মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ
১০৯ বল খেলে রান করেছেন ২৫; অভিষেক টেস্ট ইনিংসেই জানিয়ে দিলেন টেস্ট ক্রিকেটে ব্যাটিং ধরনটা ভালই জানা আছে মার্শাল আইয়ুবের। কিন্তু সম্ভাবনাময় ইনিংসের সমাপ্তি হল সীমাহীন অধৈর্যশীলতার পরিচয় দিয়ে। কোরি অ্যান্ডারসনের শর্ট ও অফ সাইডের অনেক বাইরের বল খেলতে গিয়ে উইকেটের পিছনে ক্যাচ দিয়ে শেষ হল তার ইনিংসের। ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট উইকেট পেলেন সফরকারী বোলার কোরি অ্যান্ডারসন। আর একই ইনিংসেই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ চেনালেন মার্শাল আইয়ুব।
আবার একা নাসির!
ব্যাটসম্যান নাসির হোসেনের ক্যারিয়ারে এমনটা আগেও ঘটলো। গতকাল চট্টগ্রাম জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে আবারও ঘটলো একই ঘটনা। ডাবল সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ১৯ রান আগে আর ৬৭ রান করে অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম পর পর ফিরে গেলে একা হয়ে পড়েন নাসির। এরপর বাকি শুধু টেল এন্ডাররা। স্বভাবসুলভ মারমুখী ব্যাটিংয়ে মুহূর্তের মধ্যেই পরিস্থিতি নিজেদের আয়ত্তে নিয়ে আসলেন সাত নম্বরে নামা নাসির। সঙ্গী হিসেবে পেলেন সোহাগ গাজীকে। দু’জন মিলে যোগ করলেন ৭০ রান। তবে ইনিংসের শেষটা ভাল হল না নাসিরের। ৬৫ বলে ৪৬ রান করে ইশ সোধির নিরীহ দর্শন শর্ট বল তুলে মারতে গিয়ে কেন উইলিয়ামসের হাতে বল তুলে দিয়ে ফিরলেন সাজঘরে।
ফার্নান্দোর ভুল!
বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের নামের ভুল উচ্চারণ করা নতুন কোন ব্যাপার নয়। বিদেশি ধারাভাষ্যকাররা প্রায়ই এমন করে থাকেন। এবার সেই পুরনো ভুলটাই আবারও করলেন শ্রীলঙ্কান ধারাভাষ্যকার রঞ্জিত ফার্নান্দো। তাও একবার না, বেশ কয়েকবার বিভিন্ন নামে ডাকলেন মমিনুল হককে। এরমধ্যে সবচেয়ে নারকীয় হল একবার ‘মামানুল’ নামে ডেকে ফেলা। এখানেই শেষ হচ্ছে না ফার্নান্দোর ভুল! ডগ ব্রেসওয়েলের বল মিডল স্ট্যাম্পে বরাবর পড়ে লেগ দিয়ে বের হয়ে যাবার পথে বাঁধা পরে মমিনুলের পায়ে। সফরকারীরা আবেদন করলেও সেই ডাকে সারা দেননি আম্পায়ার। এরপর রঞ্জিত ফার্নান্দো ধারাভাষ্য কক্ষে বসে একে ‘এ গুড আপিল’ বলে রায় দিয়ে দিলেন।
ভুলে যাওয়া ‘ফলোঅন মার্ক’
একটা সময় ছিল যখন প্রতিপক্ষে রানের নিচে চাপা পড়ে ‘ফলোঅন মার্ক’ পাড় করাই ছিল বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের জন্য বড় ব্যাপার। চলমান চট্টগ্রাম টেস্টের দ্বিতীয় দিনে নিজেদের প্রথম ইনিংসের শুরুতেই দুই ওপেনারকে হারিয়ে ফেলায় এবার আবারও ফলোঅনে পড়ার শঙ্কায় ছিল বাংলাদেশ। মুশফিক-মমিনুলের ব্যাটিং দাপটে সেই শঙ্কা কেটে গেল। তাই একটা সময় ‘ফলোঅন মার্ক ২৬৯ রান’-এর ব্যাপারটা ভুলেই গিয়েছিল সবাই। মুশফিকের ব্যাটে লেগে বল স্লিপ পাড় করার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ফলোঅনে পড়ার শঙ্কা মুছে দিল। আগের মতো এবার আর দর্শকদের উল্লাস বাঁধ ভাঙলো না।
সংক্ষিপ্ত উদযাপন!
ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি; উদযাপনটাও সেরকমই হওয়া উচিত। কিন্তু ব্যতিক্রমি এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেলেন মমিনুল হক। ১০০ রানে পৌঁছে হেলমেট খুললেন; ব্যাট তুলে ধরে ড্রেসিংরুমের দিকে সতীর্থদের অভিবাদনের জবাব দিলেন। সঙ্গী ব্যাটসম্যান মার্শাল আইয়ুবের সাথে দু-চারটা কথা বলে ফিরে আসলেন ব্যাটিং এন্ডে। ব্যাস! এখানেই শেষ মমিনুলের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি উদযাপন।
