পাকিস্তান অধিনায়ক মিসবাহ উল হক জানিয়েছেন, টেস্ট র্যাংকিংয়ের শীর্ষে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে তার দলের জয়টি ‘অবিশ্বাস্য।’ বিশেষ করে দুর্বল জিম্বাবুয়ের কাছে সাম্প্রতিক অবমাননাকর হারের প্রেক্ষিতে।
দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম ইনিংসে ২৪৯ রানে অলআউট হওয়ার পর দ্বিতীয় পালাতে ২৩২ রানে অলআউট হয়ে গেলে জয় নাগালের মধ্যে এসে যায় পাকিস্তানের। সাইদ আজমল (৪/৭৪) ও বাহাতি পেসার জুনায়েদ খানের (৩/৫৭) পাশাপাশি স্পিনার জুলফিকার বাবর (২/৫১) দ্বিতীয় ইনিংসেও দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটসম্যানদের সামনে বাধার প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। ফলে প্রথম ইনিংসেই ১৯৩ রানে এগিয়ে যাওয়া পাকিস্তান গত বৃহস্পতিবার দক্ষিণ আফ্রিকাকে চলতি সিরিজের প্রথম টেস্টে একদিন থাকতেই সাত উইকেটে হারিয়ে দেয়। সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে নিজেদের ‘হোম’ ভেন্যুতে পাকিস্তানের জয়ে বোলারদের পাশাপাশি অবদান রাখে ওপেনার খুররম মঞ্জুর ও অধিনায়ক মিসবাহর সেঞ্চুরি দুটি।
যদিও ৪০ রানের টার্গেট ছাড়াতে গিয়ে পাকিস্তান চতুর্থ ওভারের মধ্যেই সাত রানের সঞ্চয়ে তিন উইকেট খুইয়ে বসেছিল। শেষ পর্যন্ত অধিনায়ক মিসবাহ আবারো হাল ধরে বিজয়ের প্রান্তে নিয়ে যান। ছক্কা হাঁকিয়ে জয় সম্পূর্ণ করেন তিনি।
মিসবাহ সঙ্গত কারণেই বলেন, ‘এটা সত্যি অবিশ্বাস্য এবং আমাদের জন্য বহুল প্রত্যাশিত জয়। কোন দলের আত্মবিশ্বাস জোরদার করার জন্য একটা জয় সবসময়েই গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে বিশ্বের এক নম্বর দলের বিরুদ্ধে তো ব্যাপারটা বিশেষ কিছু। এটা ছিল দলগত প্রয়াস যাতে সবাই অবদান রাখেন। বিশেষ করে তরুণরা।’
তিনি আরো বলেন, ‘উভয় ওপেনার এবং জুলফিকার বাবর আমাদের জন্য দারুণ কাজ করেছে। কন্ডিশনও আমাদের ব্যাটিংয়ের জন্য সহায়ক হয়েছে এবং আমিরাতে আমাদের বোলারদের রেকর্ডও ভাল। এটাই দু’দলের মধ্যে পার্থক্য গড়ে দিয়েছে।’
দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক গ্রায়েম স্মিথ এ ঘটনায় ‘খুবই হতাশ’ হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের জন্য সত্যি অনেক উঁচু মান গড়েছি। তারপরও মিসবাহ ও তার ছেলেদের কৃতিত্ব প্রাপ্য। বিশেষ করে প্রথম সেশন থেকেই। তারা পুরো খেলায় এগিয়ে ছিল এবং শ্রেয়তর ক্রিকেট খেলেছে।’
সংক্ষিপ্ত স্কোর
দক্ষিণ আফ্রিকা: প্রথম ইনিংস- ২৪৯ (হাশিম আমলা ১১৮, ডুমিনি ৫৭; ইরফান ৩/৪৪, বাবর ৩/৮৯, আজমল ২/৫৯)
পাকিস্তান: প্রথম ইনিংস- ৪৪২ (খুররম মঞ্জুর ১৪৬, মিসবাহ ১০০, শান মাসুদ ৭৫, আসাদ শফিক ৫৪; স্টেইন ৩/৮৮, ফিল্যান্ডার ৩/৮৪, ডুমিনি ২/৬৮)
দক্ষিণ আফ্রিকা: দ্বিতীয় ইনিংস- ২৩২ (ডি ভিলিয়ার্স ৯০, পিটারসেন অপরাজিত ৪৭; আজমল ৪/৭৪, জুনায়েদ ৩/৫৭, বাবর ২/৫১)
পাকিস্তান দ্বিতীয় ইনিংস- টার্গেট ৪০ (মিসবাহ অপরাজিত ২৮; ফিল্যান্ডার ২/১১)
ফল: পাকিস্তান সাত উইকেটে জয়ী
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: খুররম মঞ্জুর
