পুরান ঢাকায় দুর্গন্ধে দুর্বিষহ জীবন

আপডেট : ১৯ অক্টোবর ২০১৩, ২১:৪৭
রাজধানীতে কোরবানির বর্জ্য অপসারণে মন্থরগতি লক্ষ্য করা গেছে। ফলে জবাই করা পশুর নাড়ি-ভুঁড়ি ও রক্ত পচা দুর্গন্ধে নগর জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে পুরান ঢাকায় এই সংকট মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। ঈদ উদযাপনের পাঁচদিন পরও নগরীর বিভিন্ন স্থানে জমে আছে কোরবানির পশুর বর্জ্য। বিশেষ করে পুরান ঢাকার নয়াবাজার, ইংলিশ রোড, মিটফোর্ড, আরমানিটোলা, বংশাল ওয়ারী, শশী মোহন বসাক লেন, দক্ষিণ মৈশুন্ডি,বনগ্রাম, ইসলামপুর, আর কে মিশন রোড, জিন্দাবাহার লেন এলাকায় দুর্গন্ধে এক অসহনীয় পরিবেশ বিরাজ করছে। এছাড়া হাতিরঝিল,মগবাজার এলাকায়ও একই পরিস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে ৪৮ ঘণ্টায় রাজধানীর শতভাগ কোরবানির বর্জ্য অপসারণের যে ঘোষণা দিয়েছিল, শেষ পর্যন্ত তাতে ব্যর্থ হয়েছে বিভক্ত ঢাকা সিটি কর্পোরেশন। রাজধানীর অলিতে-গলিতে এখনো কোরবানির পশুর রক্ত ও বর্জ্য ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। এ সব বর্জ্যের দুর্গন্ধে ক্রমশই ভারী হয়ে উঠছে রাজধানীর বাতাস। রাজধানীর মূল সড়কগুলো থেকে বর্জ্য অপসারণ করা হলেও অপসারিত হয়নি অলিগলির বর্জ্য। এদিকে, ঈদের পরের দুই দিনেও কিছু কিছু এলাকায় পশু কোরবানি করায় নতুন করে বর্জ্যের স্তূপ হয়েছে। তবে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের দাবি কোরবানির বর্জ্য শতভাগ অপসারণ করা হয়েছে। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) গত শুক্রবারের মধ্যে শতভাগ কোরবানির বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে বলে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়ে জানালেও বাস্তবে লক্ষ্য করা গেছে ভিন্নচিত্র । গতকাল শনিবারও নগরীর বিভিন্ন স্থানে পশু বর্জ্য পড়ে থাকতে দেখা গেছে। এদিকে, দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে শতভাগ বর্জ্য অপসারণ করা না হলেও ৯০ ভাগের ওপরে অপসারণ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। বাকি কাজ শনিবার সন্ধ্যার মধ্যে শেষ হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার রাজধানীতে বর্জ্য অপসারণের ক্ষেত্রে সিটি কর্পোরেশনের দক্ষতা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। এবারই প্রথমবারের মতো বর্জ্য অপসারণের বিশেষ মেশিন ভ্যাকুয়াম ক্লিনার এবং পানি ছিটানো মেশিন ব্যবহার করা হয়েছে, যা বর্জ্য অপসারণের গতি অনেক গুণ বাড়িয়ে দেয়। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপক ক্যাপ্টেন (অব.) বিপন কুমার সাহা ইত্তেফাককে বলেন, আমরা ইতোমধ্যেই কোরবানির বর্জ্য অপসারণের জন্য ঘোষিত বিশেষ ক্র্যাশ প্রোগ্রাম শেষ করেছি। আশা করি, শতভাগ সফলতার সঙ্গেই কাজ শেষ হয়েছে। গত শুক্রবার বেলা একটায় কাজ শেষ করে মন্ত্রণালয়ের কাছে রিপোর্ট হস্তান্তর করা হয়েছে। এখন যা আছে, সাধারণ দিনের মতোই বর্জ্য অপসারণ করা হবে। অপরদিকে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সমাজকল্যাণ কর্মকর্তা খন্দকার মিল্লাতুল ইসলাম বলেন, আমাদের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আশা করি, শনিবার সন্ধ্যার মধ্যেই শতভাগ বর্জ্য অপসারণ করতে পারবো। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন অধীনস্থ পুরান ঢাকায় ঈদের পরও পশু কোরবানি হয়। সে কারণে ওই এলাকায় নতুন করে বর্জ্যের সৃষ্টি হচ্ছে। তবে আশা করি, শনিবার সন্ধ্যার মধ্যেই শতভাগ বর্জ্য অপসারণ করে কোরবানির বর্জ্য অপসারণের সমাপ্তি ঘোষণা করতে পারবো।