ম্যাচ পাতানোর অভিযোগে পাঁচ বছর নিষিদ্ধ হওয়া পাকিস্তানি ফাস্ট বোলার মোহাম্মদ আমেরের শাস্তির বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করবে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)।
আইসিসির দুর্নীতি বিরোধী নিয়মে কতিপয় পরিবর্তন এনে আমেরের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা হবে বলে শনিবার জানিয়েছে বিশ্ব ক্রিকেটের নির্বাহী সংস্থা।
যদিও আগামী জানুয়ারি মাসে নতুন নিয়ম নিয়ে আলোচনা হবে। তথাপি লন্ডনে দুই দিনব্যাপী আইসিসি বোর্ড সভার পর শনিবার এ বিবৃতি দেয়া হয়। নতুন নিয়ম প্রবর্তিত হতে কিছুটা দেরি হওয়ায় দুঃখ পেতে পারেন আমের।
আইসিসির দেয়া বিবৃতিতে বলা হয়, আইসিসির দুর্নীতি বিরোধী নিয়মকে আরো শক্তিশালী এবং যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে আলোচনা অথবা অনুমোদনের ২০১৪ জানুয়ারির বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে বলে আইসিসি বোর্ডকে জানানো হয়। আলোচনাকালে আমেরের পাঁচ বছরের নিষিদ্ধাদেশের বিষয়টিও উঠে আসে। আইসিসির দুর্নীতি বিরোধী আইনটি চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং প্রয়োগের অপেক্ষায় আছে বিধায় আইসিসি বোর্ড বিষয়টি পুনর্বিবেচনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) তার বিষয়টি আইসিসিতে উত্থাপন করায় আমের কিছুটা স্বপ্ন দেখা শুরু করলেও আইসিসির এমন বিবৃতি তার জন্য কিছুটা হতাশার বটে।
গতকাল আমের বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ক্রিকেট খেলতে আমি মরিয়া, ক্রিকেটকে আমি ভালোবাসি-সুসংবাদ দারপ্রান্তে, তাই আমি আশা হারাইনি। আমের আরো বলেন, আমি একটা ভুল করেছিলাম এবং তার শাস্তি আমি পেয়েছি। আইসিসিতে বিষয়টি তোলার জন্য আমি পিসিবির কাছে কৃতজ্ঞ।
২০১০ সালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে লর্ডস টেস্টে অর্থের বিনিময়ে ইচ্ছাকৃত নো বল করার অপরাধে দুই সতীর্থ খেলোয়াড় সালমান বাট এবং মোহাম্মদ আসিফসহ ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারিতে পাঁচ বছরের জন্য নিষিদ্ধ হন এখন ২১ বছর বয়সী আমের।
এজন্য পাকিস্তানের তত্কালীন অধিনায়ক বাটকে ১০ বছরের (পাঁচ বছর সাসপেন্ড) এবং আসিফকে ৭ বছরের (দুই বছর সাসপেন্ড) জন্য ক্রিকেটে নিষিদ্ধ করা হয়। ইংল্যান্ডের গ্যাম্বলিং এ্যাক্ট ভঙ্গের জন্য তিন জনকেই জেল খাটতে হয়।
তবে বয়স কম থাকায় এ কেলেংকারি ঘটানোর সময় ক্রিকেট বিশ্বের হট কেক বাঁ হাতি পেসার মেধাবী আমেরের প্রতি সকলেই সহানুভূতিশীল ছিলেন।
২০০৯ সালে অভিষেক হওয়ার পর ৩০ গড়ে মাত্র ১৭ টেস্টে ৫১ উইকেট শিকার করে বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেন। ৫১ উইকেটের মধ্যে ২০১০ সালে লর্ডসের কেলেংকারি ঘটানো টেস্টে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৮৪ রানে নেন ৬ উইকেট।
আইসিসি বোর্ড বৈঠকের আগে পিসিবি’র আইন পরামর্শক তাফাজ্জল রিজভি বলেন, নিজের দোষ স্বীকার করা এবং আইসিসির দুর্নীতি বিরোধী এবং সিকিউরিটি ইউনিটকে (আকসু) সার্বিক সহায়তার জন্য আমের প্রশংসা পেতে পারেন।
রিজভি বলেন, আমাদের বিবেচ্য বিষয় হচ্ছে আমের তার দোষ স্বীকার করেছেন এবং আকসুকে সহযোগিতা করছেন। আমরা মনে করি, তাকে যখন এ শাস্তি দেয়া হয় তখন তার বয়স ছিল মাত্র ১৮ বছর।’—বাসস/এএফপি
