আলোকপাত

অন্ধ হলেও প্রলয় বন্ধ হয় না

আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০১৩, ২১:২৩
আমাদের প্রিয় স্বদেশ বাংলাদেশ এখন না রাজনীতি, না সমাজনীতি, না অর্থনীতির দেশ। রাজনীতি নেই রাজনীতিতে, সমাজনীতি নেই সমাজনীতিতে, অর্থনীতি নেই অর্থনীতিতে। সব কিছুই এখন দুষ্টচক্রে বন্দী। অথচ দেশ আছে, রাষ্ট্র আছে, দেশের মানুষ আছে। রাজনীতির কাছে, সমাজনীতির কাছে, অর্থনীতির কাছে দেশের মানুষের চাওয়া পাওয়া আছে। কিন্তু সে প্রত্যাশা পূরণের কোনো সুযোগ নেই। প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির ব্যবধান আকাশচুম্বী। রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজনীতি সঠিক খাতে প্রবাহিত না হওয়ার কারণে সব কিছুতেই চরম বিশৃঙ্খলা ও নৈরাজ্য চলছে। হিসেব মিলছে না কোনো কিছুতেই। রক্তনদীর উজান বেয়ে ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছিলাম। বিজয় অর্জন করেছিলাম। বাংলাদেশই একমাত্র দেশ, যে দেশের স্বাধীনতা দিবস আছে, আবার বিজয় দিবসও আছে। মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত এই স্বাধীন দেশে দাঁড়িয়ে আমাদের স্বপ্ন ছিলো জনগণের চোখের তারার স্বপ্নপূরণের। অথচ সে স্বপ্ন আজও পূরণ হয়নি। দেশে প্রান্তিক, হতদরিদ্র মানুষের সংখ্যা রীতিমতো উদ্বেগজনক। তাদের মৌলিক চাহিদা পূরণের জন্যে রাষ্ট্র বা সরকারের পক্ষ থেকে যথেষ্ট উদ্যোগ আছে বলে মনে হচ্ছে না। দিনে দিনে অনুত্পাদনশীল খাতে ব্যয় বাড়ছে, উত্পাদনশীল খাতে ব্যয় কমছে। মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়লেও আয় বাড়ছে না। বেকার সমস্যা দিনে দিনে ঘনীভূত হচ্ছে। কর্মসংস্থানের নামে ছদ্মবেকারের সংখ্যা বাড়ছে। বেকার সমস্যা সমাধানে রাষ্ট্র ও সরকারের পক্ষ কার্যকর কোনো উদ্যোগই পরিলক্ষিত হচ্ছে না। জনসংখ্যাকে আমরা কোনো ভাবেই জনশক্তিতে রূপান্তরিত করতে পারছি না। দ্রব্যমূল্যের ক্রমাগত ঊর্ধ্বগতির প্রেক্ষাপটে মুদ্রাস্ফীতি বাড়ছে। রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরে কোনো গণতন্ত্র নেই, রাজনীতির নামে দুর্বৃত্তায়ন চলছে। রাজনৈতিক দলগুলো আদর্শ দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে না। রাজনৈতিক সহিংসতা বাড়ছে, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা বাড়ছে। সরকারি ও বিরোধী দল কোনটাই তাদের নামের প্রতি সুবিচার করছে না। রাজনীতির নামে খুন, হত্যা, জেল-জুলুম, হুলিয়া বেড়েই চলছে। বিগত কিছুদিনের তুলনায় বর্তমানে হরতাল কম হলেও শোনা যাচ্ছে ঈদুল আজহার পর বিরোধী দল কঠোর কর্মসূচি দেবে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিপূরণ না হলে বিরোধী দল লাগাতার হরতাল দেয়ার ঘোষণাও দিয়েছে। আমরা বুঝি না যে, সরকারি দল ক্ষমতায় থেকে নির্বাচন দিলে বিরোধী দল তা মেনে নেবে তা সরকারি দল ভাবে কী করে? এদেশে আওয়ামী লীগ বা বিএনপি কেউ কাউকে বিশ্বাস করে না। বিশ্বাস করার কারণও নেই। আর তাই তত্ত্বাবধায়ক সরকার নামে না হোক নির্দলীয় নিরপেক্ষ নির্বাচনকালীন সরকার প্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প এদেশে এখন নেই। কাজেই সরকারের উচিত হবে ‘নির্দলীয় নিরপেক্ষ নির্বাচনকালীন সরকারের’ অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন দিয়ে দেয়া। আমাদের রাজনীতি যায়তো উত্তরে, অর্থনীতি যায় দক্ষিণে, সমাজনীতি যায় পূর্বে আর সংস্কৃতি যায় পশ্চিমে। অথচ এগুলো একদিকেই যাওয়ার কথা ছিলো। ‘কেউ কথা রাখেনি’ এগুলোও বা কথা রাখবে কেন? কিন্তু এ ভাবনাতো আর উড়িয়ে দেয়া যায় না। ‘অন্ধ হলেও প্রলয় বন্ধ হয় না।’ লেখক :কবি, প্রাবন্ধিক

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন