বৃষ্টির চোখ রাঙানি তো ছিলই, তার উপর ফ্ল্যাট উইকেট আর ম্যাচের অবস্থা; সব মিলিয়ে চতুর্থ দিনই চট্টগ্রাম টেস্টের ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে গিয়েছিল। পঞ্চম দিনের খেলা ছিল তাই এক অর্থে নিয়ম রক্ষার লড়াই। সেই লড়াইয়ের ফলাফল ড্র। আর তাই জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সিরিজের প্রথম টেস্ট শেষে তাই দুই অধিনায়কের চোখেই ইতিবাচকতা।
চতুর্থ দিনের বৃষ্টির কারণে নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক ঘণ্টা আগেই শেষ হয়ে যায়। আগের দিনের ক্ষতি পুষিয়ে দিতে গতকাল রবিবার পঞ্চম দিনের খেলা শুরু হয় নির্ধারিত সময়ের আধা ঘণ্টা আগে। আগেরদিনে এক উইকেটে ১১৭ রান দিয়ে দিন শুরু করে সাত উইকেটে ২৮৭ রান করে ইনিংস ঘোষণা করে নিউজিল্যান্ড। এর মধ্যেই অনন্য এক রেকর্ড গড়েন সোহাগ গাজী। ইতিহাসের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে একই টেস্টে করেন সেঞ্চুরি ও হ্যাটট্রিক। প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান কেন উইলিয়ামস করেন সর্বোচ্চ ৭৪ রান। ওপেনার পিটার ফুলটন ৫৯ ও রস টেলর ৫৪ রানে অপরাজিত ছিলেন।
দিনের তখনও প্রায় ৫০ ওভার খেলা বাকি। ওয়ানডে টি-টোয়েন্টির জমানায় এই টার্গেট তাড়া কোন ঘটনা নয়। তারপরও ঝুঁকি নিলেন না বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা।
ওয়ানডে মেজাজে খেললে ২৫৬ রান তাড়া করেও জয় পাওয়া সম্ভব। ৪৮ ওভার ২ বল পর্যন্ত দেখে-শুনে ব্যাট করে তিন উইকেটে ১৭৩ রান করে শেষ করলো টেস্ট। সাকিব আল হাসান ৩৯ বলে ঝড়ো ৫০ রানের ইনিংস খেললেন। টেস্টে এটা তার ১৪তম হাফ সেঞ্চুরি। ওপেনার তামিম ইকবাল ৪১ ও তিন নম্বরে খেলতে নামা মার্শাল আইয়ুব করেন ৩১ রান। ২২ রানে অপরাজিত ছিলেন প্রথম ইনিংসে ১৮১ রান করা মমিনুল হক। সফরকারী স্পিনার ব্রুস মার্টিন নেন দুটি উইকেট।
ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে এসে বাংলাদেশের অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম বলেন, ‘দলের পারফরম্যান্স নিয়ে আমি খুশি। বিশেষ করে প্রথম ইনিংসের ব্যাটিং পারফরম্যান্সের কথা আলাদা করে বলতে হয়। মমিনুল (হক) আর সোহাগের (গাজী) পারফরম্যান্স আমাদের জন্য প্লাস পয়েন্ট। আমরা টেস্ট খেলার সুযোগ কম পাই। এরপর যা খেলেছি তাতে আমি সন্তুষ্ট।’
মুশফিকের মতো একই রকম বললেন সফরকারী অধিনায়ক ব্রেন্ডন ম্যাককালাম, ‘এটা দারুণ একটা টেস্ট ছিল। ব্যাটসম্যানদের বিপক্ষে বোলারদের বল করা কঠিন ছিল। কেন উইলিয়ামস ও জন ওয়াটলিং ভাল ব্যাটিং করেছে। সব মিলিয়ে আমি সন্তুষ্ট।’
বাংলাদেশ দলকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ অনেক ভাল ক্রিকেট খেলেছে। তাই আমরা নিজেদের সেরা খেলা খেলতে পারিনি। তাই অভিনন্দনটা স্বাগতিকদেরই প্রাপ্য।’
