সাকিব গতকালের পারফরম্যান্সের আগে ২০১১ সালের ডিসেম্বরে পাকিস্তানের বিপক্ষে ঢাকাতেই সর্বশেষ ইনিংসে পাঁচ উইকেট দখলের নৈপুণ্য দেখিয়েছিলেন। এরপর মাঝের দুই বছরে আর সাকিবসুলভ বোলিং দেখা যায়নি
আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে জানতে চাওয়া হয়েছিল তিন উইকেট পাওয়ার পর স্বস্তিবোধ হচ্ছে কিনা? সাকিব আল হাসান সরাসরি জানিয়ে দিয়েছিলেন, স্বস্তি বোধ করার কোন কারণ নেই। তবে মুখে যাই বলুন, গতকাল নিশ্চিতভাবেই স্বস্তিটা পেয়েছেন টেস্ট র্যাংকিংয়ে শীর্ষ এই অলরাউন্ডার। কারণ প্রায় দুই বছর পর আবার ইনিংসে পাঁচ উইকেট শিকার করলেন তিনি।
সাকিব গতকালের পারফরম্যান্সের আগে ২০১১ সালের ডিসেম্বরে পাকিস্তানের বিপক্ষে ঢাকাতেই সর্বশেষ ইনিংসে পাঁচ উইকেট দখলের নৈপুণ্য দেখিয়েছিলেন। এরপর মাঝের দুই বছরে আর সাকিবসুলভ বোলিং দেখা যায়নি । সর্বশেষ অর্জনটির পর গত পাঁচ টেস্টে পেয়েছেন মাত্র ১২ উইকেট, আর সাতটি ওয়ানডে খেলে সমানসংখ্যক উইকেট; কাজেই সাকিব-ম্যাজিকটা অনুপস্থিতই ছিল।
এর মাঝেই উত্থান ঘটেছে সোহাগ গাজীর; চট্টগ্রাম টেস্টে ইতিহাসের প্রথম ক্রিকেটার হিসাবে একই টেস্টে করেছেন হ্যাটট্রিক ও সেঞ্চুরি। এসেছেন মমিনুল হক, ধারাবাহিক রান পেয়ে ক্রমেই হয়ে উঠেছেন দলের অন্যতম মূল সদস্য। কিছুদিন আগে সাকিব নিজেই বলছিলেন, দলে এখন চার-পাঁচ জন ধারাবাহিকতা দেখানো পারফরমার আছে। এর ফলে বড় রকমের সমর্থন পাচ্ছেন নিয়মিতরা। কিন্তু নিয়মিতদের একজন সাকিবই পারছিলেন না নিজেকে মেলে ধরতে।
অবশেষে পারলেন সাকিব। পারফরম্যান্সের খরা কাটিয়ে ঢাকার মাঠেই আবারও জ্বলে উঠলেন তিনি। আগের দিনই গড়েছেন অনন্য এক রেকর্ড। দেশের মাটিতে সর্বোচ্চ টেস্ট উইকেট শিকারীদের তালিকায় সাবেক স্পিনার মোহাম্মদ রফিককে পিছনে ফেলে উঠে এসেছেন শীর্ষে। আর এবার ক্যারিয়ারে দশমবারের মতো নিলেন পাঁচ উইকেট। এখানেই শেষ হচ্ছে না, রেকর্ড বুকে আরেকবার যুক্ত হল সাকিবের নাম। ইতিহাসের মাত্র ১৪তম ক্রিকেটার হিসাবে টেস্টে দুই হাজারের উপর রান ও ১০ বার পাঁচ উইকেট পাওয়ার কীর্তি গড়লেন তিনি।
তিন উইকেট আগের দিনেই পেয়েছিলেন। গতকাল সকালে তুলে নিলেন রস টেলরের উইকেট। হাফ সেঞ্চুরি করার এক বল বাদেই সাকিবের বলে স্লিপে নাসিরের ক্যাচ হয়ে আউট হয়ে যান টেলর। দিনের দ্বিতীয় উইকেটের জন্য সাকিবকে অপেক্ষা করতে হল আরও প্রায় দুই সেশন। চা বিরতির পর উইকেটের পিছনে অধিনায়ক মুশফিকের ক্যাচে পরিণত হয়ে ফেরালেন ডগ ব্রেস ওয়েলকে। ব্যস, হয়ে গেল পাঁচ উইকেট।
প্রথম ইনিংসে ব্যাটিং দিয়ে নিজেকে ফিরে পেয়েছেন তামিম। এবার তারই ধারাবাহিকতায় স্বরূপে ফিরলেন সাকিব আল হাসান। শেষ পর্যন্ত এই পারফরম্যান্সের ধারা অব্যাহত থাকলেই হয়!
