কৃষিবৈচিত্র্য ও সম্ভাবনা

আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০১৩, ২১:৫২
সিলেটের সুখ্যাতি চা-এর জন্য। কমলার জন্যও বটে। বাংলাদেশে কমলালেবুর যে সামান্য চাষ হয়, তার প্রায় সবটাই বৃহত্তর সিলেট জেলায়। দেশে এখন কমলালেবুর যে চাহিদা তার বেশিরভাগই অবশ্য পূরণ হইয়া থাকে দেশের বাহির হইতে আসা কমলালেবুর দ্বারা। সম্ভবত চীন হইতেও এইকালে ছোট আকারের কিছু কমলালেবু আমদানি হইয়া থাকে। এই অবস্থায় একটা সুখবর এই যে, দেশের সর্ব উত্তরে পঞ্চগড় জেলায় কমলা আবাদের সম্ভাবনা দেখা দিয়াছে। পঞ্চগড়ে গত প্রায় দশ-পনের বত্সর যাবত্ চা-এর আবাদও হইতেছে। পঞ্চগড়ে এখন পর্যন্ত বহু সংখ্যক টি এস্টেট গড়িয়া না উঠিলেও ভিন্ন মাত্রায় চায়ের চাষ হইতেছে এবং উন্নতমানের চা উত্পাদিত হইতেছে। আমরা জানিতে পারিয়াছি যে, অনেক ক্ষুদ্র চাষীও এইখানে ছোট আকারের চা বাগান করিয়াছে। সেই পঞ্চগড়ে এখন কমলালেবুর চাষ হইতেছে। বিশেষজ্ঞদের অভিমত এই যে, পঞ্চগড়ের মাটি উন্নতমানের সুস্বাদু কমলা আবাদের জন্য খুবই উপযুক্ত। গত শনিবার ইত্তেফাকে প্রকাশিত এক রিপোর্ট হইতে জানা যায়, পঞ্চগড়ের মাটিতে অম্লের উপস্থিতি পরিমাণমত রহিয়াছে। উল্লেখ্য, যেই মাটিতে এই উপাদানের মাত্রা সাড়ে চার হইতে সাড়ে পাঁচ, সেইখানে কমলা চাষ হইতে পারে। পঞ্চগড়ে প্রতিবছর যেই পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়, তাহাও কমলা চাষের জন্য অনুকূল। কেবল পঞ্চগড়ে কমলা কিংবা চায়ের আবাদ বলিয়া কথা নহে। আমাদের দেশে একদিকে যেমন কৃষিতে বহুমুখীকরণ হইতেছে, তেমনই অঞ্চলভিত্তিক ফলফলারি ও কৃষিজ পণ্যের প্রসার ঘটিয়া চলিয়াছে। কমলালেবু বা চা আবাদের সম্ভাবনা দেশের আরও অনেক এলাকায় রহিয়াছে। কয়েক দিন আগে প্রকাশিত এক রিপোর্ট হইতে জানা যায়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্নিকটে চা আবাদ করিবার সম্ভাবনা দেখা দিয়াছে। এইখানে উন্নতমানের গ্রীন টি উত্পাদিত হইতে পারে। আসলে বিষয়টি নির্ভর করে নিরন্তর গবেষণা ও পর্যবেক্ষণের উপর। মাটি পরীক্ষার মাধ্যমে দেশের আরও অনেক অঞ্চল পাওয়া অসম্ভব নহে যেখানে চা কিংবা কমলালেবুর মত অর্থকরী কৃষিজ পণ্যের উত্পাদন সম্ভব। গবেষণার পাশপাশি বাংলাদেশের চাষী এবং শিক্ষিত তরুণদের মধ্যে যে কৌতূহল ও উদ্যম দেখা যাইতেছে, তাহাও উত্সাহব্যঞ্জক। দেশে এখন এমন অনেক শস্য, সবজি ও ফলফলারি উত্পন্ন হইতেছে, যাহা অতীতে আমাদের দেশে হইত না। উত্তরাঞ্চলে এখন প্রচুর উত্পাদিত হইতেছে পুষ্টিকর স্ট্রবেরি। স্ট্রবেরি মূলত শীত প্রধান ইউরোপের ফল। কিন্তু এখন দেখা যাইতেছে বাংলাদেশের মত গ্রীষ্মপ্রধান দেশেও ইহা উত্পাদিত হইতে পারে। বাংলাদেশে জনসংখ্যা দ্রুত বাড়িয়া চলিয়াছে। কিন্তু আবাদি জমির আয়তন বাড়িতেছে না। বরঞ্চ কমিতেছে বোধগম্যকারণেই। এমতাবস্থায় কম জমিতে বেশি শস্য ফলানো এবং বেশি মুনাফা অর্জন করিতে হইবে। সেই জন্য সর্বাগ্রে প্রয়োজন শস্যের বহুমুখীকরণ। এইক্ষেত্রে কৃষি বিভাগ ও কৃষি বিজ্ঞানীদের ভূমিকা রাখিয়া যাইতে হইবে। শিক্ষিত তরুণদের এইখাতে উত্সাহিত করিতে হইবে। চাষীদের প্রশিক্ষণ দিয়া আরও উদ্যমশীল, আরও সক্ষম ও সচেতন করিয়া তুলিতে হইবে। বাংলাদেশের আয়তন কম, আবাদি জমি সেই তুলনায় আরও কম। কিন্তু এই দেশের মাটি উর্বর। এইখানে উত্পন্ন হইতে পারে বিবিধ শস্য, সবজি ও ফলফলারি। আর আছে সাধারণ মানুষের উদ্যম। এই দু’টোকেই আমাদের কাজে লাগাইতে হইবে।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন