দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে কোরবানীর চামড়ার দাম চড়া

আপডেট : ১৯ অক্টোবর ২০১৩, ১৯:৫৮
দক্ষিণ-পশ্চিমের জেলাগুলোতে এবার কোরবানীর পশুর চামড়ার দাম বেশি। অনেক স্থানে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে চামড়া বিক্রি হচ্ছে। বিজিবি’র নজরদারির কারণে এখন পর্যন্ত ভারতে চামড়া পাচারের খবর মেলেনি। প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগের উপ-পরিচালক মৃনাল কান্তি মিত্র বলেন, পশুর দাম কম থাকায় এবার গত বছরের চেয়ে বেশিসংখ্যক পশু কোরবানী হয়েছে। তার হিসাবমতে খুলনা বিভাগে আনুমানিক ৭ লাখ গরু এবং প্রায় ১০ লাখ ছাগল কোরবানী হয়েছে। গৃহস্থদের কাছ থেকে চামড়া ব্যবসায়ী ও ফড়িয়ারা কিনে লবণ মাখিয়ে চামড়া মজুদ করেছে। এ চামড়া এখন কেনাবেচা চলছে। যশোরের চামড়া ব্যবসায়ী মোঃ লিয়াকত আলি জানান, ২০ ফুট সাইজের এক পিস গরুর চামড়া ২২শ’ টাকা পর্যন্ত দরে এবং ৩০ ফুট সাইজের এক পিস চামড়া ৩ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তিনি বলেন, ২০ ফুট থেকে ৩০ ফুট সাইজের চামড়ার চাহিদা বেশি এবং দামও ভাল। ঢাকার বাইরে প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়ার দাম ৮০ টাকা থেকে ৮৫ টাকা এবং ছাগলের চামড়া প্রতি বর্গফুট ৪০ থেকে ৪৫ টাকা ধার্য করে দিয়েছে চামড়া ব্যবসায়ীদের ৩টি সংগঠন। ৬ ফুট সাইজের এক পিস ছাগলের চামড়া ৩শ’ টাকা থেকে সাড়ে ৩শ’ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ঝিনাইদহের চামড়া ব্যবসায়ী মোঃ আবতাব হোসেন বলেন, গরুর চামড়া প্রতি বর্গফুট ১১৫ টাকা দরে পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। ঢাকার ট্যানারি মালিকগণ চামড়া কিনতে শুরু করেছেন। ফড়িয়াদের হাতেই বেশি চামড়ার মজুদ রয়েছে। গত বছর কোরবানীর পর পর কাঁচা চামড়ার দাম কম ছিল। কাঁচা চামড়া রপ্তানির অনুমতিদানে সরকারি ঘোষণার পর চামড়ার বাজার চড়তে থাকে। নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে প্রতি পিস গরুর চামড়া দেড় হাজার টাকা থেকে আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি হয়। আর প্রতি পিস ছাগলের চামড়ার দাম ছিল দেড়শ’ টাকা থেকে ৩শ’ টাকার মধ্যে। এ অঞ্চলে চামড়ার প্রধান মোকাম হচ্ছে যশোরের রাজারহাট। এ ছাড়াও নওয়াপাড়া, ফুলতলা, কপিলমুনি, কালীগঞ্জ, ঝিনাইদহ, মাগুরা, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া ও সাতক্ষীরাতে চামড়ার মোকাম রয়েছে। এসব চামড়ার প্রধান ক্রেতা হচ্ছে ঢাকার ট্যানারি মালিকেরা। তাদের দেয়া দামের উপর চামড়ার বাজার নির্ভর করে। যশোরের রাজারহাট চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ আলাউদ্দিন বকুল জানান, এবার কোরবানীর গরু-ছাগলের চামড়ার দাম চড়া। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত ঢাকার ট্যানারি মালিকেরা পুরাদমে চামড়া কেনা শুরু করেননি। তারা তাড়াতাড়ি চামড়া না কিনলে দর পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কাঁচা চামড়া বেশিদিন গুদামে মজুত রাখা যায় না। তিনি আরো জানান, সীমান্ত পথে চামড়া পাচারের খবর তারা এখন পর্যন্ত পাননি। শনিবার রাজার হাটে প্রায় এক লাখ পিস গরু ও দু’ লাখ পিস ছাগলের চামড়া উঠে। আর প্রায় ৫০ কোটি টাকার চামড়া কেনাবেচা হয় আলাউদ্দিন মুকুল বলেন।