নবনির্মিত চুয়াডাঙ্গা স্টেডিয়ামকে ঘিরে জেলা ক্রীড়াঙ্গনে আশার সঞ্চার

আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০১৩, ২১:৫৬
বৃটিশ আমলে কলকাতা ফুটবলে সাড়া জাগানো বেশ ক’জন কৃতী ফুটবলারের জন্মভূমি চুয়াডাঙ্গার জেলা শহরে সম্প্রতি নির্মিত হয়েছে আন্তর্জাতিক মানের এক অত্যাধুনিক স্টেডিয়াম। জেলার ক্রীড়ামোদীদের ধারণা, এ স্টেডিয়ামকে ঘিরে এ অঞ্চলের ক্রীড়া চর্চায় নতুন মাত্রা যোগ হবে। ফুটবল ও ক্রিকেট খেলার উপযোগী এ স্টেডিয়ামটি নির্মিত হয়েছে জেলা শহর সংলগ্ন চুয়াডাঙ্গা-ঝিনাইদহ সড়কের পাশে। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের প্রকৌশল সেলের তত্ত্বাবধানে ১২.৩৬ একর সরকারি খাস জমির উপর এ স্টেডিয়ামটি নির্মাণে ব্যয় হয় ১৭ কোটি টাকা। স্টেডিয়ামটিতে এক হাজার সাধারণ ও সংরক্ষিত দর্শক আসন ছাড়াও তিনতলা বিশিষ্ট একটি ভিআইপি গ্যালারী নির্মিত হয়েছে। প্রকল্প প্রস্তুতি থেকে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ও একনেকের অনুমোদন পাওয়া এবং জমি বরাদ্দ নিশ্চিত করা পর্যন্ত সবকিছুতে ভূমিকা রাখেন একসময়ের ক্রীড়া সংগঠক চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সাধারণ সম্পাদক সোলায়মান হক জোয়ার্দার। নবনির্মিত স্টেডিয়ামটিকে নিয়ে চুয়াডাঙ্গার পৌর মেয়র ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সাধারণ সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দার টোটন আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, স্টেডিয়ামটি নির্মিত হওয়ায় জেলায় নতুন ক্রীড়া চর্চায় উত্সাহ-উদ্দীপনা বৃদ্ধি পাবে। জাতীয় পর্যায়ের খেলাগুলোয় বিভিন্ন প্রতিযোগিতা আয়োজনে ভেন্যু নির্বাচনের ক্ষেত্রেও এখন থেকে চুয়াডাঙ্গার দাবি জোরালো হবে। তিনি আরো বলেন, এরই মধ্যে স্টেডিয়ামকে খুলনা বিভাগীয় মহিলা ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০১৩ অনুষ্ঠানের ভেন্যু হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে বলে জানা গেছে। আগামী মাসেই এই টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হবে। জেলা ক্রীড়া সংস্থার বর্তমান সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম লাড্ডু বলেন, নবনির্মিত এ স্টেডিয়ামে জাতীয় পর্যায়ের ক্রিকেট ও ফুটবল খেলা অনুষ্ঠান করা যাবে। চুয়াডাঙ্গায় রয়েছে ক্রীড়া চর্চার দীর্ঘ ঐতিহ্য। ১৯১৭ থেকে ১৯৫২ সময়কালে কলকাতা তথা অল-ইন্ডিয়া ফুটবল টুর্নামেন্টে যেসব তারকা খেলোয়াড় অনন্য ভূমিকা রেখেছিলেন তাদের অধিকাংশেরই বাড়ি এ চুয়াডাঙ্গা জেলায়। এরা হলেন কানাই লাল, হরিদাস বৈরাগী, অনিল কুমার, নিলে বাবু, মতিয়ার মল্লিক, ডুডি জোয়ার্দার, শাহাব উদ্দিন, হাবু জোয়ার্দার, ওদুদ মন্ডল, চকলা জোয়ার্দার, ফকির জোয়ার্দার ও শাফায়েত বিশ্বাস। শাফায়েত বিশ্বাস ১৯৫২ সালে পূর্ব-পাকিস্তান বাছাই একাদশের হয়ে ইরানের বিরুদ্ধে খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন। শাফায়েত বিশ্বাস ও ডুডি জোয়ার্দার পরবর্তীতে চুয়াডাঙ্গা মহাকুমা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। চুয়াডাঙ্গার কৃতী সন্তান মরহুম হায়দার আলী জোয়ার্দার ছিলেন চুয়াডাঙ্গা ফুটবলের প্রাণ-পুরুষ। এ জন্যে তিনি চুয়াডাঙ্গা ফুটবলের জনক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছিলেন। বৃটিশ ও পাকিস্তান আমলে প্রতিষ্ঠিত চুয়াডাঙ্গা টাউন মাঠ, হায়দার আলী প্যাভেলিয়ন এখনো চুয়াডাঙ্গা ক্রীড়া অঙ্গনের ঐতিহাসিক সাক্ষী হিসেবে বিদ্যামান আছে। এছাড়াও বিদ্যমান আছে ঐতিহ্যবাহী টাউন ক্লাব ও মোহামেডান ক্লাব। ১৯৫৪ সালে চুয়াডাঙ্গার হায়দার আলী প্যাভেলিয়নের উদ্বোধনী ও ১৯৮৭ সালে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের পঞ্চাশ বছর পূর্তি আনুষ্ঠানিকতায় যথাক্রমে কলকাতা মোহামেডান ও ঢাকা মোহামেডান চুয়াডাঙ্গায় অনুষ্ঠিত ভিন্ন ভিন্ন দুটি চ্যারিটি ফুটবল ম্যাচে অংশ নেয়। এছাড়াও স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে চুয়াডাঙ্গার দু’জন কৃতী ফুটবলার মাহমুদুল হক মালিতা লিটন ও মামুন জোয়ার্দার জাতীয় টিমের অন্তর্ভুক্ত হয়ে দেশে ও বিদেশে বিভিন্ন খেলায় কৃতিত্বের সাফল্য দেখিয়ে চুয়াডাঙ্গার সুনাম বৃদ্ধি করেছেন।