ম্যাকাও ওপেনের তৃতীয় রাউন্ডে তেমন একটা খারাপ করেননি বাংলাদেশি গলফার সিদ্দিকুর। কিন্তু শনিবার পারের চেয়ে আট শট কম খেলে তাকে ছাড়িয়ে গেছেন অস্ট্রেলিয়ার স্কট হেন্ড।
ম্যাকাও গলফ অ্যান্ড কান্ট্রি ক্লাবে ৮ লাখ ডলার প্রাইজমানির এই টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় রাউন্ড শেষে পারের চেয়ে সাত শট কম খেলে শীর্ষে ছিলেন সিদ্দিকুর। তৃতীয় রাউন্ডে পারের চেয়ে মাত্র এক শট কম খেলেছেন তিনি।
এ রাউন্ডে সবাইকে চমকে দিয়ে পারের চেয়ে আট শট কম খেলেন হেন্ড। তিন রাউন্ড শেষে মোট ১২ শট কম খেলে স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে গেছেন তিনি।
মোট আট শট কম খেলে দক্ষিণ আফ্রিকার খ্যাতনামা গলফার আর্নি এলসের সঙ্গে যৌথভাবে দ্বিতীয় স্থানে আছেন সিদ্দিকুর। দ্বিতীয় রাউন্ডে সিদ্দিকুরের পেছনে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিলেন তার আদর্শ চারটি মেজর জয়ী এলস।
২০১০ সালে বাংলাদেশের হয়ে একমাত্র এশিয়ান ট্যুর জেতা গলফার সিদ্দিকুর শুক্রবার শেষ চারটি হোলের তিনটিই বার্ডি করে পারের চেয়ে ৫ শট কম খেলে দ্বিতীয় রাউন্ড শেষ করেছিলেন। প্রথম রাউন্ডে পারের চেয়ে ২ শট কম খেলেছিলেন তিনি।
এ মৌসুমে পাঁচটি টুর্নামেন্ট প্রথম দশের মধ্যে থেকে শেষ করেছেন সিদ্দিকুর। এখন তার লক্ষ্য দ্বিতীয় এশিয়ান ট্যুরের শিরোপা জেতা। গত বছরে ম্যাকাওতে তৃতীয় হয়েছিলেন ২৯ বছর বয়সী এই গলফার।
বর্তমানে এশিয়ার ট্যুরের অর্ডার অব মেরিটের দশম অবস্থানে থাকা সিদ্দিকুর বলেন, “২০১০ সালের ব্রুনেই ওপেন যেতার পর আমি কয়েকবার দ্বিতীয়, তৃতীয় ও পঞ্চম হয়েছি। ওই ওপেন জেতার পর আমার আত্মবিশ্বাস বেড়েছে। আমার ক্যারিয়ারে সেটা ছিল একটা গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।” বাংলাদেশে গলফ এখন জনপ্রিয় হয়েছে সিদ্দিকুরের সেই সাফল্যের কল্যাণে। “ছয় বা সাত বছর আগেও গলফ বাংলাদেশে এতটা জনপ্রিয় ছিল না। এখন তা জনপ্রিয় হচ্ছে। এখন ঢাকার সবাই আমাকে চেনে। এটা আমাকে গর্বের অনুভূতি দেয় ও শক্তি যোগায়।”
আর্নি এলসের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করাটা সিদ্দিকুরের এতদিন স্বপ্ন হয়েই ছিল, “আর্নি আমার আদর্শ। আমি তার সঙ্গে খেলার জন্য বহুদিন অপেক্ষা করছিলাম।”
রবিবার শেষ রাউন্ডে এই আর্নি এলসের সঙ্গে পুরো দিন খেলবেন সিদ্দিকুর। তিন জনের দলে ভাগ হয়ে প্রতিটি হোলের খেলা হয়, যে দলের অপর সদস্য শীর্ষে থাকা স্কট হেন্ড।
