আধুনিক এই সময়ে ইন্টারনেট ছাড়া একটি দিনও কল্পনা করা যায় না। সারাবিশ্বের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ তো বটেই, যেকোনো সময় যেকোনো তথ্যের জন্য এখন ইন্টারনেটের উপর অনেকেই নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন। বিশেষ করে তথ্য খুঁজতে গেলে সার্চ জায়ান্ট গুগল’র শরণাপন্ন হয়ে থাকেন অনেকেই। অনেকে তো বলেই থাকেন, গুগল যা খুঁজে বের করতে পারে না, তার অস্তিত্বই নেই! মজা করে বললেও গুগল সার্চ প্রকৃতপক্ষে এত বিপুল পরিমাণ তথ্যই ধারণ করে থাকে। ফলে গুগল’র উপর নির্ভর করতে দ্বিধা নেই কারও। তবে এর নেতিবাচক দিকও রয়েছে। যুক্তরাজ্যের সাম্প্রতিক এক গবেষণা জানাচ্ছে, গুগল সার্চের অত্যধিক ব্যবহার মানুষের ঘটনা মনে রাখার প্রবণতাকে অনেকটাই কমিয়ে দিচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ অনেক ঘটনার দিন-তারিখই এখন মানুষ আর মনে রাখছে না। চাইলেই গুগল থেকে জেনে নেওয়ার সুবিধাই তাদের স্মৃতিশক্তিকে দুর্বল করে দিচ্ছে। গবেষণায় বিশেষভাবে পরীক্ষা করা হয় বিশ্ব বদলে দেওয়া এবং বিশ্বব্যাপী আলোচিত সব গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার দিন-তারিখ জানা নিয়ে। যুক্তরাজ্যের ২ হাজার ব্যক্তির উপরে পরিচালিত এই গবেষণায় অর্ধেকেরও বেশি ব্যক্তি প্রিন্সেস ডায়ানার মৃত্যুর বছরটি মনে রাখতে পারেননি। ৯/১১খ্যাত ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে হামলার বছরটিও মনে রাখতে পারেননি গবেষণার আওতায় থাকা ৪০ শতাংশেরও বেশি ব্যক্তি। মাত্র এক-তৃতীয়াংশ ব্যক্তিই বলতে পেরেছেন কবে বার্লিন ওয়ালের পতন ঘটে। মানুষ প্রথম কবে চাঁদে পদার্পণ করে, সেটিও বলতে পেরেছেন মাত্র অর্ধেক ব্যক্তি। গবেষণায় দেখা যায়, অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি মনে রাখতে পেরেছেন হেস্টিংয়ের যুদ্ধ, দুই বিশ্বযুদ্ধ এবং ইল্যান্ডের বিশ্বকাপ জেতার দিন-তারিখ। গবেষকরা জানিয়েছেন, বিশ্বের ইতিহাস বদলে দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ সব ঘটনার সময় মানুষ দ্রুত ভুলে যাচ্ছে। আর এর পেছনে অন্যতম মূল ভূমিকা রাখছে ইন্টারনেটে তথ্যের সহজলভ্যতা। গবেষণায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের সিংহভাগই জানিয়েছেন, ইন্টারনেটে চাওয়ামাত্রই তথ্য পাওয়ার সুবিধার কারণে অনেক কিছুই তারা মনে রাখার চেষ্টা করেন না। এটা নিয়ে তারা চিন্তিতও নন। এই গবেষণার একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, ‘ইন্টারনেট নিঃসন্দেহেই মানবজাতির জন্য একটি আশির্বাদ। তবে মানুষের মনে রাখার প্রক্রিয়া বদলে দিতে ভূমিকা রাখছে ইন্টারনেট। অন্তত আগের প্রজন্ম যেভাবে ঘটনা মনে রাখত, সেটি এই প্রজন্মের ক্ষেত্রে অনেকটাই আলাদা।’ ইন্টারনেটের উপর নির্ভরতা তাই বর্তমানের ইন্টারনেট প্রজন্মকে নতুন করেই গড়ে তুলছে বলে মন্তব্য গবেষণার সাথে সংশ্লিষ্টদের।
