‘খেয়াল করেছ কি যে ঈদের রং এখন বদলে গেছে। আগে যার রং ছিল সাদা, এখন তা হয়েছে রঙিন’। এবার ঈদে এরূপ মন্তব্য করলো আমার এক স্বজন বন্ধু। জিজ্ঞেস করলাম, ‘একথা কেন বলছো’? এ প্রশ্নের জবাবে সে বললো—‘দেখো, আগেকার দিনে ঢাকার ঈদগা-য়ে আগত প্রায় সব নামাজীর পরনে থাকতো সাদা পাঞ্জাবি বা জামা। মাথায় সাদা চিশতি টুপি। নামাজীরা সবাই একসাথে সেজদায় গেলে গোটা ঈদগা-র প্রান্তরকে শুভ্র-শ্যামল ধবধবে সাদার একটি সমুদ্রের মতো দেখাতো। এখন বেশির ভাগ নামাজীর পরনে রঙিন পাঞ্জাবি। মাথায় হরেক রকমের ও রংগের বাহারী টুপি। সেজদায় গেলে গোটা ঈদগা আজকাল নানা রঙের বর্ণচ্ছটার প্রান্তর হয়ে ওঠে।
বয়স আমার যখন চার বছর, তখন থেকেই আব্বার হাত ধরে আমার ঈদের নামাজ পড়তে যাওয়া শুরু। একসময় পল্টন ময়দানে ঢাকার প্রধান ঈদ-নামাজ হতো। দু’একবার নবনির্মিত স্টেডিয়ামেও তা হয়েছে। পরবর্তীতে পল্টনে বা স্টেডিয়ামে ঈদের নামাজ বন্ধ হয়ে গেছে। তারপর থেকে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে প্রধান ঈদ-জামাত অনুষ্ঠিত হতো। তখন থেকে সবসময় আমি সেখানেই ঈদের নামাজ আদায় করে থাকি। এখন যদিও প্রধান ঈদ-জামাত হাইকোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগা-তে অনুষ্ঠিত হয়, তথাপি বায়তুল মোকাররমের প্রথম নামাজে শরীক থাকার ট্র্যাডিশন আমি আজ অবধি ত্যাগ করিনি। বৃষ্টি-বাদলের কারণে দু-তিনবার ছাতা মাথায় দিয়ে পাড়ার মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় করতে হয়েছে। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে, জেলে বন্দী থাকার সময় এবং সত্তরের ঘূর্ণিঝড়ের পর ত্রাণ কাজে নোয়াখালির চরবাটায় অবস্থানকালে ঢাকার বায়তুল মোকার্রমে ঈদের নামাজ আদায় করতে পারিনি।
ঈদগা-য় নামাজের প্রতি ছোটবেলা থেকে বিশেষ আকর্ষণ অনুভব করে এসেছি। সেখানে আমির-ফকির, ছোট-বড় সব মানুষ পাশাপাশি দাঁড়িয়ে নামাজ আদায়ের মাধ্যমে সমতা ও সাম্যের যে নিদর্শন স্থাপন করে, সে এক অভিনব দৃশ্য। সেই শিশুবয়স থেকেই মনের কোণে স্বপ্ন জেগে উঠেছিল —সমাজের সবকিছু যদি সবসময় ও সবক্ষেত্রে ঈদগা-র মতো সমতা ও সাম্যময় হতে পারতো, তাহলে কতো ভালই না হতো! ঈদগা-র শুভ্র-শ্যামল সাদায় আচ্ছাদিত মানুষের সমুদ্রের মাঝে অবস্থান নিয়ে সে রূপ স্বপ্ন শিশু বয়সেই আমার মনে স্থান করে নিয়েছিল। শৈশবের সেই উপলব্ধি ও চেতনা আমার ‘সাম্যবাদের’ আদর্শ গ্রহণের পেছনে একটি অন্যতম উপাদন হিসেবে যে কাজ করেছে তা আমি বেশ অনুভব করি।
একসময় এরকমটাই চল ছিল যে পুরুষদের পাঞ্জাবি মানেই সেটা হবে সাদা কাপড়ের পাঞ্জাবি। তা সে সস্তা খাদির কাপড় বা মোটা লংক্লথ দিয়ে তৈরি হোক। কিম্বা হোক সে তৈরি দামী তসরের বা পাতলা পপলিন কি উর্দ্দির কাপড়ের। আজকাল সাদা পাঞ্জাবির চল কমে গেছে। বাজারে এখন অনেক চালু হয়েছে হরেক রকমের রঙিন কাপড়ের পাঞ্জাবি। বিশেষ করে উত্সব উপলক্ষে কিনতে গেলে বাজারে রঙিন পাঞ্জাবির আধিক্যের মাঝ থেকে বেছে নিয়ে তা কিনতে হয়। ফ্যাশন বদলেছে। সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ‘আধুনিকতার’ স্পর্শের সাথে সাথে ফ্যাশনে নতুন হাওয়া যে লাগবে, সেটাই স্বাভাবিক। সময়ের সাথে সাথে ‘আধুনিকতাও’ সদা চলমান। তাই ফ্যাশনও চলমান। এখন রঙিন কাপড়ের পাঞ্জাবির ফ্যাশন চলছে। ফ্যাশন বদলাতে থাকবে। সামনে কোন একসময় সাদা পাঞ্জাবিই যে ফ্যাশন হিসেবে ফিরে আসবে না, সেকথা কেউ বলতে পারে না।
একথা ঠিক যে, একসময় নামাজে সেজদার সময় ঈদগা-কে সাদার সমুদ্র মনে হতো। এখন তাকে বহুবর্ণের রঙিন প্রান্তরের মতো দেখায়। এ থেকে অনেকে এরূপ সিদ্ধান্ত টেনে থাকে যে এর কারণ হলো এখন সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি ঘটায় তারা রঙিন পাঞ্জাবি কেনার মতো সক্ষমতা অর্জন করেছে। বিষয়টি তাদের কাছে যতোটা না ফ্যাশন বা পছন্দ-অপছন্দের বিষয় তার চেয়ে বেশি হলো অর্থনৈতিক সামর্থ্য বৃদ্ধির বিষয়। কিন্তু এ ধরনের সরল সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্কের প্রচুর অবকাশ আছে। এ ক্ষেত্রে কতগুলো অর্থনৈতিক বিষয়ের দিকে দৃষ্টি দিলে বেশ পরিষ্কার হয়ে ওঠে যে বিষয়টি সহজ-সরল রূপের একটি অর্থনৈতিক উন্নতির প্রকাশজনিত ঘটনা নয়’। বর্তমানে সুতির কাপড়ের দাম কৃত্রিম সুতায় তৈরি কাপড়ের চেয়ে বেশি। প্রযুক্তির উন্নতির ফলে কাপড়ে ‘পাকা রং’ করার উপকরণও সহজলভ্য হয়েছে। ফলে সুতির সাদা কাপড়ের চেয়ে রঙিন কাপড়ের উত্পাদন খরচ ও বাজার দর কমে গেছে। তাছাড়া রঙিন কাপড়ের ক্ষেত্রে নানা রঙের সমাহারের মাঝ থেকে পছন্দসই রঙ বেছে নেয়া সম্ভব। সাদা কাপড়ের মতো সেখানে রঙের একঘেয়েমিতে বন্দী থাকতে হয় না। বাজারে তাই সাদা পাঞ্জাবির চেয়ে রঙিন পাঞ্জাবির সরবরাহ ও চল বেশি। দামেও তা কম। তুলনামূলকভাবে আর্থিক সামর্থ্যবানদেরই এখন সুতির বা সিল্কের সাদা পাঞ্জাবি কেনার ক্ষমতা থাকে। গরীব-মধ্যবিত্তদেরকে কৃত্রিম তন্তুর তুলনামূলক সস্তা রঙিন পাঞ্জাবি কিনে সন্তুষ্ট থাকতে হয়।
সাধারণ আয়ের অনেক মানুষের পক্ষে পাঞ্জাবি কেনার অর্থ থাকলেও সাথে পায়জামা কেনার সামর্থ্য থাকে না। দৈনন্দিন কাজে ব্যবহূত প্যান্ট বা ট্রাউজারের ওপর একট পাঞ্জাবি চাপিয়ে তা দিয়েই ঈদ পার করে পরবর্তীকালে তাকেই নিত্য পরিধেয় হিসেবে ব্যবহার করা যায়। ট্রাউজারের ওপরে পরতে হলে সাদা পাঞ্জাবির চেয়ে রঙিন পাঞ্জাবিই অধিকতর উপযুক্ত। কম খরচের ফ্যাশনের পাশাপাশি খরচ কমানোর বিবেচনা থেকে আজকাল ‘শর্ট পাঞ্জাবির’ প্রচলনও ঘটেছে। আরেকটি ছোট বিষয়, যদিও গরীব-মধ্যবিত্তের জন্য তা বিবেচনায় রাখাটা মোটেও তুচ্ছ নয়। সেটি হলো পাঞ্জাবি ধোলাই ও ইস্ত্রি করার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ ব্যয়ের বিষয়টি। সাদা পাঞ্জাবি সহজেই ময়লা হয়ে যায়, তাতে দ্রুতই এদিকে-সেদিকে হঠাত্ দাগ পড়লে তা সহজে চোখে দেখা যায়। তাই সাদা পাঞ্জাবী ধোলাই করার প্রয়োজন হয় বেশি। রঙিন পাঞ্জাবি ময়লা হলেও এবং তার দু’এক জায়গায় দাগ পড়লেও সেটা তেমন চোখে পড়ে না। না ধুয়েই তা দিয়ে চালিয়ে নেয়া যায়। রঙিন পাঞ্জাবির আর্থিক সুবিধা অনেক রকম।
আশির দশকে আমি যখন সক্রিয়ভাবে গ্রামে-গ্রামান্তরে ঘুরে ঘুরে ক্ষেত-মজুরদের আন্দোলন-সংগঠনের কাজ করে বেড়াতাম তখন একবার খেয়াল করলাম যে কিছু ক্ষেতমজুর চিরাচরিত লুঙ্গির বদলে থ্রি-কোয়ার্টার বা হাঁটুর নিচের দিকটা কেটে ফেলে দেয়া প্যান্ট পরে চলাফেরা করছে। প্রথম দৃষ্টিতে স্বাভাবিকভাবে একজনের এমন ধারণা হওয়ারই কথা যে ক্ষেত-মজুরদের আর্থিক অবস্থার উন্নীত হওয়ার কারণেই তারা এখন ‘আধুনিক’ পরিচ্ছদ পরতে শুরু করেছে। কিন্তু খোঁজ নিয়ে জানলাম যে, প্রকৃত সত্য হলো ঠিক তার বিপরীত। বাজারে লুঙ্গির দাম যা, তার অর্ধেক দামে বিদেশ থেকে আসা সেকেন্ড হ্যান্ড প্যান্ট পাওয়া যায়। আর্থিক সামর্থ্য বাড়ার কারণে নয়, বরঞ্চ তা না থাকার কারণেই তারা বাধ্য হয়ে লুঙ্গির বদলে অন্যের ব্যবহূত পুরনো প্যান্ট কিনে পরিধান করছে। দেখতে যা মূল্যবান, তা যে অনেক সময় আসলে দারিদ্র্যেরই প্রকাশ, সে কথাটি অনেক পন্ডিতই সহজে বুঝে উঠতে পারেন না।
আমাদের কৈশোরে বাংলাদেশের ভূখণ্ডের জনসংখ্যা ছিল সাড়ে পাঁচ কোটি। ঢাকা শহরে বাস করতো পনের লক্ষ মানুষ। শহরের আয়তন ছিল সদরঘাট থেকে রমনা পর্যন্ত। সে সময় ঈদের নামাজে পল্টনের অর্ধেকটা পূর্ণ হলেই তাতে আমরা ‘কতো বড় জামাত’ বলে অভিভূত হতাম। এখন ঢাকায় সেই মাপের কয়েক ডজন ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। ঈদের জামাতের চেহারাও সাদা থেকে রঙিন হয়েছে। নামাজীর সংখ্যা বাড়ার স্বাভাবিক কারণ হলো ঢাকায় বসবাসকারীর সংখ্যা পঞ্চাশের দশকের তুলনায় বেড়েছে দশগুণ। ঈদের জামাতে নামাজীর সংখ্যার পাশাপাশি তুলনামূলক বেশিহারে বেড়েছে ভিক্ষুকের সংখ্যা। জাকাতের কাপড়ের জন্য অথবা কোরবানীর মাংসের ভাগ পাওয়ার জন্য অধীর হওয়া নিঃস্ব মানুষের সংখ্যাও বেড়েছে সমান তালে। অল্প এটুকু প্রাপ্তির জন্য পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনা প্রতিবছরই ঘটে চলেছে।
সবমিলিয়ে কথাটি দাঁড়ায় এমন যে, ঈদগার বাহ্যিক রূপে রঙের ছোঁয়া লাগলেও তা সাধারণ দরিদ্র মানুষের জীবনের রঙ বদলানোকে ইঙ্গিত করে না। সমাজে কল্পনাতীত পরিমাণ ঐশ্বর্যের মালিকদের সংখ্যা বেড়েছে। সেই সাথে বেড়েছে লুটপাটের ব্যবস্থার উচ্ছিষ্টের ওপর বিকশিত হওয়া মধ্যবিত্ত শ্রেণির একটি অংশের সংখ্যা। ফিন ফিনে সাদা পায়জামা-পাঞ্জাবি পরিধানের জন্য তাদের বিত্তের অভাব হয় না। তাদের কারো কারো বাত্সরিক আয় কয়েক হাজার কোটি টাকা। কিন্তু তাদের সংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে বেড়েছে দরিদ্র মানুষের সংখ্যাও। পুরোনো প্যান্টের ওপর সস্তা রঙিন পাঞ্জাবি গায়ে দিয়ে তাদেরকে ঈদের জামাতে শরীক হতে হয়। অব্যাহত দারিদ্র্যই আজকালকার ঈদের জামাতকে রঙিন রূপ দিয়েছে।
পরিধেয় বস্ত্রের রঙ সাদা না রঙিন তা দিয়ে যেমন মানুষের আর্থিক সঙ্গতি পরিমাপ করা যায় না, তেমনি তা করা যায় না ‘মাথাপিছু আয়ের’ পরিসংখ্যান দিয়ে। প্রায় সময়ই এ দুটো ‘বাস্তবতাই’ প্রকৃত বাস্তবতা সম্পর্কে প্রতারণামূলক ধারণার জন্ম দেয়। ঈদগার রঙিন হয়ে ওঠার পেছনের প্রকৃত কারণের কিছু বিষয় নিয়ে ইতোমধ্যে আলোচনা হয়েছে। ‘পরিসংখ্যান’ সম্পর্কেও এ প্রসঙ্গে কিছু কথা বলা যেতে পারে। পরিসংখ্যান সম্পর্কে একটি বিখ্যাত উক্তি হলো, ‘সত্যকে আড়াল করার একটি শ্রেষ্ঠ মাধ্যম হলো পরিসংখ্যান’।
সম্প্রতি জানানো হয়েছে যে, বাংলাদেশের জনগণের মাথাপিছু আয় ১০০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। পরিসংখ্যানটি সম্পর্কে অবহিত হওয়ার পর সাধারণ মানুষ এতে উল্লসিত অনুভব না করে পারে না। ‘মাথাপিছু আয়’— অর্থাত্ দেশের ১৬ কোটি মানুষের মধ্যে কোলের শিশু থেকে মৃত্যুপথযাত্রী বৃদ্ধ পর্যন্ত প্রত্যেকে বছরে ১ হাজার ডলার, অর্থাত্ প্রায় ৮০ হাজার টাকা আয় করে। এ তো এক মহাআনন্দের খবর! সাধারণ ধারণা থেকে হিসেব করলে দাঁড়াবে যে, ৫ জনের একটি গড় পরিবারের বাত্সরিক আয় এখন ৪ লক্ষ টাকার কাছাকাছি। অথচ আসল সত্য তা থেকে যে কতো দূরে, সে কথা কে না জানে? গার্মেন্টস শ্রমিকের পারিবারিক বাত্সরিক আয় ১ লক্ষ টাকার মতো। তাদের চেয়ে দরিদ্র পরিবার রয়েছে অনেক। এসব হত-দরিদ্র ৩০-৪০ শতাংশ পরিবারের বাত্সরিক আয় অনেক ক্ষেত্রে তার অর্ধেকের মতো কিছু বেশি হতে পারে। একটু বাড়িয়ে ধরলেও একথা প্রশ্নাতীতভাবে বলা যায় যে, দেশের তিন-চতুর্থাংশ পরিবারের বাত্সরিক আয় ১ লক্ষ টাকার কম। অর্থাত্ দেশের ১২ কোটি মানুষের ক্ষেত্রে মাথাপিছু আয় ২৫০ ডলারের নিচে। অবশিষ্ট এক-চতুর্থাংশের মধ্যে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ক্ষেত্রে মাথাপিছু আয় কোনভাবেই ৪-৫ শ’ ডলারের বেশি হবে না। তাহলে, দেশে বর্তমানে জনগণের মাথাপিছু আয় ১ হাজার ডলার ছাড়িয়ে যায় কিভাবে? পরিসংখ্যানে কি কোন মিথ্যাচার করা হয়েছে?
না! মোট জনসংখ্যার ১ হাজার ডলার মাথাপিছু আয়ের পরিসংখ্যান নির্ভুল হওয়া খুবই সম্ভব। দেশের ১০০ জন মানুষের বাত্সরিক আয় যদি ১৪০ কোটি ডলার করে হয়, আর ১৪ কোটি মানুষের বাত্সরিক আয় যদি হয় মাত্র ২৫০ ডলার করে, তাহলে মোট জনসংখ্যার হিসেবে মাথাপিছু আয় ১ হাজার ডলারের বেশি হওয়াটা অসম্ভব না। মোট জনসংখ্যার ভিত্তিতে মাথাপিছু আয় হিসেব করলে সমাজের বিশাল বৈষম্যের বাস্তবতা আড়ালে পড়ে যায়। ১ হাজার ডলার মাথাপিছু আয়ের পরিসংখ্যানটি সমাজের উচ্চবিত্ত মুষ্টিমেয় ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে কল্পনাতীতভাবে কম (মাত্র ১৪ লক্ষ ভাগের এক ভাগ) এবং তা সমাজের ৯০ শতাংশ মানুষের ক্ষেত্রে চরম বিভ্রান্তমূলকভাবে বেশি (৪ গুণ বেশি) কল্পনাতীত বৈষম্যের এই সমাজ বাস্তবতা সফলভাবে আড়ালে চলে যায় যখন বলা হয় যে দেশবাসীর মাথাপিছু আয় ১ হাজার ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
রঙের চালচিত্র বা পরিসংখ্যানের কারসাজি দিয়ে সমাজের মধ্যে কুিসত রূপে বেড়ে চলা ধন-বৈষম্য ও শ্রেণি-বৈষম্যের বাস্তবতাকে আড়াল করার চেষ্টা হবে নিষ্ফল। কারণ সমাজে স্বাভাবিক বুদ্ধির মানুষের অভাব কখনো ঘটবে না। তাদের সংখ্যা অগণিত। সাম্যের সমাজ নির্মাণের প্রয়াসও তাই থেমে থাকবার নয়।
লেখক: সভাপতি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
E-mail: [email protected]
