[ সা ম্প্র তি ক ]

জ্ঞানচর্চার প্রতিষ্ঠানে এখন জিম্মিচর্চা

আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০১৩, ২০:৩৮
তের-চৌদ্দ বছর আগের কথা। এক শীতে আমরা পারিবারিক ভ্রমণে কক্সবাজার গিয়েছিলাম। কিন্তু সেখানে এক সকালে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের মাথায় বাজ পড়লো। চট্টগ্রাম কক্সবাজারের পথে এক জ্বালানি তেলবাহী লড়ি কয়েকজন মানুষকে চাপা দিয়েছিল। তাই ট্রাক ড্রাইভারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই কারণে তেলবাহী গাড়িগুলোর ড্রাইভার সমিতি ধর্মঘট ডেকেছে। তাই সকল পেট্রোলপাম্পে তেল সরবরাহ বন্ধ। পর্যটকদের বহন করা গাড়িগুলো অচল হয়ে পড়লো। কক্সবাজার থেকে কেউ বেরুতে পারছেন না। অনেকের ছুটি ফুরিয়ে গেছে। অনেকের ফুরিয়ে গেছে টাকা। কেউ কেউ টেকনাফ সেন্টমার্টিন যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। স্থানীয় প্রশাসনও খুব সহায়তা করতে পারছে না। নিজে ভুক্তভোগী হয়ে বুঝতে পেরেছিলাম যুক্তিহীন আন্দোলন প্রতিবাদ কতটা বিপদগ্রস্ত করে তোলে মানুষকে। অপরাধ করলেও শক্তির সংঘবদ্ধতার কারণে প্রশাসন ও সাধারণ মানুষ কী অসহায়ভাবে জিম্মি হয়ে পড়ে। শুনলাম ড্রাইভারকে দ্রুত মুক্তি দিয়েই সংকট থেকে বাঁচতে হয়েছিল। এই ধরনের অপশক্তির প্রয়োগ থেকে আমরা সাধারণত মুক্তি পাই না। এই তো গত ২৩ সেপ্টেম্বর টিভি স্ক্রলে দেখলাম সিতাকুণ্ডে বাস চাপায় মানুষ নিহত হলে বিক্ষুব্ধ হয়ে বাস পুড়িয়ে দিয়েছে জনতা। এর প্রতিবাদে বাস মালিকরা সারাদেশে বাস ধর্মঘট ডেকেছে। অথচ এর ক’দিন আগেই হরতাল সূত্রে পিকেটাররা গাড়ি পোড়াচ্ছে, ড্রাইভারকে পুড়িয়ে মারছে। অথচ এর প্রতিবাদে মালিক বা ড্রাইভার সমিতি কর্মসূচি নিচ্ছে না। আসলে সব কিছুর ভেতরেই নষ্ট রাজনীতির দাপুটে অবস্থান। আমরা দেখে এসেছি যানবাহন, শিল্প কারখানা বা ঘাটশ্রমিক অসন্তোষে প্রায়ই জনস্বার্থ লঙ্ঘিত হয়। জিম্মি দশায় পড়ে সাধারণ মানুষ। কিন্তু দুর্ভাগ্য আমাদের সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠগুলোতে ছাত্র শিক্ষক যাদের প্রধানত জ্ঞান চর্চায় যুক্ত থাকার কথা, ব্যক্তি ও গোষ্ঠী স্বার্থ না দেখে প্রতিষ্ঠান ও দেশের স্বার্থ রক্ষায় প্রতিবাদ করার কথা, তাদের একটি অংশ আসুরিক দাপট দেখাচ্ছেন ব্যক্তি ও গোষ্ঠী স্বার্থ রক্ষার জন্য। নিজ স্বার্থের অনুকূলে দাবি আদায় করতে জিম্মি নাটক সাজাচ্ছেন। নানা কৌশলে ভীতি প্রদর্শন করছেন। ন্যায়-অন্যায় বাছবিচার করছেন না। ঘাড়ে বন্দুক রেখেই দাবি আদায়ের জন্য মাঠ গরম করছেন। আমি নিজেই একসময় আমার নিজের ভূমিকা নিয়ে মনে মনে বিব্রত হয়েছি। বামপন্থী প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনের ছাত্ররা বরাবর নানা ইস্যুতে ক্যাম্পাসে আন্দোলন শানিয়ে থাকে। পাকিস্তান আমল থেকে সাধারণ সচেতন মানুষ বাম সংগঠনসমূহের আদর্শিক অবস্থানকে পছন্দ করতো। কিন্তু পরবর্তী সময়ে বাম দলগুলো সম্ভববত নিজেদের আদর্শিক জায়গাগুলোকে ধরে রাখতে পারেনি। কেমন যেন সময়ের সাথে সাথে প্রয়োজন ও বাস্তবতায় স্থিতি স্থাপকতা হারিয়ে অনেকটা ফর্মূলায় বন্দি হয়ে যায়। এভাবে জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পরে। ছাত্র সংগঠনগুলোর অবস্থানেও একই ধরনের দুর্বলতা প্রকাশ্য হয়ে পরে। এ কারণে আমি বাম সংগঠনের ছাত্রদের অনেকবার বলেছি যে, তোমাদের ক্যাম্পাস রাজনীতিতে বড় বড় ভাবনার পাশাপাশি ছাত্র কল্যাণের বিষয়গুলো যুক্ত হওয়া উচিত। বলতাম, আমি একদিন তোমাদের মিছিলে সামিল হতে চাই। যেদিন তোমাদের শ্লে¬াগান হবে, ‘লাইব্রেবির বাজেট বাড়াতে হবে’ ‘শিক্ষকদের নিয়মিত ক্লাস-পরীক্ষা নিতে হবে’। কিন্তু এমন হিতোপদেশের জন্য শিক্ষক হিসেবে এখন নিজে বিব্রত বোধ করি। কারণ এখন নিজেদের ছিদ্রের অভাব দেখি না। ছাত্রের ছিদ্রের অন্বেষণ করি কোন নৈতিক জোরে! যখন দেখি কোনো কোনো শিক্ষক অর্পিত ক্লাস ফাঁকি দেয়ার বিশাল স্বাধীনতা ভোগ করেন। শিক্ষক রাজনীতি করার মহান দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে শিক্ষা ও গবেষণার সময় অনেক বেশি খণ্ডিত করে ফেলেন। নিজেদের দলীয় স্বার্থ রক্ষা বা সুবিধা অর্জন করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ বিপন্ন করে তোলেন—নষ্ট করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি। রাজনীতি অঞ্চলের ছাত্ররা গুরুদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে সংকটের ষোলকলা পূর্ণ করেন। সবচেয়ে লজ্জাজনক হয়ে উঠেছে সাম্প্রতিক সময়ে। কোনো নৈতিক ভিত্তিতে বিস্ফোরিত প্রশাসন বিরোধী শিক্ষক আন্দোলনে মানববন্ধন, অবরোধ, কিছু সময় ক্লাস বর্জন ইত্যাদি কর্মসূচি নেয়াটা পুরোনো। এসব আন্দোলনে একটি আদর্শিক ভিত্তি থাকে বলে আন্দোলনগুলোয় ক্যাম্পাস পরিবারের অধিকাংশের সমর্থন থাকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ধারণার সাথে মুক্ত বিবেকের অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার এসব ভূমিকা বৃহত্তর কল্যাণের স্বার্থে বলে সকলে মেনে নেন। কিন্তু কোনো গোষ্ঠী যখন সংকীর্ণ স্বার্থ সিদ্ধির জন্য প্রশাসন, প্রশাসন পরিচালক, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অধিকার ক্ষুণ্ন করে শিক্ষা, গবেষণা ও স্বাভাবিক সুস্থ পরিবেশ লাঞ্ছিত করে তখন একে ছাত্র রাজনীতির দুর্বৃত্ত আচরণের চেয়ে খুব বেশি আলাদা করা যায় না। কিন্তু বড় দুঃসময় যাচ্ছে আমাদের শিক্ষা-দীক্ষা ও ব্যক্তিক অবস্থান ভুলে যাওয়া শিক্ষক রাজনীতির কোনো কোনো গোষ্ঠীর আচরণে। এসব স্খলন দেখে একটি অন্ধকার ভবিষ্যতের অশণি সংকেত স্পষ্ট হচ্ছে। স্বার্থ আদায়ের জন্য কথায় কথায় জিম্মি করে ফেলছি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, সহ-উপাচার্য থেকে রেজিস্ট্রাররা পর্যন্ত। ক্লাস পরীক্ষা বন্ধ করে দিচ্ছি শিক্ষার্থীদের, একাডেমিক কাউন্সিল, সিন্ডিকেট বসতে না দিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও গবেষণার পথ আধাগ্রস্ত করার মত আচরণ এখন ক্রমে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এক সময় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো চাইতো শিক্ষা গবেষণায় নিজেদের ঔজ্জ্বল্য বৃদ্ধি করে বিশ্ব রেটিংয়ে নিজ প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে নেয়া। এখন বৈশ্বিক চিন্তাটি হারিয়ে গেছে। এমন কি নিজ দেশে নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রভা হারাতে থাকলেও স্বার্থবাদী শিক্ষক রাজনীতির এতে কিছু এসে-যায় না। নিজেদের ঈর্ষা, লোভ আর স্বার্থটাই বড় হয়ে দেখা দেয়। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে এধারার আন্দোলন নামীয় বস্তুর রকমফেরও আছে। তবে সব কিছুর পেছনে নষ্ট রাজনীতির ভূমিকাই প্রধান। ক্ষমতাসীনদের রাজনৈতিক শক্তি প্রধান থাকে বলেই গোষ্ঠী স্বার্থে নানা কর্ম-অপকর্ম হয়। এক সময় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কোনো রকম নিয়মনীতি না মেনে শত শত শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী নিয়োগ দিয়ে আলোড়ন তুলেছিল। এসব নিয়োগ বৈধতা না পেলে পরবর্তী সময় নিয়োগ বাতিল হয়। প্রতিক্রিয়ায় শুরু হয় অরাজকতা। আদালত গড়িয়ে ঝুলে যায় বিষয়টি। যারা চাকরি পেয়েছিলেন তাদের প্রতি সহানুভূতি রেখেই বলবো সব কিছুই হওয়া উচিত সুষ্ঠু ও আইনানুগ প্রক্রিয়ায়। কিন্তু এই নৈতিক প্রশ্নটি আন্দোলনকারীদের কাছে কখনো বড় হয় না। ‘অধিকার’ পাওয়ার একপেশে দিকটিই প্রাধান্য পায়। অথচ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় দুই-তিন বছর বা আরো বেশি সেসনজট নিয়ে লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থীর জীবন বিপর্যস্ত করে ফেলেছে। এ ব্যাপারে কোনো প্রতিবাদী বক্তব্য নেই। সম্প্রতি বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সংকটও অভিন্ন। আগের উপাচার্য ক্ষমতা প্রয়োগ করে নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে তিন শতাধিক শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছিলেন। বৈধতা পায়নি বলে নতুন উপাচার্যের সময় বাজেট বরাদ্দ না থাকায় নিয়োগ প্রাপ্তদের বেতন ভাতা বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু পড়বি তো পড় মালির ঘাড়ে। বর্তমান উপাচার্য এই অবৈধ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় না থাকলেও তাকেই লিগ্যাসি বহন করতে হয়। বেতন ভাতার দাবিদারদের আন্দোলনের মুখোমুখি হতে হয় তাকেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘মুক্ত বিবেক’ অবৈধ নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন না তুললেও বা বিশেষ ‘অধিকার’ পাওয়ার জন্য ইউজিসি এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় ঘেরাও না করলেও আক্রমণ করা হলো উপাচার্য মহোদয়কেই। কতটা অসংস্কৃত হয়ে গেছে তথাকথিত অধিকারের আন্দোলন যে, ভিসি মহোদয়কে তার অফিস কক্ষে ৫ দিন অবরুদ্ধ করে রাখা হলো। অর্থাত্ তিনি জিম্মি দশায় কাটালেন। এক ধরনের ঘাড়ে বন্দুক রেখে দাবি আদায়ের স্থূল আচরণ করা এখন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রায় সংক্রামক রোগে পরিণত হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সরকারের আচরণ দেখবার মত। যৌক্তিক অধিকার আদায়ে স্কুল শিক্ষকরা রাজপথে নামলে তাদের পুলিশপেটা করা হয়, আর সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে নৈরাজ্য তৈরি করা হলেও দেয়ালে পিঠ ঠেকার আগ পর্যন্ত সরকার নির্লিপ্ত থাকে। ব্যক্তি উপাচার্য অসহায়ের মত লাঞ্ছিত হন। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হন সিন্ডিকেট ডেকে বেতন ভাতার ব্যবস্থা করতে। একারণে হয়তো ভিসি মহোদয়কে সরকারের কাছে আরেক বার জবাবদিহি করতে হবে। আর দাবি আদায়ের এই অমানবিক অদ্ভুত অস্ত্রটি দেখে হয়তো উদ্বুদ্ধ হবেন আরেক বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতির শিক্ষকরা। সম্প্রতি আরেকটি খবর এলো। ছাত্রলীগ তালা দিয়েছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি-প্রভিসি মহোদয়দের কার্যালয়ে। কারণ তাদের আব্দার দাবিতে পরিণত হয়েছে। যেহেতু তারা সরকারি দলের ছাত্র তাই তাদের এই বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি দিতে হবে। চাকরি বিধিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে যা থাক না কেন ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রদের চাওয়াটাই বড় কথা। সুতরাং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত হবে। সরকার বরাবর নির্লিপ্ত থাকবে। আবার শিক্ষাগুরুদের মত তারাও ঘাড়ে বন্দুক রাখবে। জিম্মি করবে বিধায়কদের। এভাবে দাবিও হয়তো আদায় হয়ে যাবে। আর এটি হয়ে যাবে একটি উদাহরণ। আজকের প্রসঙ্গে ইচ্ছে ছিল না জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক কাণ্ডের অবতারণা করি। কিন্তু তাতে পাঠক অসম্পূর্ণতা খুঁজে পেতেন। আমার অবশ্য মন থেকে আর চায় না এই বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনের নামে অরুচিকর বিষয় নিয়ে লিখি। ‘আন্দোলনকারী’ শিক্ষকদের ক্ষুব্ধতা কুড়াতেও ইচ্ছে হয় না। যেখানেই যা সকলের একই প্রশ্নের উত্তর দিতে আর ভালো লাগে না। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও শিক্ষক দুটো পরিচয় থাকার কারণে আরো বিব্রত হতে হয়। ইতোমধ্যে সচেতন পাঠক জেনে গেছেন ‘আন্দোলন’ নামের ঘটনার অন্তরের ও বহিরাঙ্গের সকল বিষয়-আশয়। সচেতন অনেকেই বলেন আন্দোলনকারীদের যেসব দাবিনামা তাতে একজন নির্বাচিত ভিসির পদত্যাগ চাওয়া বা অবাঞ্ছিক ঘোষণা করার শক্তি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তা ছাড়া শুধু এর আগে আন্দোলনের মুখে পদত্যাগী ভিসির অনুগত শিক্ষকরাই এবারের আন্দোলন শুরু করেছিল। পরে রাজনৈতিক সুবিধা নেয়ার জন্য জাতীয়তাবাদী শিক্ষকরাও যুক্ত হন। এর বাইরে গোটা পাঁচেক শিক্ষক গ্রুপ, সাধারণ শিক্ষক এবং ছাত্র-ছাত্রীদের কোনো সংগঠন এই আন্দোলনের সাথে নিজেদের যুক্ত করেনি। তারপরও এক ধরনের পেশী শক্তি ব্যবহার করতে পিছপা হলেন না আন্দোলকারী শিক্ষকরা। চারদিন অফিস কক্ষে জিম্মি করে রাখলেন ভিসি মহোদয়কে। রেজিস্ট্রার, উপ-রেজিস্ট্রাররা জিম্মি হয়ে অফিস কক্ষে আটকা রইলেন প্রায় আট দিন। রুদ্ধ করা হলো শিক্ষা গবেষণার স্বাভাবিক ধারা। এভাবে স্বার্থবাদী আন্দোলনের মধ্যদিয়ে শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ক্ষতি করা হলো না, দারুণভাবে ভূলুণ্ঠিত হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি। আমরা মনে করি দেশের বিবেকবান মানুষ এবং সরকার পক্ষকে দলমতের উর্ধ্বে উঠে এই নষ্ট ব্যাধির নিরাময় নিয়ে ভাবতে হবে। ছাত্র-রাজনীতির চেয়ে এখন ক্রমে ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে শিক্ষক রাজনীতি। স্বার্থ আদায়ের জন্য জিম্মি করার গাঁড়ল সংস্কৃতির সংক্রমণ যেভাবে ঘটছে এ থেকে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মুক্তি পাবে না। এভাবে মুখ থুবড়ে পড়বে দেশের উচ্চশিক্ষা বিকাশের ধারা। দেশের মর্যাদার প্রশ্নও এর সাথে জড়িত। তাই সমস্ত সংকীর্ণতা ঝেড়ে সকল পক্ষের এখনই বাস্তবতার উঠোনে নেমে আসা উচিত। মনে রাখতে হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মান ও পরিবেশে এভাবে ক্যান্সারের প্রাদুর্ভাব ঘটলে তাকে আস্থার জায়গায় ফিরিয়ে আনা কঠিন হবে। লেখক: অধ্যাপক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন