প্রশাসন ক্ষমতাসীনদের অধীনে নয়, ক্ষমতাসীনরাই প্রশাসনের অধীনে
বাংলাদেশের মত উন্নয়নশীল দেশের প্রশাসনকে স্বাধীনভাবে প্রশাসনিক কাজ পরিচালনা করতে হবে নতুবা দেশের উন্নয়নের চাকা সচল রাখা সম্ভব হবে না। আর প্রশাসন যদি দলীয় ক্ষমতা পরিবর্তনের সাথে সাথে ক্ষমতাসীনদের আজ্ঞাবহ হয় তবে তা হবে দেশের অমঙ্গলজনক। প্রশাসনকে দল ও মতের ঊর্ধ্বে থেকে তদের উপর অর্পিত রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের প্রতি যত্নবান ও দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট হতে হবে। এছাড়া প্রশাসন তাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পালন করলে কোন ক্ষমতাসীন দলের ছত্রচ্ছায়ায় আশ্রয়ের বিষয়ে তাদের ভাবতে হবে না বরং ক্ষমতাসীন দলই রাজনৈতিক দল হিসাবে জনগণের দাবি কতটুকু পূরণ করতে পেরেছে সে বিষয়ে উদ্বিগ্ন থাকবে এবং জনগণ তাদের নির্বাচিত সরকার ও প্রশাসন কর্তৃক নাগরিক হিসাবে রাষ্ট্রীয় সুফল পেতে থাকবে। সুতরাং আমাদের একটাই চাওয়া তা হল- প্রশাসন ক্ষমতাসীনদের অধীনে থাকবে, না ক্ষমতাসীনরাই প্রশাসনের অধীনে থাকবে।
মো. ইয়াছিন উদ্দিন
বিএসসি অনার্স ৩য় বর্ষ
ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ,
সরকারি শহীদ সোহ্রাওয়ার্দী কলেজ,
ঢাকা
০০০০০০
প্রশাসনে সত্য ও ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা পাওয়া উচিত
প্রশাসন দেশের অত্যন্ত গুরত্বপূর্ণ অংশ। নিয়োগ প্রক্রিয়া বলুন, পড়ালেখার মান নিয়ন্ত্রণ বলুন, বিচারকার্য বলুন সবই প্রশাসনের হাতে। প্রশাসনে সঠিক, সত্য ও ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা পাওয়া উচিত। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যোগ্য ব্যক্তিকেই নিয়োগ দেয়া উচিত, বিচারকার্যে প্রকৃত অপরাধীকেই শাস্তি দেয়া উচিত। সিদ্ধান্ত যদি সঠিক হয় তবে তা ক্ষমতাসীন গ্রহণ করল না বিরোধী দলের অভিমত তা দেখার বিষয় নয়। আমাদের দেশের উন্নতির প্রয়োজন। আর এজন্য প্রয়োজন প্রশাসনের সঠিক ব্যবহার। প্রশাসন আইন তৈরি করে। তাই এমন কোন আইন তৈরি করা উচিত নয় যার ভিত্তি নেই এবং যা অমূলক। প্রশাসন পক্ষপাতিত্ব করলে শুধুমাত্র ক্ষমতাসীনরাই লাভবান হবে আর অন্য দলের যদি ভাল কেউ থেকেও থাকে তবে সে বিভিন্ন নিয়োগ প্রক্রিয়া বা অন্যান্য সুবিধা হতে বঞ্চিত থেকে যাবে। আমাদের দেশ একটি গণতান্ত্রিক দেশ। তাই এদেশে জনগণের সুযোগ-সুবিধার কথা বিবেচনা করে প্রশাসন ও ক্ষমতাসীনরা হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করবে-এই প্রত্যাশা।
খন্দকার আরাফাত আহমেদ
ডিগ্রী প্রাইভেট (বিএস এস ২য় বর্ষ)
সরকারি বাঙলা কলেজ
০০০০০০
জনগণের কল্যাণের জন্য প্রত্যেকটি কাজে ক্ষমতাসীনদের প্রতি প্রশাসনের আজ্ঞাবহ থাকা উচিত
প্রশাসনের কি ক্ষমতাসীনদের আজ্ঞাবহ হওয়া উচিত? হ্যাঁ বলতে হবে আবার না বলতে হবে। এখন বুঝতে হবে কেন হ্যাঁ। এই জন্য যে ক্ষমতায় যারা বসেন আছেন তাদেরকে জনগণ ক্ষমতায় বসিয়েছে দেশের মঙ্গলের জন্য, আর ক্ষমতাসীনদের আদেশ পালনের জন্য প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেয়া হয়েছে। সেই নিয়োগের উদ্দেশ্য হচ্ছে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য প্রশাসনের একটি বড় ভূমিকা থাকা। ক্ষমতাসীনদের আজ্ঞাবহ হওয়া উচিত প্রশাসনের ততক্ষণ যতক্ষণ দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায়ের আদেশ থাকবে এবং শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে ক্ষমতাসীনরা আন্তরিকতা নিয়ে চেষ্টা করবে। স্থান কাল পাত্র ভেদে জনগণের কল্যাণের জন্য অবস্থানুযায়ী প্রত্যকটি কাজে ক্ষমতাসীনদের প্রতি প্রশাসনের আজ্ঞাবহ থাকা উচিত। আজ্ঞাবহ, যেটাকে আমরা আনুগত্যও বলতে পারি। আনুগত্যের ফলে অনেক বড় বড় কাজ সম্পন্ন হয়। সেই আনুগত্য বা আজ্ঞাবহ যদি জনগণের অমঙ্গল বয়ে আনে সেই ধরনের আজ্ঞাবহ না থাকাই উচিত ক্ষমতাসীনদের প্রতি প্রশাসনের।
মোহাম্মদ এহিয়া,
মিরপুর ল কলেজ, মিরপুর,
ঢাকা
০০০০
প্রশাসন ক্ষমতাসীনদের আজ্ঞাবহ হওয়া উচিত নয়
প্রশাসন চলা উচিত দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী। কিন্তু আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো যখনই ক্ষমতায় আসে, তখনই প্রশাসনের উপর দলীয়করণ শুরু হয়। অন্যদিকে প্রশাসনেরও কিছু সংখ্যক লোক নিজস্ব পদোন্নতি বা নিজস্ব ফায়দা হাসিলের জন্য দলীয় প্রভাব প্রয়োগ করে থাকেন। আমাদের দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে আমরা দেখে এসেছি রাজনৈতিক দলগুলো যখনই ক্ষমতায় আসে, তখনই প্রশাসনের লোকগুলো দেশের প্রচলিত আইন অমান্য করে ক্ষমতাসীনদের নির্দেশগুলো মানতে বাধ্য থাকেন সেই পদে বহাল থাকার জন্য। দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে যদি প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো সমঝোতায় পৌঁছতে না পারে তাহলে প্রশাসন দেশের প্রচলিত আইন মেনে চলতে চাইলেও তা সম্ভব হয়ে উঠবে না, বরং তারা ক্ষমতাসীনদেরই আজ্ঞাবহ হয়ে যাবে প্রচলিত আইন ভেঙে।
তাওফিক আহমেদ (তুহিন)
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ইচ্ছুক
