জনগণের খোলা কথা

আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০১৩, ২১:৩২
ক্ষমতায় থাকলে তত্ত্বাবধায়কের দরকার নেই আর ক্ষমতা হারালে দরকার কেন? আমাদের দেশে আদর্শভিত্তিক রাজনীতির অস্তিত্ব লক্ষ করা যায় না, ফলে চাঁদাবাজ ও লুটপাটকারীরা এলাকা দখল, ভূমি দখল, ব্যবসা দখল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় দখল করে রাতারাতি নেতা বনে যায় আর এ সমস্ত দখলবাজদের রাজনৈতিক সুবিধা দিয়ে দলের করায়ত্তে রেখে রাষ্ট্রক্ষমতায় যাওয়া হলো রাজনৈতিক দলগুলোর মূল লক্ষ্য। ফলে সংঘটিত হচ্ছে গুপ্তহত্যা, কথিত রাজনৈতিক হত্যা, এলাকাভিত্তিক সন্ত্রাস ও আধিপত্য বজায় রাখার যুদ্ধ। আদর্শভিত্তিক রাজনীতি ছাড়া পৃথিবীর কোনো দেশ উন্নতি লাভ করতে সক্ষম হয়েছে কিনা আমার জানা নাই। পৃথিবীর মানচিত্রে আমাদের স্বাধীন ছোট্ট একটি ভূখণ্ডে বাস করে প্রায় ১৭ কোটি মানুষ। এখানে সুযোগের চেয়ে চাহিদা এবং সমস্যা বেশি— ভূমির অভাব, সম্পদের অভাব, কর্মক্ষেত্রের অভাব, পরিকল্পনার অভাব। অনুপস্থিত রয়েছে দেশপ্রেম নামক শব্দটি। দেশের যুব/ছাত্র সমাজকে গিলে ফেলেছে মাদক। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়সহ সর্বত্র মাদকের রমরমা ব্যবসা। মা-বাবার স্বপ্নের ঘর ভেঙে চুরমার করে দিচ্ছে মাদক। ঘটনাচক্রে এক ঐশীর কাহিনি জেনেছে দেশবাসী, মরে বেঁচে গেছে তার বাবা-মা, কিন্তু লক্ষ-কোটি ঐশীকে নিয়ে যে তাদের বাবা-মায়েরা ধুঁকে-ধুঁকে মরছে। মাদক ব্যবসাকে নিরাপদ এবং নির্বিঘ্ন করার জন্য জড়িয়ে পড়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের একশ্রেণির নেতা-কর্মী ও সমর্থক। রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়নে নেশাখোরদের ব্যবহারের জন্য ভাড়া করে আনা হয়। ফলে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকারের নামে রাস্তায় চালানো হয় ধ্বংসলীলা—যানবাহন-অফিস-আদালত ভাংচুর, লুটপাট-অগ্নিসংযোগ। আহত/নিহত হয় যাত্রীসাধারণ। আগুন দিয়ে হত্যা করা হয় ড্রাইভারকে। রাস্তায় ফেলে পিটিয়ে হত্যা করা হয় পুলিশকে। নেশার টাকা জোগাড় করতে গিয়ে সমান তালে বেড়ে চলেছে ছিনতাই, চাঁদাবাজি, খুন, চুরি, ডাকাতি, অপহরণসহ নানা সামাজিক অপরাধ। আইনের হাতে ধরা পড়লে নির্লজ্জভাবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয় সে অমুক রাজনৈতিক দলের কর্মী, দোষ চাপানো হয় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ওপর। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা থাকলে এবং জনশক্তিকে কারিগরি শিক্ষা প্রসারের মাধ্যমে সম্পদে রুপান্তর করতে পারলে দেশে প্রচুর বিনিয়োগ বাড়বে। দেশে-বিদেশে প্রচুর কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে। বেকারত্ব দূর হবে। এতে দেশে বিভিন্ন ধরনের জঙ্গিবাদের উত্থান রোধ হবে। মেধা ও সম্পদ পাচার বন্ধ হবে। তাই একে অন্যের দোষ-ত্রুটি না খুঁজে সমস্যার সমাধানে এগিয়ে আসুন। চট্টগ্রাম

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন