পাকিস্তানীতে পাকিস্তান বধ

আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০১৩, ২১:৩৩
লেগ স্পিনার ইমরান তাহিরের ক্যারিয়ার সেরা পাঁচ উইকেট দখলের নৈপুণ্যে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে চলতি সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টের উদ্বোধনী দিনে পাকিস্তান তাদের প্রথম ইনিংসে মাত্র ৯৯ রানেই গুটিয়ে গেল। মামুলি এ সংগ্রহটি অবশ্য দক্ষিণ আফ্রিকা প্রথম দিনেই ছাড়িয়ে গিয়ে ২৯ রানে এগিয়ে থাকে। গতকাল বুধবার থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে শুরু হওয়া এ টেস্টটিতে স্বাগতিক দলের এমন নাকাল দশায় সুবিধায় থাকলো সিরিজে পিছিয়ে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকা। পাকিস্তানী বংশোদ্ভূত এ স্পিনার ৩২ রানে উইকেট পাঁচটি তুলে নেন। তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন আবার ফিট হয়ে ওঠা পেসার ডেল স্টেইন (৩/৩৮)। ফলে ৩৬.৪ ওভারেই সর্বস্বান্ত হয় অধিনায়ক মিসবাহ উল হকের দল। দুই ম্যাচের সিরিজে এ টেস্টে জয় পেলে সমতা ফেরাতে পারবে অধিনায়ক গ্রায়েম স্মিথের দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট দল। সফরকারীরা স্টাম্প তোলার আগে কাল প্রথম ইনিংসে তিন উইকেটে ১২৮ রান করে। তখন ক্রিজে অপরাজিত ছিলেন অধিনায়ক গ্রায়েম স্মিথ (৬৭) ও ডেল স্টেইন (৩)। অফ স্পিনার সাঈদ আজমল একাই নেন দুই উইকেট। দুবাই স্টেডিয়ামে পাকিস্তানই টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কিন্তু ব্যাটিং বিপর্যয়ের ফলে বুধবার সেঞ্চুরির চেয়ে এক রান দূরে থাকতেই প্যাভিলিয়নে ফিরে যায় পাকিস্তানী ব্যাটসম্যানরা। আগের টেস্টেই দক্ষিণ আফ্রিকাকে সাত উইকেটে হারানো দলটি এদিন এতটাই বিপদে পড়েছিল যে নয় নম্বর ব্যাটসম্যান বাবরের অপরাজিত ২৫ রান হলো তাদের দলের সর্বোচ্চ সংগ্রহ। পাকিস্তানী ইনিংসে যে ছয়টি বাউন্ডারির দেখা মেলে তার মধ্যে তিনটি ছিল বাবরের। এছাড়া শান মাসুদ করেন ২১ রান। তাহির ২০১১ সালের নভেম্বরের পর এই প্রথম কোন টেস্ট খেললেন। তার আগের সেরা সংগ্রহ ছিল ৩/৫৫। ২০১১ সালে জোহানেসবার্গে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে এ নৈপুণ্য দেখিয়েছিলেন তিনি। তিনি ওপেনার শান মাসুদ, মিসবাহ (২) ও আকমলকে (০) কেবল ১১টি বল ছুঁড়েই বিদায় করে দেন। এদের বিদায়ে লাঞ্চের সময় পাকিস্তানের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৬০/৬। স্টেইন গত রবিবার কুচকির ইনজুরিতে পড়ার পরও খেলার ছাড়পত্র পেয়ে ওপেনার খুররম মানজুরকে খেলার দ্বিতীয় বলেই ক্রিজ ছাড়া করেন। স্টেইনের আউট সুইঙ্গারে গালিতে ক্যাচ দেন আগের টেস্টেই ১৪৬ রান করা এই ওপেনার। যদিও এদিন তিনি কোন রানই করতে পারেননি। অপরদিকে প্রোটিয়া বোলারটিকে তার ইনজুরি নিয়ে কোন সমস্যা পোহাতে দেখা যায়নি। কেননা এরপর তার বলে বিদায় নেন ইউনিস খান (১০)। অথচ পিচটি ব্যাটিং উপযোগী বলেই মনে হচ্ছিল। পরে দক্ষিণ আফ্রিকার তোলা রানও তেমনটাই জানান দেয়। আজহার আলি এরপর মরনে মরকেলের বলে এলবিডব্লিউ হওয়ার আগে মাসুদের সাথে দ্বিতীয় উইকেটে ৩৮ রান করেন। তার সংগ্রহ ১৯। তাহিরকে মেরে খেলতে গিয়ে উইকেট বিসর্জন দেন মাসুদ। স্টেইন দ্বিতীয় দফায় বল করতে এসে নেন ইউনিসের উইকেটটি। চলতি বছরে পাকিস্তানের সবচাইতে সফল ব্যাটসম্যান মিসবাহ তাহিরের একটি গুগলি বুঝতে না পেরে আউট হন। এরপর বাদবাকি ব্যাটসম্যানরা আসা যাওয়ার মধ্যেই ছিলেন। তারপরও পাকিস্তানের সংগ্রহ যে একশ’ ছুঁই ছুঁই হয় তাতে অবদান ছিল শেষ উইকেটে বাবর ও জুনাইদ খানের তোলা ৩৩ রানের পার্টনারশিপের কারণে।