এগিয়ে যাওয়াই লক্ষ্য সোহাগের

আপডেট : ১৯ অক্টোবর ২০১৩, ২১:৩৮
এই মিরপুরেই গত বছর নভেম্বরে তার অভিষেক। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে স্মরণীয় সেই অভিষেকেই নিজের জাত চিনিয়ে দেন সোহাগ গাজী। দুই ইনিংস মিলিয়ে নয় উইকেট পাওয়ার পর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি এই ক্রিকেটারকে। এক বছরের ক্যারিয়ারে সাত টেস্টে ৩৪ উইকেট পাওয়া গাজী এখান থেকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে চান না। আরো এগিয়ে যাওয়াই তার লক্ষ্য। আগামীকাল নিজের অভিষেক টেস্টের ভেন্যু মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে চলমান সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টের আগে এমনই জানালেন কদিন আগেই রেকর্ড বুকে নাম লেখানো সোহাগ গাজী। সাংবাদিকদের সাথে আলাপচারিতায় এই ম্যাচেও বড় লক্ষ্যের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আগের ম্যাচের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চাই। জানি না আবারও রেকর্ড করতে পারবো কি না, তবে এবারও পাঁচ উইকেট পাওয়ার চিন্তা ভাবনা আছে।’ মূলত স্পিনার হিসেবেই দলে ডাক পান সোহাগ। বল হাতে প্রতিভার পরিচয় দেয়ার সাথে সাথে চট্টগ্রাম জহুর আহমেদ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে জ্বলে উঠেছিলেন ব্যাট হাতেও। তার অপরাজিত ১০১ রানের কল্যাণেই প্রথম ইনিংসে লিড নিতে পারে বাংলাদেশ। আর বোলিংয়ে হ্যাটট্রিক দিয়ে অনন্য এক রেকর্ডের দেখা পেলেন তিনি। টেস্ট ক্রিকেটের ১৩৬ বছরের ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে গড়লেন একই টেস্টে সেঞ্চুরি ও হ্যাটট্রিকের নজির। তবে, এতো কিছুর পরও ব্যাটিংয়ের উপর আলাদা কোন জোর দিচ্ছেন না সোহাগ গাজী, ‘সেঞ্চুরি করেছি বলেই যে ব্যাটিং নিয়ে আলাদা করে কাজ করতে হবে তেমনটা আমি ভাবছি না। ব্যাটিংয়ে আমার টুকটাক যে ভুল আছে সেগুলো আমি শুধরাবার চেষ্টা করছি। বাকিটা সময় আমি আমার বোলিং নিয়েই কাজ করছি। প্র্যাকটিসের সময় আমি ব্যাটিংয়ের থেকে বোলিংকেই বেশি এগিয়ে রাখি।’ চট্টগ্রাম টেস্টে দুই ইনিংস মিলিয়ে বল হাতে সোহাগ পেয়েছেন মোট আটটি উইকেট। এই টেস্টকে সামনে রেখে লক্ষ্য কি? - সাংবাদিকের এমন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আলাদা কোন কিছু করার পরিকল্পনা নাই। আগের ম্যাচে যে অনুযায়ী বল করেছি, এই ম্যাচেও সেটাই করতে চাই। ছোট ছোট যেসব ভুল ছিল সেগুলো ঠিক করে মাঠে নামতে চাই।’ চট্টগ্রাম টেস্টে উইকেট থেকে বিন্দুমাত্র সুবিধা পাননি বোলাররা। সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টেও তাই ঘুরে ফিরেই আসছে উইকেটের কথা। এই প্রসঙ্গে সোহাগ গাজী বলেন, ‘উইকেট নিয়ে খুব বেশি ভাবছি না। এগুলো কোচ, ক্যাপ্টেন, টিম ম্যানেজমেন্ট দেখবে। আর এরপর হয়তো তারা আমাদের সাথে এই ব্যাপার নিয়ে আলোচনা করবে। তবে, উইকেটের ব্যাপারে আমরা আশাবাদী।’ তবে, ম্যাচের আগে উইকেটকে খুব বড় করে দেখতে চাইছেন প্রথম টেস্টের নায়ক, ‘উইকেট যেমনই হোক আমাদের খেলতে হবে। আমার মূল কাজ বোলিং। তাই বোলার হিসেবে আমার কাছে উইকেট পাওয়াটাই সব থেকে বেশি জরুরি। উইকেট পেলেই আমি সন্তুষ্ট। আমার লক্ষ্য সর্বাধিক উইকেট পাওয়া।’ সেটা হলে তো স্বাগতিকদেরই লাভ!