সোহাগ গাজীর বিশ্বরেকর্ড

আপডেট : ১৪ অক্টোবর ২০১৩, ২১:১৫
বাংলাদেশের তরুণ ক্রিকেটার সোহাগ গাজী অসামান্য এক বিশ্বরেকর্ড গড়িয়া দেশের ক্রিকেটকে অন্য এক উচ্চতায় উন্নীত করিয়াছেন। রবিবারে শেষ হওয়া বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার প্রথম টেস্ট কোনো ফলাফল ছাড়াই সমাপ্ত হইয়াছে, কিন্তু সোহাগের কীর্তি বাংলাদেশকেই লড়াইয়ে আগাইয়া রাখিয়াছে। টেস্ট ক্রিকেট ইতিহাসে সোহাগ গাজী হইলেন প্রথম খেলোয়াড় যিনি একই টেস্টে ব্যাটিংয়ে সেঞ্চুরি ও বোলিংয়ে হ্যাটট্রিক করিয়াছেন। ১৩৬ বত্সরের টেস্ট ক্রিকেট ইতিহাসে ইহা এক বিস্ময়কর ঘটনা— গ্যারফিল্ড সোবার্স, ইয়ান বোথাম, কপিল দেব, রিচার্ড হ্যাডলি কিংবা ইমরান খানের মতো বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারও এই ঘটনা কখনও ঘটাইতে পারেন নাই। সোহাগ এই ম্যাচে তো কেবল সেঞ্চুরিসহ হ্যাটট্রিকই করেন নাই, নিয়াছেন এক ইনিংসে ছয় উইকেটও। সেঞ্চুরি ও ইনিংসে পাঁচ বা তাহার চাইতে বেশি উইকেট পাইবার ঘটনাও টেস্ট ক্রিকেট ইতিহাসে ইতোপূর্বে ঘটিয়াছে মাত্র ২৮ বার। সর্বশেষ কীর্তিটি ছিল বাংলাদেশেরই অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের। বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে টেস্টে হ্যাটট্রিকের গৌরব আছে একজনেরই, অলক কাপালি পাকিস্তানের বিপক্ষে ২০০৩ সালে এই ঘটনাটি ঘটাইয়াছিলেন। তবে তাহার ঝুলিতে একই ম্যাচে সেঞ্চুরির গৌরব ছিল না। কিন্তু সোহাগ গাজীর ক্ষেত্রে বিষয়টি ঘটিলে তাহা অনায়াসে বিশ্বরেকর্ড হইয়া গেল। তবে এইরূপ কাণ্ড করিবার অভ্যাস সোহাগের ছিলই। গত বত্সরের অক্টোবরে জাতীয় লীগে খুলনার বিপক্ষে বরিশালের হইয়া ৯৩ বলে ১১৯ রান করিবার পর বল হাতে সাত উইকেট নিবার পথে করিয়াছিলেন হ্যাট্রিক। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট ইতিহাসেও ১২তম খেলোয়াড় হিসাবে সোহাগ এই অসামান্য অর্জন করিয়াছিলেন। কেবল তাহাই নহে, প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটেও বাংলাদেশের দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড তাহারই। এতকিছুর পরেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাহার অলরাউন্ডার বা ব্যাটসম্যান পরিচয়টি সম্মুখে আসে নাই। তিনি বরং পরিচিত হইয়াছেন সেই অফ স্পিনার হিসাবে, কয়েক মাস পূর্বে ওয়েস্ট ইন্ডিজ বাংলাদেশ সফরে আসিলে যিনি দলটির শ্রেষ্ঠ বিধ্বংসী ব্যাটসম্যান ক্রিস গেইলকে প্রতিবারই অল্প রানের মধ্যে আউট করিয়াছিলেন। ফলে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইন-আপ অনুযায়ী তাহাকে মাঠে নামিতে হইয়াছে আট নম্বরে, টেইল-এন্ডার ব্যাটসম্যান হিসাবে। চট্টগ্রাম টেস্ট সোহাগ গাজীকে সাকিব আল হাসানের মতোই অলরাউন্ডার হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করিয়াছে। বৃষ্টিবিঘ্নিত চট্টগ্রাম টেস্ট ড্র হইলেও সবদিক দিয়া বাংলাদেশই আগাইয়া ছিল। সোহাগ গাজীর অলরাউন্ড পারফরম্যান্স ছাড়াও আরেক তরুণ খেলোয়াড় মমিনুল প্রথম ইনিংসে করিয়াছিলেন ১৮১ রান। রান পাইয়াছেন নিয়মিত খেলোয়াড় মুশফিকুর রহমান, সাকিব আল হাসান, নাসির আহমেদ ও তামিম ইকবাল এবং উইকেট পাইয়াছেন আব্দুর রাজ্জাক। সামপ্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ভালো ফলাফল করিতেছে টেস্ট ও ওয়ানডে উভয় ক্রিকেটেই। বিগত জিম্বাবুয়ে সফরে আশানুরূপ ফলাফল আসে নাই, কিন্তু শ্রীলঙ্কা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে দুইটি সিরিজে বাংলাদেশ ভালো করিয়াছে। এশিয়া কাপে বাংলাদেশ রানার-আপ হইয়াছিল এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ওয়ানডে সিরিজ জিতিয়াছিল। ২০১০ সালে আগে নিউজিল্যান্ড বাংলাদেশ সফরে আসিলে ওয়ানডে সিরিজে ৪-০ ফলাফলে ধবল ধোলাইয়ের শিকার হইয়াছিল সফরকারী দলটি। প্রথম টেস্টের ফলাফল ইঙ্গিত দিতেছে এইবারের সিরিজেও বাংলাদেশ নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ভালো করিবে। ক্রিকেট বিশ্বে বাংলাদেশ এখন এক নব শক্তি। তাহা কেবল মুশফিক-সাকিব-তামিম-নাসির-রাজ্জাকের মতো অভিজ্ঞরা ভালো করিতেছেন বলিয়া নহে, মমিনুল ও সোহাগের মতো নূতনরা অভূতপূর্ব সব কীর্তি গড়িয়া চমক দেখাইতেছেন বলিয়াই এই বিশ্বাস ক্রমশই দানা বাঁধিতেছে।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন