দুজনের বাড়ি বাংলাদেশের দুই প্রান্তে। খেলার ধরনেও বিশেষ মিল নেই। তারপরও তামিম ইকবাল ঘোষণা দিয়ে দিলেন, মমিনুল হকই বাংলাদেশের আরেক সাকিব আল হাসান! মমিনুল তার ক্যারিয়ারে সাকিবের কোন কোন রেকর্ড ভাঙবেন, সেটা সময়ই বলে দেবে। কিন্তু একটা দিক থেকে তিনি ছাড়িয়ে গেলেন বাংলাদেশের তাবত্ ব্যাটসম্যানদের। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা টেস্টের চতুর্থ দিনে ক্যারিয়ারের মাত্র পঞ্চম টেস্টেই পেলেন দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। বাংলাদেশের মাত্র দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে গড়লেন টানা দুই টেস্টে সেঞ্চুরী করার অনন্য কীর্তি।
এখানেই শেষ নয়, রেকর্ড বুকে আজ কয়েকবার আসলো তার নাম। দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে বাংলাদেশের হয়ে এখন তিনিই সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। এর আগে ২০১০ সালে ইংল্যান্ড সফরে তামিম ইকবাল দুই টেস্টে করেছিলেন ২৬৮ রান। সিরিজে এখন পর্যন্ত মমিনুলের সঞ্চয় ৩৭৬। আর মাত্র তিন রান হলেই তিনি ছাড়িয়ে যাবেন সাবেক অধিনায়ক ও বর্তমান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমনকে। ২০০৩ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজে সুমন করেছিলেন ৩৭৯ রান। একদিক থেকে অবশ্য হাবিবুল বাশারকে ছাড়িয়েই গেলেন মমিনুল। পাকিস্তান সিরিজেই সুমন ৪৫ বার বল বাউন্ডারি ছাড়া করেছিলেন। তাকে পার করে আজ একই সিরিজে ৫৪ টি চার মারার রেকর্ড গড়লেন মাত্র ক্যারিয়ার শুরু করা এই ক্রিকেটারটি।
তিলকারত্নে দিলশান ২০০৮-০৯ মৌসুমে বাংলাদেশে এসে দুই টেস্টে করেছিলেন ৩৬৬ রান। মমিনুল এদিন তাকেও টপকে হয়ে গেলেন বাংলাদেশের মাটিতে দুই টেস্টে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। আর ক্যারিয়ারের প্রথম পাঁচ ম্যাচে বাংলাদেশিদের মধ্যে সর্বাধিক রানের রেকর্ডটাও এখন মমিনুলের। এতোদিন ৩৫৭ রান করে সেটা ধরে রেখেছিলেন হাবিবুল বাসার।
এমন সূচনা যে কোন ব্যাটসম্যানের জন্যই স্বপ্নের মতো। এমন শুরুটা ধরে রাখা সম্ভব হবে তো? তামিম ইকবাল বলছেন সম্ভব, ‘মানুষের কাছে যখন সাফল্য আসে তখনই কিন্তু মানুষ ভুল পথে হাঁটে। যখন সাফল্য আসে না তখন কিন্তু রং পথে হাঁটে না। আমার মনে হয় না ও ওরকম ধরনের ছেলে, যে সাফল্য এলে হ্যান্ডেল করতে পারবে না। এসব নিয়ে ও খুব কম চিন্তা করে। আমার কাছে সাকিব (আল হাসান) আর ওকে একই রকম মনে হয়। দুজনই একই মানসিকতার মানুষ। একই ধরনের কথাবর্তা বলে। দুজনের কোচও একই। ওর সমস্যা হবে না।’ মমিনুল কাল সকালে যখন ক্রিজে নামেন সেসময়ে অনেক চাপে বাংলাদেশ। ১৫৫ রানে পিছিয়ে থাকা বাংলাদেশ ৫৫ রান তুলতেই খুইয়েছে দুই উইকেট। সেই অবস্থাতেই তামিম ইকবালের সাথে জুটি বেঁধে তৃতীয় উইকেট জুটিতে যোগ করলেন ১৫৭ রান। এটাই এখন টেস্টে তৃতীয় উইকেট জুটিতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড। তামিম আউট হয়ে যাওয়ার পর সাকিব আল হাসানের সাথে আসলো আরও ৫৭ রান। ফলে দিন শেষে বাংলাদেশ ১১৪ রানে এগিয়ে থাকলো নিউজিল্যান্ডের চেয়ে। তার আগুনেই প্রতিপক্ষকে জ্বলতে হল সবচেয়ে বেশি। নিউজিল্যান্ডের পিটার ফুলটনও সেটাই বললেন, ‘ও সারাদিন অনেক ভাল ব্যাট করেছে। প্রথম টেস্টের পর আমাদের পরিকল্পনা ছিল ওকে সোজাসুজি বল দেয়ার। কিন্তু ও অনেক ধৈর্য নিয়ে খেলেছে। বাজে বলগুলো বাউন্ডারি ছাড়া করেছে। তাকে আমাদের কুর্নিশ করতেই হচ্ছে।’
পাঁচ ম্যাচের টেস্ট ক্যারিয়ারে ৫৮৪ রান নিয়ে আজ মমিনুল যখন মাঠে নামবেন সেসময় একদিকে থাকবে আর কেবল তিন রান করেই হাবিবুল বাশারকে ছাড়িয়ে যাওয়ার তাড়না, অন্যদিকে দলের ব্যবধান যতটা সম্ভব বাড়ানোর দায়িত্ব।
এই দুইয়ের সমন্বয় ঘটলে এই টেস্টটা হয়ে যাবে মমিনুলেরই।
মমিনুলের যতো রেকর্ড
দ্বিতীয় বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান হিসেবে সিরিজে ৩০০’র উপর রান (৩৭৬*)
--
দ্বিতীয় বাংলাদেশি হিসেবে সিরিজে দ্বিতীয় সেঞ্চুরি
--
সিরিজে একজন বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানের সর্বোচ্চ
চার (৫৪*)
--
বাংলাদেশের মাটিতে যেকোন ব্যাটসম্যানের টেস্ট সিরিজে সর্বোচ্চ রান
--
প্রথম পাঁচ টেস্টে একজন বাংলাদেশীর সর্বোচ্চ
রান (৫৮৪*)
