টুুকি টাকি...

আপডেট : ২১ অক্টোবর ২০১৩, ২১:১১
স্কোরবোর্ড বিভ্রাট ক’দিন আগেই গ্যালারির ছাউনি ঝুলে পড়েছিল মিরপুরের হোম অব ক্রিকেটে। এবার টেস্ট ম্যাচ চলাকালে প্রায় ২০-২৫ মিনিট বন্ধই থাকলো ইলেক্ট্রনিক স্কোরবোর্ড। স্কোর দেখা গেলেও মাঠের সরাসরি ভিডিও চিত্র দেখা যাচ্ছিল না। প্রথম সেশনের ঘটনা। শেষমেষ ২০ ওভারের খেলা শেষ হওয়ার পরপর আবারও কোন মতে ‘পূর্ণাঙ্গরূপে’ চালু হয় স্কোরবোর্ড। দ্বিতীয় সেশনেও আবার সেই একই দশা। লাঞ্চের পর হঠাত্ হঠাত্ বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল ‘আধুনিক’ স্কোর বোর্ড। প্রায় সারাদিন এই গোলযোগের মধ্যেই খেলা দেখা গেলো স্টেডিয়ামের। জাগছে মার্শালের ব্যাট টেস্ট অভিষেকটা সুবিধার হয়নি মার্শাল আইয়ুবের। চট্টগ্রাম টেস্টে অভিষিক্ত এই ব্যাটসম্যান প্রথম দুই ইনিংসে রান করেছিলেন যথাক্রমে ২৫ ও ৩১। সফরকারী বোলারদের উইকেট উপহার দিয়ে আসায় ধীরস্থির ইনিংস দুটির অপমৃত্যুই ঘটেছিল। আজ মিরপুর টেস্টে প্রথম দিনের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মকরূপে দেখা গেল অন্য মার্শালকে। আগের দুই ইনিংসে মাত্র দুটি চার ও একটা ছক্কার মার থাকলেও এদিন ইনিংসের শুরু থেকেই হাত খুলে মারেন। একাই মারলেন ছয়টি চার। প্রথম টেস্ট হাফ সেঞ্চুরির দ্বারপ্রান্তে প্রায় পৌঁছেই গিয়েছিলেন। কিন্তু পেসার নেইল ওয়াগনারের দারুণ এক ডেলিভারিতে থেমে গেল তার ইনিংস। আউট হয়ে ফিরে গেলেন ৪১ রান করে। সিট খালি, টিকেট নেই। টিকেট বুথের বাইরে বিশাল লাইন। টিকেট না পেয়ে অনেক দর্শকই বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন। অথচ, লাঞ্চের আগ পর্যন্ত গ্যালারির প্রায় অনেকটা অংশই ফাঁকা। চা বিরতির আগ পর্যন্ত সব মিলিয়ে দর্শকদের সংখ্যা ১০ হাজারের কাছাকাছি। নির্ধারিত বুথে টিকেট না পেয়ে অনেকেই ছুটেছেন কালোবাজারিদের কাছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইফতেশাম আবীর সকাল থেকে টিকেট না পেয়ে লাঞ্চের পর ৫০ টাকার টিকেট কেনেন ১০০ টাকায়। কিন্তু দামের চেয়েও যে নিজের দেশের খেলা দেখার আনন্দটাই মুখ্য সেটা বোঝা গেল তার কথায়, ‘খেলা দেখার সুযোগ পেয়ে অনেক ভাল লাগছে!’ বৃষ্টির বাধা আগের দিনে আবহাওয়ার পূর্বাভাসেই বলা ছিল টেস্টের প্রথম ও দ্বিতীয় দিনে বৃষ্টি হতে পারে। প্রকৃতির চোখ রাঙানী নিয়েই শুরু হয়েছিল ঢাকা টেস্ট। আর লাঞ্চের আগেই আকাশের যে অবস্থা ছিল তাতে মনে হচ্ছিল বৃষ্টি নামাটা কেবলই সময়ের ব্যাপার। কিন্তু সে দফায় বৃষ্টি তো দূরের কথা রীতিমতো রোদ ঝলমলে হয়ে উঠলো মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের আকাশ। শেষ পর্যন্ত বৃষ্টি কেবল নামলোই না, চা বিরতির সাথে সাথে আচ্ছাদন দিয়ে ঢাকতে হলো মাঠ।