এখন আমাদের কোনো বাধা নেই :পাপন

আপডেট : ১৩ অক্টোবর ২০১৩, ২২:১০
স্পট ফিক্সিংয়ের অভিযোগে ট্রাইব্যুনাল গঠনের কথা ছিল আগেই। কিন্তু বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সেটা নির্ধারিত সময়ে গঠন করতে পারেনি। সময় না থাকলেও শেষ পর্যন্ত ট্রাইব্যুনাল গঠন হয়েছে, কথাটা আগের দিনও জানিয়েছিলেন বিসিবির নবনির্বাচিত কমিটির সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন এমপি। গতকালও সেই একই কথা জানালেন তিনি। সংবাদ মাধ্যমের পীড়াপিড়ীতে বিসিবি সভাপতি একটা সময় ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যানের নাম প্রকাশ করার জন্য মুখ উঁচিয়ে দিতেই পাশেই দাঁড়ানো পরিচালক জালাল ইউনুস ক্ষীণ আওয়াজে পাপনের কানে তুলে দিলেন, এখন নাম বলা যাবে না।’ বিসিবি সভাপতিও ঘোষণা দিলেন, ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যানের নামটি এখনই প্রকাশ করতে চাচ্ছি না। শুধু বলতে পারি চেয়ারম্যান ফাইনাল হয়ে গেছে। কাজ করার ব্যাপারে সম্মতি দিয়েছেন।’ তবে বিসিবির অন্য একটি সূত্র মতে ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান হতে যাচ্ছেন আইন কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুর রশিদ। কবে থেকে কাজ শুরু করবেন সেটা আলোচনা হয়নি। বিসিবি সভাপতি জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল হবে ১০ জনের প্যানেল। কোন ১০ জন সে ব্যাপারে বিসিবি সভাপতি বলেন, যিনি প্রধান হবেন তিনিই নির্ধারণ করবেন। আমরা কিছু নাম প্রস্তাব করতে পারি।’ বিসিবি সভাপতি জানিয়েছন আজ ট্রাইব্যুনালের নামের তালিকা আইসিসিতে পাঠানোর পর প্রকাশ করতে পারবেন তারা। ট্রাইব্যুনাল গঠনের জন্য আইসিসি থেকে ৪০ দিন সময় বেঁধে দেয়া হয়েছিল গত ১৩ আগস্ট। কিন্তু সে সময় পার হয়ে গেছে। এখন আইসিসি সেটা মানবে কিনা তা নিয়ে একটা শংকা থেকে যাচ্ছে। সভাপতিও মানলেন দেরি হয়ে গেছে কোনো একটা কারণে। ‘আমরা চেষ্টা করেছিলাম। কোনো একটা কারণে হয়নি। ট্রাইব্যুনালের চীফ সিলেকশন করতে দেরি করতে দেরি হয়েছে।’ বিসিবির নবনির্বাচিত কমিটি গতকাল সকালে প্রথম সভায় বসে। সরকার গঠিত বিসিবির এডহক কমিটির ১৩ জনের মধ্যে একমাত্র গাজী আশরাফ হোসেন লিপু ছাড়া বাদ বাকি সবাই ২৬ জনের নির্বাচিত কমিটিতে ঠাঁই পেয়েছেন। সভার শুরুতেই পরিচালকদের দেয়া হয় বিসিবির টাই এবং শুভেচ্ছা উপহার। সভাপতি পাপন বললেন, আইসিসির অনুকরণে আমরা এবারই প্রথম এটা চালু করলাম।’ চট্টগ্রামে নিউজিল্যান্ড বাংলাদেশ টেষ্ট চলছিল বলে পরিচালক আকরাম খান এবং আ জ ম নাসির গতকাল প্রথম সভায় ছিলেন না। এছাড়াও আফজালুর রহমান সিনহা বিদেশে এবং শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল গিয়েছেন হজ্ব পালন করতে। ট্রাইব্যুনালের বিষয়টি ছাড়াও প্রথম সভায় আলোচনা হয়েছে আইসিসির আসন্ন সভায় বাংলাদেশের অবস্থান কী হবে তা নিয়ে। কারণ সভাপতি বলছেন, আগামী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ক্রিকেট ভেন্যুটা যেন ঠিকঠাক থাকে এবং একটা ম্যাচও যেন এখান থেকে অন্যত্র সরে না যায়। সেদিকে আমাদের চেষ্টা থাকবে। আশাকরি সমস্যা হবে না।’ ‘আইসিসির প্রতিনিধি দল আগামীকাল সিলেটে ভেন্যু পরিদর্শনে যাবে। এটাই হবে শেষ পরিদর্শন। যদি ভালোভাবে সব কিছু শেষ হয় তাহলে সামনে আর কোনো সমস্যা দেখছি না-বললেন বিসিবি সভাপতি। প্রথম সভায় দায়িত্ব পুনর্বন্টন হয়নি। এখন যেখানে কাজ করছেন সে তার দায়িত্ব পালন করে যাবেন। কেউ যদি আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন তাহলে সেটিও বিসিবি বিবেচনা করবে। নিউজিল্যান্ড বাংলাদেশের চলমান সিরিজের গুরুত্ব পূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন গাজী আশরাফ হোসেন লিপু। কিন্তু তিনি নির্বাচনে হেরে যাওয়ায় এখন দায়িত্ব পালন করবেন কিনা তা নিয়ে আশংকা রয়েছে। বিসিবি মনে করছে লিপু দায়িত্ব পালন করবেন। নির্বাচন হওয়ার পর এখন বিসিবিতে লোকবল বেড়েছে। তাই সভাপতিও খুশি। ‘আমাদের সামনে অনেক কাজ। এখন আমাদের কোনো বাধা নেই, আমাদের চলার পথটা মসৃণ হবে আশা করছি। -বললেন বিসিবি সভাপতি।