অভিযুক্ত ফুটবলারদের কথা শুনল বাফুফে

আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০১৩, ২১:৫৫
এক ক্লাব থেকে আগাম পারিশ্রমিক গ্রহণ করে অন্য ক্লাবে যোগ দেয়ার যে অভিযোগ তুলেছিল মোহামেডান, তার সপক্ষে নিজেদের অবস্থান জানাতে খেলোয়াড়দেরকে ডেকেছিল বাফুফের প্লেয়ার্স স্ট্যাটাস কমিটি। জাহিদ, মামুন মিয়া, নাহিদুল ইসলাম, শরিফুল ইসলাম এবং শাকিল আহমেদ গতকাল সন্ধ্যায় বাফুফে ভবনে প্লেয়ার্স স্ট্যাটাস কমিটির মুখোমুখি হয়ে তারা জানায় কি কারণে মোহামেডান থেকে আগাম পারিশ্রমিক নিয়েও অন্য ক্লাবে যোগ দিয়েছেন। খেলোয়াড়দের দাবি প্রতিশ্রুতি দিয়ে আগাম অর্থ গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তিতে খেলোয়াড়রা মোহামেডান ক্লাব কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করে ব্যর্থ হয়েছেন। জানা গেছে, খেলোয়াড়রা দোষ চাপিয়েছেন মোহামেডানের উপর। তারা নাকি মোহামেডানে খেলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু দ্বিতীয় কিস্তির টাকা সময়মতো না পাওয়ায় আস্থাহীনতা ছিলেন এবং সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছেন বলে কমিটির কাছে জানিয়েছেন খেলোয়াড়রা। পরস্পরের মুখোমুখি করতে কমিটির সামনে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে মোহামেডান কর্মকর্তাকে হাজির করান। মোহামেডান ফুটবল ম্যানেজার আমিরুল ইসলাম বাবু নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, জাহিদ, মামুন মিয়া, শাকিল, নাহিদুলরা যে পারিশ্রমিক চেয়েছেন, সেটাই তাদের চূড়ান্ত করা হয়েছে। আগাম ১০ লাখ টাকা করে নিয়েছেন। এরপর আমি তাদেরকে দ্বিতীয় দফায় প্রতিশ্রুত টাকা দিতে চেয়ে যোগাযোগ করে পাইনি।’ তিনি বলেন, জাহিদকে পাবো বলেই মোবারককে ছেড়ে দিয়েছিলাম। শাকিলকে পাবো বলেই সোহেলকে ছেড়ে দিয়েছিলাম। আমরা ভালো দল গড়ার জন্যই পছন্দের ফুটবলারদের ১০ লাখ টাকা করে দিয়েছিলাম। আমার কথা হচ্ছে, আপনি যদি না খেলতে চান তাহলে আগাম টাকা নেবেন কেন। মাত্র বাড়তি কয়েক লাখ টাকার জন্য চরিত্র বদলে ফেলাটা খুব সুন্দর কিছু না।’ খেলোয়াড়রা বলছেন, আমরা টাকা ফেরত দিতে চেয়েছি। কিন্তু মোহামেডান সেটা গ্রহণ করেনি।’ মোহামেডানের কাছ থেকে টাকা নিয়ে শেখ জামালের শাকিল, শেখ রাসেলে গিয়েছেন। আর রাসেলের জাহিদ, মামুন মিয়া, নাহিদুল মোহামেডানের কাছ থেকে টাকা নিয়ে রাসেলেই থেকে গেছেন। মোহামেডানের শরিফুল আবাহনীতে যোগ দিয়েছেন। তাকে তিন লাখ টাকা আগাম দেয়া হয়েছিল। কিন্তু শরিফুল বলছেন, আমি আগের মৌসুমে তিন লাখ টাকা পেতাম।’ অভিযুক্তদের মধ্যে দু’-একজন ফুটবলার মোহামেডানের পুরনো চেক কমিটির সামনে তুলে ধরলে মোহামেডান ফুটবল ম্যানেজার যুক্তি খণ্ডন করে বলেন, আমরা অতীতে হয়তো কাউকে চেক দিয়েছি। কিন্তু পরে নগদ টাকা দেয়ায় পুরনো চেক আর ফেরত নেয়া হয়নি। সেটাও যদি কেউ ইস্যু করে তাহলে আমাদের কিছু বলার নেই।’ প্লেয়ার্স স্ট্যাটাস কমিটির প্রধান আখতার হোসেন খান এবং তার সাথে ছিলেন অন্য কর্মকর্তা আবদুর রহীম। জানা গেছে, এই কমিটি আবাহনী ও শেখ রাসেলের কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে সিদ্ধান্ত দেবে।