সমঝোতা না হলেও ওয়ান ইলেভেন
হবে না
বর্তমান সরকারের মেয়াদ প্রায় শেষেরদিকে কিন্তু নির্বাচনকালীন সরকার প্রশ্নে প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলের মধ্যে এখনো সমঝোতা হওয়ার কোন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। সচেতন মহলের অনেকেই মনে করছেন সমঝোতা যদি শেষ পর্যন্ত নাই হয় তাহলে আরেকটি ওয়ান ইলেভেনের মতো পরিস্থিতি হয়তো আমরা দেখতে যাচ্ছি। অত্যন্ত বিনয়ের সাথে আমি তাদের সাথে দ্বিমত পোষণ করছি। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় যেকোন রাজনৈতিক বিরোধ-সমস্যা সমাধানের একমাত্র পথ হচ্ছে আলাপ-আলোচনা। আলাপ-আলোচনা ও ছাড় দেয়ার মনোভাব ছাড়া গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সমস্যা সমাধানের আর তো কোন পথ নেই। আর সমঝোতা যদি সত্যিই না হয় আর বিএনপি নির্বাচন বর্জন করে তারপরও যেনতেন প্রকারে একটি পাতানো নির্বাচন করে আওয়ামী লীগ যেন সরকারে টিকে থাকতে পারে সেজন্যই তাদের সংলাপে এত অনাগ্রহ এবং অন্য কোন কর্তৃপক্ষের কাছে তারা ক্ষমতা হস্তান্তরে রাজি নয়। তাই অন্য আরো অনেকের মতো আমারও মনে হয়, সমঝোতা যদি নাও হয় তবে আরেকটি ওয়ান ইলেভেন নয় বরং আরেকটি আওয়ামী লীগের সরকারই আমরা দেখতে যাচ্ছি। তবে সেই সরকার ক্ষমতায় কতদিন টিকে থাকতে পারবে সেটা সময়ই বলে দেবে।
জান্নাতুল নাসরিন
বিএসএস (সম্মান) ৪র্থ বর্ষ
সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
ওয়ান ইলেভেন রাজনীতির সমাধান নয় বরং সমঝোতা রাজনৈতিক বড় সমাধান
বর্তমান সরকার ও বিরোধীদলীয় সরকার যদি সমঝোতায় না আসে তাহলে বাঙালি জাতির ঘাড়ে ওয়ান ইলেভেনের মত অশুভ শক্তি চেপে বসবে। সমঝোতা না হলে পূর্বের ১/১১’র তুলনায় বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আমাদের অর্থনৈতিক চাকা ধ্বংসের মুখোমুখি হবে। দেশে অশান্তি বিরাজ করবে। তাই আমাদের দুই নেত্রীর প্রতি আহ্বান দেশের স্বার্থে সংঘাতের রাজনীতি পরিহার করে। দেশের স্বার্থে দেশের উন্নয়নের জন্য শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রেখে আলোচনায় বসে। পূর্বের মত আরেকটি অশুভ শক্তি ওয়ান ইলেভেন অগ্রযাত্রাকে অস্তমিত করুন।
মো. রিহান হোসেন
দশম শ্রেণি
কালমেঘা মুসলিম মাঃ বিঃ
পাথরঘাটা, বরগুনা
বাংলার মানুষ বাংলার মাটিতে সেই আতংকিত ওয়ান ইলেভেন দেখতে চায় না
বিশ্ববিখ্যাত উক্তি যা বলেছিলেন উইনস্টান চার্চিল আর তা হলো, “এটাও ইতিহাসের শিক্ষা যে, কেউই ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেয় না”। আমার মনে হয় আজ বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই উক্তিটি যথোপযুক্ত। আমাদের কার না মনে নেই সেই আতংকিত ওয়ান ইলেভেনের কথা যা বাংলাদেশের উন্নয়নকে ব্যাহতই করেনি বরং দেশকে পঙ্গু করেছিল যার মাশুল পরবর্তী সরকারকে ভোগ করতে হয়েছে। তাহলে আমরা কেন সেই বিভীষিকাময় অন্ধকারের দিকে দেশকে ঠেলে দেয়ার চেষ্টা করছি। বাংলার মানুষ বাংলার মাটিতে আর ওয়ান ইলেভেন দেখতে চায় না। আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন বলেছিলেন— “বুলেটের চেয়ে ব্যালটই শক্তিশালী”। এর মানে হচ্ছে সংঘাত নয় বরং জনগণ তাদের পছন্দের মানুষকে সুষ্ঠু পরিবেশে ব্যালটের মাধ্যমে নির্বাচিত করবে। যার জন্য প্রয়োজন নিরপেক্ষতা। যা কোন সরকারের অধীনে নির্বাচন করলে তা আর নিরপেক্ষতা থাকে না। তাই নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন করা ছাড়া বিকল্প কোন রাস্তা নেই।
মনির আহসান
বি.টি.আই.এস অনার্স (সম্মান) শ্রেণি
১ম বর্ষ দাওয়াহ এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া
প্রশাসন ক্ষমতাসীনদের আজ্ঞাবহ হলে দেশে অরাজকতা চলে
আমরা নবীন, আমরা তরুণসমাজ, কখনও চাই না প্রশাসন ক্ষমতাসীনদের আজ্ঞাবহ হোক। কারণ প্রশাসন চলার জন্য একটি দেশের শক্তিশালী সংবিধান আছে। এ সংবিধান অনুযায়ী দেশের প্রশাসন সুষ্ঠুভাবে তাদের নিজস্ব দায়িত্ব নিয়ে স্বাধীনভাবে দেশের মানুষের কল্যাণে নিরন্তন কাজ করে যাবে। শুধু শুধু প্রশাসন কেন ক্ষমতাসীনদের আজ্ঞাবহ হবে। কিন্তু অপ্রিয় হলেও সত্য যে, আমাদের প্রশাসন ক্ষমতাসীনদের আজ্ঞাবহ হয়ে যায় কোন না কোন কারণে। কিন্তু এটা কোন মতেই উচিত নয়। প্রশাসন দলীয়করণ হলে দেশে চলে অরাজকতা, যা সাধারণ জনগণ চাই না। তাই ক্ষমতাসীনদের হুমকি-ধামকিতে বা তাদের কথায় প্রণোদিত হয়ে প্রশাসনের কাজ করা উচিত নয়। সরকার প্রশাসন ও সাধারণ জনগণ একত্র হয়ে কোন সমস্যা সমাধান করতে চাইলে সে সমস্যার সমাধান সহজেই করা যায়। যোগ্য ব্যক্তিরা সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পেলে ভবিষ্যতে দেশ উন্নতির দিকে এগিয়ে যাবে এবং দেশে শান্তি চলে আসবে। কারণ একজন সুশিক্ষায় শিক্ষিত ব্যক্তির মাধ্যমে সমাজ ও দেশের অনেক কিছু পরিবর্তন হতে পারে, যা দু’জন ব্যক্তির মাধ্যমে সম্ভব হয় না।
খাজা মাহদী
ফটোসাংবাদিক (DUPS)
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
