প্রথম দুদিন পর্যন্ত ঢাকা টেস্ট জয়ের স্বপ্নে বিভোর ছিল বাংলাদেশ। কিন্তু গতকাল বুধবার টেস্টের তৃতীয় দিনে সফরকারীদের ব্যাটিং দাপটে সেই আশায় আপাতত মাটি চাপা দিতেই বাধ্য হচ্ছে স্বাগতিকরা। জয় নয়, বাংলাদেশ এবার নামছে ম্যাচ বাঁচানোর লড়াইয়ে। দিনের খেলা শেষে এমনটাই জানালেন নাসির হোসেন।
প্রথম দুদিনের বিবেচনায় তুলনামূলক বেশি খেলা হলেও সারাদিনে উইকেট পড়েছে মাত্র পাঁচটি। আর নিউজিল্যান্ড যোগ করেছে ৩১২ রান। তাই সব মিলিয়ে ম্যাচ থেকে অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছে বাংলাদেশ। তাই বাংলাদেশের সামনে এখন ম্যাচ বাঁচানোই বড় চ্যালেঞ্জ। অবশ্য বাংলাদেশ ম্যাচ বাঁচানোটা খুব সম্ভব বলেই মনে করছে। তৃতীয় দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসে নাসির হোসেন বলেন, ‘ম্যাচের এখনও দুুদিন বাকি। আর সব থেকে বড় কথা হলো টেস্টে প্রতি সেশনেই খেলায় পরিবর্তন আসে। এখনও ম্যাচে অনেক কিছুই বাকি আছি। আশা করি আমরা ম্যাচটা বাঁচাতে পারবো।’
চট্টগ্রাম টেস্টে দারুণ পারফরম্যান্সের পরও ঢাকা টেস্টে এখন ব্যাকফুটে বাংলাদেশ। কেন এভাবে পিছিয়ে পড়লো বাংলাদেশ? এমন প্রশ্নের জবাবে নাসির বলেন, ‘আমরা এগিয়ে ছিলাম উইকেটের কারণে। কিন্তু উইকেট তো তেমন সাহায্য করছে না। শুধু বল যখন নতুন থাকে তখন কিছুটা টার্ন করে। এছাড়া উইকেট থেকে স্পিনাররা খুব একটা সুবিধা পাচ্ছেন না। এখন পর্যন্ত এটা ব্যাটিং উইকেট।’
সেই ব্যাটিং উইকেটে বাংলাদেশের ব্যাটিংটাও ঠিক ভাল হয়নি। এই প্রসঙ্গে নাসির বলেন, ‘প্রথম ইনিংসে আমরা ১০০ রান কম করেছি। আমরা যদি ৪০০ রান করতে পারতাম তাহলে দুদলেরই ফিফটি-ফিফটি সুযোগ থাকতো। আশাকরি দ্বিতীয় ইনিংসে এমনটা হবে না। আর হতাশ তো অবশ্যই।’
তবে, ব্যাটিং ভাল না হবার পিছনে কোন অজুহাত দাঁড় করালেন না এই ক্রিকেটার, ‘উইকেট যথেষ্ট ভাল ছিলো। আমরা সুযোগ কাজে লাগাতে পারিনি। কয়েকজন ব্যাটসম্যানের শট সিলেকশনে ভুলে আমরা ১০০ রান কম করেছি।’
দারুণ চাপ নিয়ে তৃতীয় দিন শেষ করার পরও চাপকে খুব একটা আমলে নিতে চাইলেন না নাসির। নিজেদের স্বাভাবিক খেলা চালিয়ে যাওয়ার কথাই জানালেন তিনি, ‘এই লেভেলের খেলায় চাপ থাকবেই। এই লেভেলে কোন কিছুই সহজ পাবে পাওয়া যায় না। দ্বিতীয় ইনিংসে আমাদের ভাল ব্যাট করতে হবে। প্রথম ইনিংসে আমরা যে সব ভুল করেছি সেটা যদি না হয় তাহলে আমরা একটা ভাল অবস্থানে যেতে পারবো।’
আজকে বাংলাদেশের পরিকল্পনায় নাসির বলেন, ‘প্রথমতো ওদেরকে আমাদের দ্রুত অল আউট করতে হবে। ওদের এখন ১৩৭ রানের লিড। লিড কোনভাবেই ১৬০ রানের বেশি হতে দেয়া যাবে না। এরপর আমরা যদি ৩০০-৩৫০ রান করতে পারি তাহলে ম্যাচে আমাদের ভাল সুযোগ থাকবে। আমাদের শেষ দিন প্রথম সেশন পর্যন্ত খেলতে হবে। এরপর ওদের উপর চাপ দেয়ার জন্য আমরা দুই সেশন সময় পাবো।’
আর সেই চাপ দেয়ার জন্যই প্রয়োজন দলের স্পিনারদের ভাল পারফরম্যান্স। নাসির জানান, আবহাওয়া ঠিক থাকলে আর রোদ উঠলে স্পিনাররা ভাল পারফর্ম করতে পারবেন, ‘রোদ থাকলে উইকেট ফাটতো। ফলে স্পিনাররা সুবিধা পেতো। কিন্তু বৃষ্টির কারণে সেটা হয়নি। বল সুন্দর ব্যাটে আসছে। খেলতে কোন সমস্যা হচ্ছে না। কালও রোদ থাকলে ওদের থেকে আমাদেরই সুবিধা হবে বেশি। কারণ ওদের মাত্র একটা লেগ স্পিনার।’
চট্টগ্রাম টেস্টে দারুণ পারফরম্যান্স করলেও এই টেস্টে এখন পর্যন্ত বলার মতো কোন পারফরম্যান্স নেই সোহাগ গাজীর। তবে, এটাকে বাংলাদেশের পিছিয়ে পড়ার কারণ হিসেবে দেখছেন না নাসির, ‘না সেটা কোন ব্যাপার না। চট্টগ্রাম টেস্টে কিন্তু সাকিব ভাই খুব বেশি উইকেট পাননি, আজ পেয়েছেন। প্রতিদিন সবাই ভাল করতে পারেন না। আজ সাকিব ভাই পারলেন, কাল হয়তো (সোহাগ) গাজী পারবেন।’
প্রথম টেস্টেও দুই ইনিংসে বোলিং করতে এসে নিজের প্রথম ওভারেই বাংলাদেশের জন্য ব্রেক থ্রু এনে দিয়েছিলেন নাসির হোসেন। গতকাল এমনটা না হলেও শেষ সেশনে একটি উইকেট ঠিকই পেয়েছেন নাসির। নিজের বোলিং নিয়ে কথা বলতে গিয়ে নাসির বলেন, ‘মুশফিক ভাই আমাকে বোলিংয়ে নিয়ে আসে ব্রেক থ্রু’র জন্য। উইকেট পেলে আমি নিজেই বলি যে আমি আর বোলিং করবো না।’
স্কো র কা র্ড
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস : ২৮২ (তামিম ৯৫, মার্শাল ৪১, মমিনুল ৪৭, সাকিব ২০, মুশফিক ১৮, নাসির ১৯, সোহাগ ১৪, রাজ্জাক ১৩; নেইল ওয়াগনার ৫/৬৪, সোধি ৩/৫৯)।
নিউজিল্যান্ড প্রথম ইনিংস : (দ্বিতীয় দিন শেষে ১০৭/৩)
ব্যাটসম্যান রান বল চার ছক্কা
ফুলটন এলবিডব্লিউ ব সাকিব ১৪ ৪৩ ২ ০
রাদারফোর্ড ক মমিনুল ব সাকিব ১৩ ৪২ ১ ০
উইলিয়ামসন ক তামিম ব রাজ্জাক ৬২ ৫১ ০৬ ০
রস টেলর ক নাসির ব সাকিব ৫৩ ৭৯ ০৫ ০
ম্যাককালাম ক রুবেল ব সাকিব ১১ ১৭ ২ ০
অ্যান্ডারসন ক সোহাগ ব আল আমিন ১১৬ ১৭৩ ১৩ ২
জন ওয়াটলিং অপরাজিত ৫৯ ১৫৬ ০৪ ০
ব্রেসওয়েল ক মুশফিক ব সাকিব ১৭ ৪৫ ০২ ০
ওয়াগনার ক মার্শাল ব নাসির ০৮ ২৬ ০১ ০
ইশ সোধি অপরাজিত ৫৫ ৬৭ ০৫ ০
অতিরিক্ত (বাই ৪, লেগবাই ৪, ওয়াইড ২, নো ১) ১১
মোট (১৩৩ ওভারে, আট উইকেটে) ৪১৯
উইকেট পতন : ১/৩১ (রাদারফোর্ড), ২/৩২ (ফুলটন), ৩/১০১ (ম্যাককালাম), ৪/১২৭ (টেলর), ৫/২৬৭ (উইলিয়ামসন), ৬/২৮৭ (অ্যান্ডারসন), ৭/৩১৮ (ব্রেসওয়েল), ৮/৩৩৫ (ওয়াগনার)।
বোলিং: আল-আমিন ১৬-৩-৫৮-১, সোহাগ গাজী ৩৪-৮-৭৭-০, সাকিব ৪০-১৩-৯৭-৫, রাজ্জাক ১৯-১-৮৪-১, রুবেল ১৮-১-৮১-০, নাসির ৩-১-৭-১, মমিনুল ৩-০-৭-০।
