তখন বুঝতে হবে গণতন্ত্র আপন পথে নিয়মনীতিতে চলছে। রাজনীতিতে সমঝোতা অতি সম্ভব যদি রাজনীতিবিদরা জনগণের কথা মাথায় রেখে রাজনীতি করে। সর্বাত্মক ছাড় দেয়া আরো সহজ যদি বিষয়টিতে জনস্বার্থ লুকিয়ে থাকে। বর্তমান রাজনীতিবিদরা কেমন গণতন্ত্রের চর্চা করেন যে, গণতন্ত্রের একটি বিষয় সমাধান করতে পাঁচটি বছর পার করলেও সমঝোতার আকাশে অনৈক্যের মেঘ দূর করে জাতিকে আলোর ফোয়ারা দেখাতে পারল না । জনগণের বুঝতে বাকি নেই যে, দেশ চলছে ওষ্ঠচর্চার গণতন্ত্রে। ফলে দেশের গতি চরম জটিলতার দিকে মোড় নিচ্ছে। জনগণ নিরাশায় হাবুডুবু খাচ্ছে। তাই কালক্ষেপণ না করে রাজনীতিবিদদের এখনই প্রকৃত গণতন্ত্রীমনা হয়ে সমঝোতায় বসে চলমান সমস্যা দূর করে ওয়ান ইলেভেনের মতো গণতন্ত্র বিধ্বংসী সুনামির মরণদশা থেকে দেশকে রক্ষা করুন।
মুছা বিন মোহাম্মদ,
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ,
(৪র্থ বর্ষ), শহীদ সোহ্রাওয়ার্দী হল,
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
সমঝোতা না হলে দেশে অস্থিরতা বৃদ্ধি পাবে
বর্তমানে জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে দেশে বিভিন্ন রকম অস্থিরতা বিরাজ করছে তাদের মধ্যে অন্যতম হলো গার্মেন্টস খাতে শ্রমিকের বেতন বৃদ্ধির জন্য আন্দোলন, ছাত্রদের তাণ্ডব জামায়াত ইসলাম ও ছাত্র শিবিরের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য হরতাল, অবরোধের মতো কঠোর কর্মসূচি, রামপালে তাপ বিদ্যুত্ কেন্দ্র নির্মাণ নিয়ে বিভিন্ন সংগঠনের আন্দোলন এবং সরকারি প্রাথমিক শিক্ষকদের ৭ দফা দাবি। তার উপর আওয়ামী লীগ ও বিএনপির আপসহীন বক্তব্য। কেউ যেন কাউকে ছাড়া দিতে রাজি নয়। এসব দিক পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অবস্থা শঙ্কিত। সাধারণ মানুষের যে প্রত্যাশা তা যেন সম্পন্ন হচ্ছে না। তাই দেশের মানুষ উদ্বিগ্ন। দেশের এমন পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মনে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে আশংকা রয়েছে। এসব সমাধানের একমাত্র সঠিক উপায় হলো প্রত্যক দল কিছুটা ছাড় দিয়ে সমঝোতার মাধ্যমে নির্বাচনের সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা। যদি সমঝোতার মাধ্যমে নির্বাচনের পথে চলা যায় তবে দেশ থেকে অশান্তির ঝড় অব্যাহত থাকবে। দেশে শান্তিময় পরিবেশে নির্বাচন হবে। আর যদি তা না হয় তবে দেশের পরিস্থিতি অনেক খারাপ হবে। একদল অন্য দলের উপর হামলা চালাবে। এতে প্রতিটি রাজনৈতিক দল নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় লিপ্ত থাকবে, দেশের অস্থিরতা বৃদ্ধি পাবে। সুতরাং আমরা রাজনীতির আকাশে কালো মেঘের প্রত্যাশা করি না। আমরা চাই সোনালী সূর্যের আলোয় সমস্ত পৃথিবী আলোকিত হবে। ফুলের মতো মিষ্টি হাসি সকল মানুষের মুখে থাকবে।
মো. আব্দুর রহমান সুমন
সরকারি তোলারাম কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়
বিএসএস, নারায়ণগঞ্জ, সারাদেশ ফোরাম, সদস্য নং-২৪৩
সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে সমঝোতা না হলে দেশে ওয়ান ইলেভেনের আবির্ভাব ঘটবেবাংলাদেশের গণতন্ত্রের সবচেয়ে দুঃসময়
চলছে এখন। আর এখনো সেই প্রতিহিংসার রাজনীতিই চলছে। বর্তমান সরকারি দল ও বিরোধী দলের মধ্যে এখনও সেই একই মনোভাব বিরাজ করছে। দুই দলের মধ্যে সমঝোতার কোন সম্ভাবনা নেই এখন। এক দল আরেক দলকে দোষারোপ করছে, অন্যদিকে তাদের ক্রোধানলে পড়ে পিষ্ট হচ্ছে সাধারণ মানুষ। দেশের প্রধান দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকে আগামী রাজনীতি ও দেশের কথা চিন্তা করে হলেও তাদের সমঝোতায় বসা উচিত। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এভাবে চলতে থাকে তাহলে ওয়ান ইলেভেনের মত পরিস্থিতির আসাটা অস্বাভাবিক না। দেশের এই ক্রান্তিকালে প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের কার্যকরি ভূমিকা প্রদর্শন করতে হবে, অন্যথায় এদেশে ওয়ান ইলেভেনের মত পরিস্থিতির আবির্ভাব ঘটবে।
রাজীব কুন্ডু,
অনার্স ৩য় বর্ষ, ইতিহাস বিভাগ,
ঢাকা কলেজ, ঢাকা
ওয়ান ইলেভেনের সম্ভাবনা থাকলেও সমঝোতার মাধ্যমে তা প্রতিহত করা সম্ভব
প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের মধ্যকার
সম্পর্কটা এ বছর বেশ উন্নত হয়েছে। তবে সেটা নেতিবাচক উন্নতি। উভয় দলের মধ্যকার বিরূপ সম্পর্ক যখন এতটা ছিল না, তখনও বেশ অনেকবার সমঝোতায় বসা হয়েছিল। কিন্তু উল্লেখযোগ্য কোন ফলাফল লক্ষ্য করা যায়নি। উভয় দলের সম্পর্কটা সাপ-বেজীর সাথে তুলনা করাটা অত্যন্ত যৌক্তিক। তাই বর্তমান ওয়ান ইলেভেনকে প্রতিরোধ করার বহু উপায় খুঁজতে হবে।
মো. কে, আর, শামীম
ট্রেড: সিভিল ইঞ্জি:,
পটুয়াখালী পলিটেকনিক ইনিস্টিটিউট,
পটুয়াখালী
