তারপরও চারশ রানের লক্ষ্য

আপডেট : ২১ অক্টোবর ২০১৩, ২১:১০
বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেট যারা নিয়মিত অনুসরণ করে থাকেন, তারা মার্শাল আইয়ুবের দারুণ হাসি এবং ছোট ছোট কথার সঙ্গে বেশ পরিচিত। কাল বোঝা গেল, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এসেও সেই মিষ্টি-লাজুক স্বভাবটা তার বদলায়নি। মিরপুর টেস্টের প্রথম দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসে স্বভাবসুলভ ওই ভঙ্গিতে কথা বলতে বলতেই মার্শাল আইয়ুব একটা ব্যাপার অন্তত জোর দিয়ে বলে গেলেন, প্রথম দিনের শেষ বিকেলে আঘাতের পরও তাদের লক্ষ্য প্রথম ইনিংসে অন্তত চারশ’ রান করা। বিকেলের বৃষ্টিতে খেলা থেমে যাওয়ার আগে ২২৮ রান তুলতে ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলেছে বাংলাদেশ দল। এর মধ্যে শেষ সময়ে তামিম ও সাকিবের উইকেট দুটো হারানো যে অনেক বড় ধাক্কা, সেটা মার্শালও স্বীকার করলেন, ‘এমনিতে দিনের খেলা কিন্তু খারাপ হচ্ছিল না। কিন্তু শেষ সময়ে দুটো উইকেট বেশি হারিয়ে ফেলেছি আমরা। সাকিব থাকলে খুব ভালো হত। সাকিব আর তামিমের আউট হওয়াটা একটা ধাক্কা।’ এ ধাক্কার শুরুটা হয়েছিল যথারীতি ওপেনার এনামুল হক বিজয়ের বাজে আউটের মধ্য দিয়ে। তবে আসলে বাংলাদেশ বড় ধাক্কাটা প্রথম খেয়েছে মার্শালেরই আউটে। আরও একবার সেট হয়ে আউট হয়ে গেলেন তিনি। এ নিয়ে আফসোস করার পাশাপাশি দোষটা নিজেকেই দিচ্ছেন মার্শাল, ‘সেট হয়ে গিয়েছিলাম। আমার উইকেটে থাকা উচিত ছিল। আসলে দোষটা আমারই। ওরা এর আগে অফের বাইরে বল করেছে। আমি ভাবতে পারিনি, হঠাত্ এরকম স্ট্যাম্পে বল করবে। ফলে লাইন মিস করেছি।’ অবশ্য মার্শালের এই আউটের পেছনে তার স্বভাববিরুদ্ধ ‘মাথা গরম’ ইনিংসের দায় খুঁজতে পারেন কেউ। মনে হতে পারে বুঝি, চট্টগ্রামের টিকে থাকা ইনিংসের পাল্টা রূপ দেখাতে কাল বেশি আগ্রাসী হয়ে পড়েছিলেন তিনি। কিন্তু মার্শাল বলছেন, এই দুইয়ের কোনো সম্পর্ক নেই। তার মতে, ‘চট্টগ্রামে ভালো বল ওরা বেশি করেছে। ফলে আমাকে টিকে থাকার জন্য লড়তে হয়েছে। এখানে বাজে বল বেশি করেছে, ওপরে ওপরে বেশি বল করেছে। তাই মারতে পেরেছি। কোনো পরিকল্পনা করেই এটা করিনি।’ এমনকি বাংলাদেশ পাঁচ উইকেট হারালেও ওভার প্রতি ৪.১৭ করে রান তুলছে, তাতেও তিনি বলছেন কোনো পূর্ব নির্ধারিত পরিকল্পনা ছিল না, ‘আমাদের মাথায় মেরে খেলবো বা টিকে থাকবো, কোনোটাই ছিল না। আমরা প্লান করেছি, স্বাভাবিক ক্রিকেট খেলবো। যেহেতু মারা বল বেশি ছিল, তাই সবাই মেরেছে।’ কিন্তু এসব কথা বলে তার নিজের ফিফটি থেকে ৯ রান, মোমিনুলের ফিফটি থেকে ৩ রান এবং তামিমের সেঞ্চুরি থেকে ৫ রান দূরে আউট করাটা ঠিক ব্যাখ্যা করা যায় না। মার্শাল নিজেও মানছেন, এই আউটগুলো দলের জন্যই ক্ষতিকর হয়েছে। একবার সেট হয়ে গেলে বড় ইনিংস খেলা উচিত বলে তিনিও স্বীকার করছেন। সেই সঙ্গে নিজেদের পক্ষটাও সমর্থন করছেন, ‘আমরা ইনিংসগুলো বড় করতে পারলে তো ভালোই হত। সেটা হওয়া উচিত ছিল। তামিমের সেঞ্চুরি করা উচিত ছিল। হ্যাঁ, অতো বাইরের বল মারতে গিয়ে আউট হওয়াটা দেখতে খারাপ লাগে। কিন্তু এর আগেই ও যখন একইরকম বলে চার মেরেছে, আমরাই হাতে তালি দিয়েছি। ফলে এটা ব্যাখ্যা করা কঠিন।’ তবে সবকিছুর পরও মার্শাল আশা ছাড়ছেন না। এই বৃষ্টিকে জয় করে এবং প্রতিপক্ষের বোলিংকে হতাশ করে এখনও চারশ’ রানের স্বপ্ন দেখছেন তিনি, ‘বৃষ্টিতে খুশি হওয়ার কারণ নেই। আমরা এখানে খেলতেই এসেছি। এখনও আমাদের পক্ষে ভালো ইনিংস খেলা সম্ভব। আশাকরি, চারশ’ রান অন্তত করতে পারবো।’ স্কোরকার্ড বাংলাদেশ - নিউজিল্যান্ড দ্বিতীয় টেস্ট, মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম টস: বাংলাদেশ বাংলাদেশ ১ম ইনিংস : ব্যাটসম্যান রান বল চার ছয় তামিম ইকবাল ৯৫ ১৫৩ ১৭ ০ এনামুল হক বিজয় ০৭ ১০ ০১ ০ মার্শাল আইয়ুব ৪১ ৬২ ০৬ ০ মমিনুল হক ৪৭ ৫৯ ০৮ ০ সাকিব আল হাসান ২০ ৩২ ০৩ ০ মুশফিকুর রহিম অপ. ১৪ ১২ ০৩ ০ অতিরিক্ত (বাই-২, লেবা-১, ও-১) ৪ বাংলাদেশ প্রথম দিন শেষে ৫৪.৪ ওভারে ২২৮/৫ উইকেট পতন: ১/২৩ (এনামুল), ২/৯০ (মার্শাল), ৩/১৬৬ (মমিনুল), ৪/২০৮ (তামিম), ৫/২২৮ (সাকিব) বোলিং: ট্রেন্ট বোল্ট ১৩-১-৫০-১, ডগ ব্রেসওয়েল ১০-০-৫১-০, নেইল ওয়াগনার ১৩-৩-৪২-২, ইশ সোধি ১১.৪-২-৩৮-১, কেন উইলিয়ামসন ৪-০-৩০-০, কোরি অ্যান্ডারসন ৩-০-১৪-১।