রবার্ট লেভানডভস্কির খেলা শেষের বাঁশি বাজার কিছুক্ষণ আগে দেয়া গোলে স্বাগতিক আর্সেনালকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে বিপক্ষের মাঠে মহামূল্যবান এক জয় পেয়েছে বরুশিয়া ডর্টমুন্ড। গত মঙ্গলবার উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের অন্য খেলায় লিওনেল মেসি ইনজুরি কাটিয়ে মাঠে ফিরে গোল পেলেও দলকে জেতাতে পারেননি। তবে স্প্যানিশ তারকা ফার্নান্দো তোরেসের দুই গোলে জিতে সুবিধাজনক অবস্থায় আছে চেলসি।
আর্সেনাল এমিরেটস স্টেডিয়ামে হেরে যাওয়ায় ‘এফ’ গ্রুপে ইংলিশ ক্লাবটির পাশাপাশি নেপোলি এবং ডর্টমুন্ডের পয়েন্টও দাঁড়ালো সমান ছয় করে। এদিকে বার্সেলোনার সাথে ১-১ গোলে ড্র করে নিজেদের মাঠ স্যান সিরোতে টানা তিন ম্যাচে স্প্যানিশ জায়ান্টদের সাথে অপরাজিত থাকলো এসি মিলান। চেলসি ৩-০ গোলে শালকে জিরোফোরকে এবং নেপোলি অলিম্পিক ডি মার্সেইকে ২-১ গোলে পরাজিত করে।
ডর্টমুন্ডকে ১৬ মিনিটে এগিয়ে দেন হেনরিক মাখটেরিয়ান। লেভানডভস্কির পাস থেকে পেনাল্টি এরিয়ার বল পেয়ে গোলটি করেন তিনি। পিছিয়ে পড়ে আর্সেনাল নিজেদের ফিরে পাওয়ার লড়াই চালিয়ে যায়। তারই পুরস্কার পায় ৪১ মিনিটে। রামসের লম্বা একটি পাস থেকে ফ্রেঞ্চ ডিফেন্ডার বাকারি সাগনার ক্রস বরুশিয়া ডিফেন্ডার নেভেন সাকোটিচ কোন রকমে ক্লিয়ার করলেও গোল রক্ষক রোমান ওয়েইডেনফেলার বেরিয়ে এসে আটকাতে ব্যর্থ হন।
সেই সুযোগে অলিভার গেরুদ চলতি মৌসুমে নিজের সপ্তম গোলটি করে স্বাগতিকদের পক্ষে সমতা ফেরান। কিন্তু ম্যাচ শেষের আট মিনিট আগে স্বপ্ন ভঙ্গ হয় ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষে থাকা দলটির। একই গ্রুপের অপর ম্যাচে নিজেদের মাঠে ন্যাপোলির কাছে হেরেছে অলিম্পিক ডি মার্সেলি। এই হারের পর গ্রুপের তিন ম্যাচেই পরাজিত হয়ে ফরাসি ক্লাবটি পয়েন্টের খাতা খুলতে পারলো না।
চেলসি ‘ই’ গ্রুপের ম্যাচে জার্মান ক্লাব এফসি শালকে জিরো ফোরকে ৩-০ ব্যবধানে পরাজিত করার সুবাদে এখন গ্রুপের শীর্ষ দল । শালকে এবং চেলসি উভয়ের পয়েন্ট ছয় করে হলেও গোল ব্যবধানে এগিয়ে আছে কোচ হোসে মরিনহোর দলটি। খেলা শুরুর পাঁচ মিনিটের মাথায় ব্র্যানিসলাভ ইভানোভিচের ভলিকে হেডের মাধ্যমে গোলপোস্টে জড়িয়ে দিয়ে এগিয়ে দেন ইংলিশ ক্লাবটিকে।
এরপর ৬৮ মিনিটে অস্কারের পাসে গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এই স্প্যানিয়ার্ড স্ট্রাইকার। ম্যাচের ৮৭ মিনিটে স্বাগতিকদের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন মিডফিল্ডার এডেন হ্যাজার্ড। একই গ্রুপের অপর ম্যাচে স্টুয়া বুখারেস্ট নিজেদের মাঠে বাসেলের সাথে ড্র করেছে। লিগে আগের দুই ম্যাচের দুটিতেই পরাজিত হয়েছিল বুখারেস্ট। এই ড্রয়ের ফলে লিগে প্রথম পয়েন্ট পেল রোমানিয়ার ক্লাবটি। ম্যাচের ৪৮ মিনিটে মার্সেলো আলফনসোর গোলে এগিয়ে যায় বাসেল। তবে শেষ বাঁশি বাজার দুই মিনিট আগে লেনদ্রো টাটুর গোলে সমতা ফেরায় স্বাগতিকরা।
অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদ ‘জি’ গ্রুপে অষ্ট্রিয়া ওয়াইনের বিপক্ষে ৩-০ ব্যবধানের বড়ো জয় তুলে নিয়েছে। এই জয়ের ফলে স্প্যানিশ ক্লাবটি লিগে তিন ম্যাচের সবকটিতে জয় নিয়ে গ্রুপের শীর্ষ দল। এই ম্যাচে দিয়াগো কস্তা দুটি গোল করে তাকে নিয়ে ব্রাজিল এবং স্পেনের টানাটানির কারণটা বুঝিয়ে দিয়েছেন আরো একবার। ম্যাচের আট মিনিটের মাথায় রাউল গার্সিয়া অ্যাথলেটিকোকে এগিয়ে দেন। পরে ২০ এবং ৫৩ মিনিটে কস্তা দুটি গোল করে সফরকারীদের জয় নিশ্চিত করেন। একই গ্রুপের অপর ম্যাচে জেনিট সেন্ট পিসার্টবার্গ পোর্তকে ১-০ গোলে পরাজিত করেছে। এই জয়ের ফলে জেনিট ‘জি’ গ্রুপে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে।
বার্সেলোনা এসি মিলানের সাথে ১-১ গোল ড্র করলেও গ্রুপের শীর্ষেই আছে। খেলা শুরুর নয় মিনিটের মাথায় মিলান এগিয়ে যায়। পেনাল্টি বক্সের মধ্যে কাকার পাসে গোল করেন আরেক ব্রাজিলিয়ান তারকা রবিনহো। তবে এর ১৫ মিনিটের মধ্যেই আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার পাস থেকে বল পেয়ে সমতা ফেরান লিওনেল মেসি। এই গোলের সুবাদে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে মিলানের বিপক্ষে এই আর্জেন্টাইনের গোল সংখ্যা ছয়।
মেসি উরুর ইনজুরি থেকে ফিরে চ্যাম্পিয়ন্স লিগেও গোল করলেন। এরপর রবিনহো স্বাগতিকদেরকে এবং আদ্রিয়ানো কোরিয়ে কাতালানদেরকে এগিয়ে দেয়ার সুযোগ পেলেও কাজে লাগাতে পারেননি। পুরো ম্যাচে এর পর আরো কয়েকটি সুযোগ পেলেও কোনো দল তা কাজে লাগাতে পারেনি। ম্যাচের ৬৪ মিনিটে মারিও বালোতেল্লি আদ্রিয়ানোর বদলি হিসেবে নামলেও দলের জন্য বিশেষ কিছু করে দেখাতে পারেননি।
তবে বিশ্বের অন্যতম সেরা ক্লাবের বিপক্ষে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করে মিলানের কোচ মাসিমিলিয়ানো আলেগ্রি বলেন, ‘দলের সার্বিক পারফরমেন্সে আমি দারুণ খুশী। ভুল, খেলারই একটি অংশ। আর বার্সেলোনার বিপক্ষে গোল খাওয়াটা অপ্রত্যাশিত কিছু নয়। বার্সেলোনার বিপক্ষে ম্যাচে সবসময়ই পুরো মাঠ জুড়ে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হয়। আজকের রাতেও আমাদের অতিরিক্ত কৌশল নিয়েই মাঠে নামতে হয়েছিল।’
অপরদিকে এই ম্যাচে জয়ী হতে পারলেই শেষ ১৬ অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে যেত কাতালানদের। সেই সুযোগ হাতছাড়া হওয়ায় অনেকটা হতাশ বার্সা কোচ জেরার্ডো মার্টিনো বলেন, ‘এটা আমাদের জন্য দারুণ একটি পয়েন্ট ছিল। কিন্তু পুরো ৯০ মিনিটের পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে ম্যাচে আমরাই বেশি সুযোগ পেয়েছি।’
এই ড্রয়ের পরও তিন ম্যাচে সাত পয়েন্ট নিয়ে ‘এইচ’ গ্রুপের শীর্ষে অবস্থান করছে মার্টিনোর দলটি। পাঁচ পয়েন্ট নিয়ে বার্সার পরেই আছে মিলান।
