২০২০ টোকিও অলিম্পিকে জাপানের লক্ষ্য শীর্ষস্থান

আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০১৩, ২১:৩৪
জাপান সর্বশেষ ১৯৬৪ সালে অলিম্পিক আয়োজন করেছিল। সেবার ১৬টি স্বর্ণপদক নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে ছিল স্বাগতিক দেশটি। ৩৬ এবং ৩০টি করে স্বর্ণ নিয়ে যথাক্রমে প্রথম এবং দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তত্কালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন। ২০২০ সালে আবারো অলিম্পিকের আয়োজন করবে জাপান। আগেরবার না পারলেও স্বাগতিক হিসেবে নিজেদের অলিম্পিকের ইতিহাসে সর্বকালের সেরা পদক জয়ের লক্ষ্য স্থির করেছে দেশটি। আর এই লক্ষ্যের কথা ক্রীড়াবিদদের মধ্যে ছড়িয়ে দেবার প্রচেষ্টাও শুরু করে দিয়েছে দেশটি। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন ঘরের মাঠের সুবিধা যদি জাপান আদৌ পেতে চায় তবে এর পিছনে কর্তৃপক্ষকে বিশাল অর্থ ব্যয় করতে হবে। ঐতিহ্যগতভাবেই দেখা গেছে, স্বাগতিক দেশ হিসেবে পদক তালিকায় নিজেদের প্রমাণের সুযোগ সবারই থাকে। আয়োজক হওয়ার এই সুযোগটাও নিতে চায় জাপান। গত বছর লন্ডন অলিম্পিকে বৃটিশ অ্যাথলেটরা ২৯টি স্বর্ণপদক জয় করেছিল। ২০০৮ সালে বেইজিংয়ে বৃটিশদের অর্জন ছিল ১৯টি স্বর্ণ। বর্তমানে জাপানের খেলাধূলা দেখাশোনার দায়িত্বে নিয়োজিত আছে দেশটির শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তারা চাচ্ছে ২০২০ টোকিও গেমসে জাপান অবশ্যই ৭০-৮০টি পদক জয় করবে যার মধ্যে ২৫-৩০টি স্বর্ণ থাকতে হবে। সাম্প্রতিক সময়ে গেমসের ফলাফল বিবেচনায় এই পদক জয়ে জাপান পদক তালিকায় তৃতীয় থেকে পঞ্চম স্থানে থাকতে পারবে। মধ্যম মেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে জাপানীজ অলিম্পিক কমিটি (জেওসি) এই পরিসংখ্যানের কথা জানিয়েছে। কাজটা যে সহজ হবে না সেটাও বুঝতে পারছেন জাপানী স্পোর্টস সমাজতত্ত্ববিদ টোশিও সায়েকি, ‘বিষয়টি অত্যন্ত কঠিন। জাপানের আগে ক্রীড়াক্ষেত্রে এগিয়ে থাকা এশিয়ার শীর্ষ দুই পরাশক্তি চায়না এবং দক্ষিণ কোরিয়াও নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে। কিন্তু শীর্ষ পর্যায়ের লক্ষ্য এখন থেকেই যদি স্থির করা হয় তবে তা অর্জনে খেলোয়াড়দের কঠোর পরিশ্রমের তাগিদ দেবে।’ তবে এর জন্য আগামী সাত বছরের মধ্যে অ্যাথলেটদের প্রস্তুত করে তুলতে হলে অনুশীলনের উপর বিশেষ জোর দিতে হবে। আর এক্ষেত্রেই সর্বাধিক ব্যয়ের প্রয়োজন রয়েছে। সায়েকির মতে, জাপান এমন একটি দেশ যেখানে ক্রীড়াক্ষেত্রের বাজেট খুবই কম। ১৯৯৬ সালের আটলান্টা গেমসে মাত্র একটি স্বর্ণ জয়ের পরে লন্ডন গেমসে স্বাগতিক হিসেবে বৃটেন ২৯টি স্বর্ণপদক জয় করেছিল। এই বিশাল সাফল্য কেবলমাত্র ক্রীড়াবিদদের সঠিক অনুশীলনের জন্যই সম্ভব হয়েছিল। চার বছর অনুশীলনের পিছনে বৃটেন ২৬৪ মিলিয়ন পাউন্ড ব্যয় করেছিল। ২০১০ এ ভ্যানকোভারে অনুষ্ঠিত শীতকালীন অলিম্পিকে কানাডা ১১৭ মিলিয়ন কানাডিয়ান ডলার ব্যয় করেছিল। ঐ গেমসে তারা ১৪টি পদক জয় করে তালিকায় শীর্ষস্থান দখল করেছিল। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ক্রীড়া ক্ষেত্রে টোকিও শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রায় ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি বাজেট প্রস্তাব করেছে। কিন্তু এর প্রায় অর্ধেক অর্থই ব্যয় হবে ৮০ হাজার ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন নবনির্মিত জাতীয় স্টেডিয়াম নির্মাণের পিছনে। এটাই হবে টোকিও অলিম্পিকের মূল ভেন্যু। এখন পর্যন্ত অতিরিক্ত কোন অর্থ দেয়ার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের নেই। যদিও প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে এ ব্যাপারে ইতোমধ্যেই সংশ্লি¬ষ্টদের আশ্বস্ত করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর এই আশ্বাস থেকে ক্রীড়াবিদরা অনুপ্রেরণা পেতেই পারেন।