শচিনের সাথে খেলতে পারা সম্মানের : ভিভিএস লক্ষণ

আপডেট : ১৯ অক্টোবর ২০১৩, ২২:২৬
খেলোয়াড়ি জীবনে দীর্ঘ ১৬ বছর শচিন টেন্ডুলকারের সঙ্গে একই ড্রেসিং রুম ব্যবহার করতে পারাটাকে সম্মান বোধ করা ভিভিএস লক্ষণ বলেছেন, অবসর নিতে যাওয়া সিনিয়র এ ব্যাটসম্যান ক্রিকেটের চেয়ে নিজকে কখনোই বড় মনে না করার জন্য অবশ্যই স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। ক্রিকেট মাঠে সকল অর্জন করা সত্ত্বেও টেন্ডুলকার কখনো নিজকে আলাদা কিছু ভাবতেন না। হায়দ্রাবাদের স্টাইলিশ এ ব্যাটসম্যান বলেন, ‘শচিন টেন্ডুলকারের কাছ থেকে তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষণীয় বিষয় হলো তিনি কখনো নিজকে ক্রিকেটের চেয়ে বড় মনে করতে না। খেলা ও সতীর্থদের প্রতি তার সম্মান দেখানোটা তাকে বিশেষ কিছু বানিয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘তিনি বিশেষ মেধার অধিকারী এবং সব সময় ক্রিকেটের স্পিরিটের মধ্যে খেলে আসছেন। তিনি সব সময়ই নিজের চেয়ে দলের প্রয়োজনটাকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরেছেন। তিনি যেভাবে ইনজুরি থেকে ফিরে এসেছেন এবং দেশের জন্য খেলেছেন, সত্যিই তা উদ্দীপনার বিষয়। তিনি কেবলমাত্র ক্রিকেটারদেরই সত্যিকারের রোল মডেল নন, একই সঙ্গে সকল ক্রীড়া ব্যক্তিত্বের।’ লক্ষণ আরও বলেন, ‘কেবলমাত্র তার রেকর্ড ও সংগৃহীত রানের জন্যই তার খেলোয়াড়ি জীবন বর্ণাঢ্য নয়, তিনি যেভাবে নিজকে ধরে রেখেছেন এটা খুব সহজ নয়।’ লক্ষণ মনে করেন, ভারতের সকল ক্রিকেটারের মতো তিনি নিজেও টেন্ডুলকারকে আদর্শ মেনে বড় হয়েছেন। সাবেক এ টেস্ট ব্যাটসম্যান বলেন, ‘১৬ বছর তার সঙ্গে খেলতে পেরে সম্মানিত বোধ করছি। নিজের ১৬ বছর বয়স থেকেই তিনি যেভাবে বিশ্বের সেরা বোলারদের অতি সহজে খেলে আসছেন তা দেখেই তাকে আদর্শ হিসেবে মেনে আমি বড় হয়েছি।’ দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ১৯৯৬ সালে নিজের অভিষেক টেস্টে ড্রেসিং রুমে টেন্ডুলকার তাকে স্বাচ্ছন্দ্য বোধে সাহায্য করেছিলেন বলেও উল্লেখ করেন লক্ষণ। তিনি বলেন, ‘আমার অভিষেকের সময় ১৯৯৬ সালে দলের অধিনায়ক ছিলেন শচিন। আমি যাতে ড্রেসিং রুম ও মাঠে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতে পারি তা নিশ্চিত করেছিলেন তিনি।’ শচিনের সঙ্গে বিশেষ মুহূর্তের বিষয়ে জানতে চাইলে লক্ষণ বলেন, বিশেষ একটি মুহূর্ত বের করাটা কঠিন। লক্ষণ বলেন, ‘এক বছরে আমরা ২৫০ দিন বিভিন্ন জায়গায় ভ্রমণ করতাম এবং অনেক সময় আমরা দু’জনে একসঙ্গে কাটিয়েছি। সুতরাং একটি বিশেষ মুহূর্ত খুঁজে বের করাটা আমার জন্য কঠিন। ভারতে তিনি একজন দেবতুল্য এবং তার আকাশে ওড়াটাই স্বাভাবিক। কিন্তু তিনি মাটিতেই আছেন।’ ডান-হাতি বর্ষীয়ান এ ব্যাটসম্যানের মানবিকতার জন্য টেন্ডুলকারের পরিবারকে কৃতিত্ব দেন লক্ষণ। তিনি বলেন, ‘তিনি দুই দশকেরও বেশি সময় যাবত্ খেলে আসছেন। কিন্তু আমরা কখনোই তাকে নিয়ে কোন প্রকার বিতর্ক শুনিনি। তিনি যাতে কেবলমাত্র ক্রিকেটেড মনোনিবেশ করতে পারেন সে বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য তার বাবা-মা, ভাই এবং স্ত্রী অঞ্জুলিকে অবশ্যই ধন্যবাদ দিতে হবে।’ সর্বকালের কিংবদন্তীদের তালিকায় টেন্ডুলকারকে তিনি কোথায় রাখবেন, জানতে চাইলে লক্ষণ বলেন, ক্রিকেটের মঙ্গলের জন্যই তিনি সবার ঊর্ধ্বে। তিনি বলেন, ‘কিংবদন্তীদের তুলনা করাটা কঠিন। তবে শচিন সবার উপরে এবং আমার সময়ে দেখা সেরা ব্যাটসম্যান তিনি।’ সর্বকালের সেরা টেস্ট ব্যাটসম্যানদের একজন হিসেবে বিবেচিত লক্ষণ বলেন, তিনি সব সময়ই মনে করতেন বিশ্বে কেউ যদি ২০০ টেস্ট ম্যাচ খেলতে পারেন তবে সেটা কেবলমাত্র শচিনই। তিনি বলেন, ‘আমি কখনেই চিন্তা কিরিনি যে কোন খেলোয়াড় তার ক্যারিয়ারে ২০০ টেস্ট ম্যাচ খেলতে পারে। তবে একটা বিষয়ে আমি অত্যন্ত নিশ্চিত ছিলাম যে, এটা কেউ পারলে একমাত্র শচিন পারবে। তিনি ঈশ্বরের বর পুত্র। যিনি চাইলে পৃথিবীতে সব সম্ভব। পৃথিবীতে আর কেউ তার পুনরাবৃত্তি করতে পারবে না।’ অবসরের পর ক্রিকেটে কোন ভূমিকাটা টেন্ডুলকারের জন্য উপযুক্ত, জিজ্ঞাসা করা হলে লক্ষণ বলেন, তিনি নিশ্চিত ভারতীয় ক্রীড়াঙ্গনে অবদান অব্যাহত রাখবেন এ মুম্বাইকার। তিনি বলেন, ‘আমি জানি না, কোন অবস্থান থেকে তিনি এটা করবেন। তবে ভারতের ক্রীড়াঙ্গনের সঙ্গে তিনি যুক্ত থাকবেন। তিনি সংসদ সদস্য হওয়ার পর কেন এটা হলেন, আমি তাকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। উত্তরে তিনি বলেছেন, ক্রীড়া ও ক্রীড়া ব্যক্তিত্বদের কল্যাণে তিনি কিছু করতে চান।’ -বাসস