সমঝোতা না হলে দেশে সংঘাত
অনিবার্য
সংবিধানে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ও মহান জাতীয় সংসদের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বাতিল করা হয়। তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি একটি অসাংবিধানিক ও অগণতান্ত্রিক হলেও আমাদের প্রধান বিরোধী দল তত্ত্বাবধাযক সরকার পদ্ধতি সংবিধানে পুনঃস্থাপন ও আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন এই পদ্ধতিতে দেয়ার জন্য বিভিন্ন ধরনের আন্দোলন করছে। শুধু তাই নয়, তারা বিদেশিদের কাছে ধরনা দিচ্ছেন সরকারের প্রতি চাপ প্রয়োগের জন্য যা একটি স্বাধীন দেশে কখনোই হওয়া উচিত নয়। বর্তমানে যে রাজনৈতিক সংকট বিরাজ করছে তার জন্য সরকার ও প্রধান বিরোধী দল প্রত্যেকেই দায়ী। আর এর সমাধান তাদেরকেই করতে হবে। এখন দরকার একটি সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান। কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলো যেভাবে চলছে, মনে হচ্ছে সংঘাত অনিবার্য। এ থেকে উত্তরণ জরুরি।
হাবিবুর রহমান
স্নাতক (সম্মান), ইতিহাস,
বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
বর্তমান রাজনীতি আঁধারের পথে, উত্তরণের উপায় নেই কি?
দেশের গণতন্ত্র রক্ষা করার জন্য দুই দলকেই কাজ করতে হবে। এর জন্য চাই আলোচনা বা সমঝোতা। আমরা স্বাধীন দেশের সচেতন নাগরিক। তাই সকল দলকে আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় আসা উচিত। এক্ষেত্রে সরকার বিরোধীদের প্রস্তাব দিতে পারে এতে কোন ক্ষতি হবে না, লাভ হবে। বিরোধী দলের উচিত নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা এবং দেখা উচিত নির্বাচন কতটা সুষ্ঠু হয়। যদি নির্বাচন সুষ্ঠু না হয় তখন আন্দোলন করা উচিত। কেননা আমরা গণতন্ত্রের পূজারী। আমাদের সকল অর্জনই আন্দোলনের ভিতর দিয়ে। তাই সাধারণ নাগরিকরা যাতে সুবিধা বঞ্চিত না হয় সেজন্য সমঝোতায় আসার প্রয়োজন। বর্তমান রাজনীতিকে অন্ধকার থেকে উত্তরণের উপায় ২টি। যথা-(১) প্রধান দুই দল বা সকল দলের সমঝোতা করা। (২) আরেকটি পথ হল “হ্যাঁ” “না” ভোটের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক নাকি নির্দলীয় সরকার দরকার তা জরিপ বা যাচাই করা। আমি মনে করি, এ সকল পদ্ধতি যদি আমরা অনুসরণ করি তাহলে স্বপ্নের ডিজিটাল সোনার বাংলা গড়তে পারব।
কাজী মনির হোসেন
অনার্স ১ম বর্ষ ফাইনাল
নিউ মডেল বিশ্ববিদ্যালয়
সুষ্ঠু নির্বাচনের
স্বার্থে সমঝোতা
জরুরি
বর্তমানে দেশে যে সংকট ঘনীভূত হয়েছে তা একমাত্র নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থাকে নিয়ে। দেশে প্রধান দুই সরকারি ও বিরোধী জোট দুই মেরুতে অবস্থান করছে। একদল বলছে তত্ত্বাবধায়ক, অন্যদল বলছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। সমঝোতা ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। দেশ এক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। যে কোন সময় সংগাত ঘটে যেতে পারে। তাই নির্বাচনকালীন সহিংসতা জনগণের কাম্য নয়। সমঝোতার জন্য অবশ্যই সরকারি দল ও বিরোধী দলকে এগিয়ে আসতে হবে। একদল অন্য দলকে ছাড় দিতে হবে জনগণের স্বার্থে। সংসদের বাইরে ও ভিতরে নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে সমঝোতা অবশ্যই প্রয়োজন বলে মনে করছি।
আ. রহমান
অনার্স ৩য় বর্ষ,
ইংরেজি বিভাগ,
ঢাকা কলেজ,
ঢাকা
সমঝোতার মাধ্যমে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিন
দু’টি দলই তাদের নিজ নিজ সিদ্ধান্তে অটল, কেউ কাউকে ছাড় দিতে প্রস্তুত নয়। উভয় দলই তাদের স্ব স্ব সিদ্ধান্তকে টিকিয়ে রাখার জন্য মনে হয় এক শতবর্ষী মহারণের প্রস্তুতি নিচ্ছে, কিন্তু আপনারা কি একবারও ভেবে দেখেছেন এদেশের সাধারণ জনসাধারণ তাদের মহামূল্যবান ভোট দিয়ে আপনাদের দু’টি দলকে একের পর এক নির্বাচিত করে আসছে, কেন? শুধু এই নাটকীয় মঞ্চ দেখার জন্য, নাকি একটি সুন্দর শান্তিময় বাংলাদেশ দেখার জন্য। তবে আমি মনে করি, আপনারা উভয়ই রাজনীতিতে অনেক বিজ্ঞ। এদেশের সুন্দর ভবিষ্যত্ আপনাদের ন্যূনতম স্বদিচ্ছার উপর নির্ভরশীল। তাই উভয় দলের নেত্রীকে সবিনয় অনুরোধ জানাব, যেন তারা তাদের ব্যক্তিস্বার্থের কথা চিন্তা না করে দেশের জাতীয় স্বার্থের কথা মাথায় এনে সমঝোতার বৈঠকে বসে একটি সুন্দর নিরপেক্ষ এবং সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দেয়।
মো. মঞ্জুরুল হক
এমএস,
হর্টিকালচার
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
