প্রথম দলে জায়গা পান সাকিব আল হাসানের বদলী হিসাবে। শ্রীলংকা সফরে টেস্ট খেলতে নেমে গেলেন। নির্বাচকদের হতাশ না করে চট্টগ্রাম টেস্টের আগে তিন টেস্ট খেলা মমিনুল হক দুটি হাফ সেঞ্চুরিসহ করলেন ২০৮ রান। এরপরও দলে জায়গাটা ঠিক পাকা হল না। চট্টগ্রাম টেস্টের আগেও দলে জায়গা নিয়ে নাঈম ইসলামের সাথে লড়াই করতে হয়েছে। তবে এবার সুযোগ পেয়েই নিজের জাত চেনালেন মমিনুল। গড়লেন বাংলাদেশ ক্রিকেটের ইতিহাসে মনে রাখার মতো একটা ইনিংস। টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের হয়ে তৃতীয় সর্বোচ্চ রান করার পর তাই মোমিনুলের শহর কক্সবাজার ভাসছে গৌরবের উল্লাসে।
গতকাল কক্সবাজারে মোমিনুলের অনন্য কীর্তির পরই শুরু হয় আনন্দ উল্লাস। শহরের বিভিন্ন গলিতে উত্সাহী কিশোর-যুবকরা মোমিনুলের ছবি নিয়ে মিছিল বের করে।
মমিনুল হক সৌরভের বাড়ি কক্সবাজার শহরের বৈদ্যঘোনায়। বাবা নাজমুল হক একজন চাকরিজীবী, মা মালেকা জয়নাব অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। তিনি দীর্ঘদিন ধরে প্যারালাইসিস রোগে আক্রান্ত। তাকে প্রায়শ থাকতে হয় শয্যাশায়ী হয়ে। কিন্তু ছেলের খেলা দেখতে গত ২ দিন ধরে দীর্ঘক্ষণ তিনি হুইল চেয়ারেই বসে কাটান। আর আল্লাহর কাছে দোয়া করেন ছেলের জন্য। সাথে ছিলেন বাবাও। মা-বাবার সৌরভের খেলা দেখতে গত দুইদিন কক্সবাজারবাসী ছিল দারুণ উদিগ্রব। আর ১৮১ রানের ইনিংস খেলার পর আদরের ছেলে ‘সৌরভ’-কে নিয়ে গর্বিত তার মা-বাবা।
মমিনুলের খেলা সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে তার মা মালেকা জয়নাব জানান, ছেলে সৌরভ (মমিনুল) যখন ব্যাট করছিল, তখন তার খুব আনন্দ হচ্ছিল। তিনি তখন কেবল দোয়া পড়ছিলেন। ১৯ রানের জন্য একটি রেকর্ড মিস করায় তার মনটা একটু খারাপ হয়েছে। তবে সার্বিক পারফর্মেন্সে তারা বেশ খুশি বলে জানান।
মা মালেকা জয়নাব ও বাবা নাজমুল হক তাদের সন্তানের জন্য সবার দোয়া চেয়ে বলেন, সৌরভ শুধু আমাদের সন্তান নয়, পুরো কক্সবাজারবাসীর সন্তান, সমস্ত দেশবাসীর সন্তান।
মমুিলের বাবা জানান, ছোটকাল থেকেই ক্রিকেটের প্রতি তার ছেলের বেশ ঝোঁক ছিল। ২০০২ সালের শেষদিকে কক্সবাজার স্টেডিয়ামে খেলার সময় বিকেএসপির প্রশিক্ষক নাজিমের নজরে পড়লে তার পরামর্শে সৌরভকে বিকেএসপিতে ভর্তি করানো হয়। কক্সবাজার জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জসিমউদ্দিন জানান, মমিনুলের খেলা দেখতে গত দুইদিন টিভি সেটের সামনে হাজার হাজার মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়ে। দরিদ্র লোকজনও রাস্তার পাশে ইলেক্ট্রনিক্স দোকানের সামনে বেশ ভিড় করে আর মমিনুল রান নিলেই তালি দিয়ে তাকে ‘অভিবাদন’ জানায়।
