গোল উত্সবের রাতে দুরন্ত ইব্রা-রোনালদো

আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০১৩, ২১:৪৭
আগামী মাসে ব্রাজিল বিশ্বকাপের জন্য ইউরোপিয়ান প্লে অফে মুখোমুখি হচ্ছে পর্তুগাল-সুইডেন। জাতীয় দলের জার্সি গায়ে মাঠে নামার আগে নিজেদের নখে শান দেয়ার কাজটি ভালভাবেই সেরে নিলেন দুই দলের দুই সেরা অস্ত্র ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো এবং জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ। আর তাদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সেই গত বুধবার রাতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে জয় পেয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ এবং প্যারিস সেন্ট জার্মেই। রাতের অন্যান্য ম্যাচে প্রত্যাশিত জয় পেয়েছে শিরোপাধারী বায়ার্ন মিউনিখসহ সবগুলো বড় দল। আন্ডারলেখটের কন্সট্যান্ট ভ্যানডেন স্টোক স্টেডিয়ামে ইব্রাহিমোভিচের প্রথম গোলটি আসে ম্যাচের সপ্তদশ মিনিটে। সতীর্থ ভ্যান ডার উইলের দারুণ এক পাস থেকে প্রতিপক্ষের গোলমুখ খোলেন এই সুইডিশ। এর মিনিট পাঁচেক পরেই উইলের বানানো বলেই ম্যাচের এবং নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন ইব্রা। তবে তার তৃতীয় গোলে কৃতিত্ব দাবী করতে পারবেন না আর কেউই। বক্সের বাইরে গোলবারের ত্রিশ গজ দূর থেকে নেয়া ৩২ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকারের বুলেট গতির শটটি স্বাগতিক গোলরক্ষক থমাস কামিনিস্কির তাকিয়ে দেখা ছাড়া আর কিছুই করার ছিল না। ৩৬ মিনিটে এই গোলের মাধ্যমেই হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন ইব্রাহিমোভিচ। এরপর দ্বিতীয়ার্ধে আরেকটি গোল করে নাম লেখান চ্যাম্পিয়ন্স লিগের এক ম্যাচে চার গোল করা খেলোয়াড়দের সংক্ষিপ্ত তালিকায়। এর আগেই অবশ্য পিএসজিকে তাদের চতুর্থ গোলটি এনে দেন আরেক স্ট্রাইকার এডিনসন কাভানি। দারুণ এই জয়ের ফলে সি গ্রুপে তিন ম্যাচে নয় পয়েন্ট নিয়ে সবার উপরে উঠে গেল লিগ ওয়ান চ্যাম্পিয়নরা। পয়েন্টের পাশাপাশি দ্বিতীয় স্থানে থাকা দলটির চেয়ে গোলের হিসেবেও তারা এগিয়ে আছে ১১ গোলের বিশাল ব্যবধানে। আগের মৌসুমে কোয়ার্টার ফাইনালে বিদায় নিলেও এ মৌসুমে আরো ভালো কিছু করারই ইঙ্গিত দিচ্ছে ফরাসি ক্লাবটি। ইব্রাহিমোভিচের বিশ্বাস সেই আরো ভালোটা হচ্ছে শিরোপা। পিএসজিকে শিরোপার অন্যতম দাবীদার দাবী করে প্রায় সাড়ে ছয় ফুট লম্বা এই স্ট্রাইকার বলেন, ‘স্বাভাবিকভাবেই আমি আনন্দিত। (আগের মৌসুমের তুলনায়) আমরা আরো শক্তিশালী। আমাদের দারুণ কিছু খেলোয়াড় আছে এবং আমাদের সামর্থ্য আছে শিরোপা জেতার। তবে মনে রাখতে হবে আপনি যতোই সামনের দিকে এগোবেন প্রতিযোগিতা ততই কঠিন হতে থাকবে। এখানে আমার প্রথম মৌসুম দারুণ কেটেছে। তবে এ মৌসুমটাকে আমি আরো উপভোগ করছি।’ এদিকে ইব্রার উত্সবের রাতে কিছুটা হলেও আলো কেড়ে নিয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের পর্তুগীজ সুপারস্টার রোনালদো। বিশ্বের সবচেয়ে বেতনধারী এই ফুটবলারের দুই গোলেই ব্লাঙ্কোসরা তীব্র উত্তেজনাপূর্ণ এক ম্যাচে ২-১ গোলে হারিয়েছে সিরি এ চ্যাম্পিয়ন জুভেন্তাসকে। দলবদলের বাজারে অবাধে টাকা ঢেলেও রিয়াল কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পাচ্ছে না, জুভেন্তাস অধিনায়ক জিয়ানলুইগি বুফনের এমন মন্তব্যে খেলার আগেই সৃষ্টি হওয়া বাড়তি উত্তাপটা পুরোপুরিই টের পাওয়া যাচ্ছিল সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতেও। আক্রমণ আর পাল্টা আক্রমণে দারুণ উপভোগ্য এই ম্যাচে জিততে পারতো যে কোন দলই। তবে ব্যবধান গড়ে দেন সেই রোনালদোই। ম্যাচের শুরুতেই অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়ার কাছ থেকে পাওয়া বলকে কাজে লাগিয়ে দলকে এগিয়ে দেন চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় এ মৌসুমে তিন নম্বরে থাকা এই তারকা। এরপর লরেন্তের গোলে জুভেন্তাস সমতায় ফিরলেও দলকে আবারো এগিয়ে দেন রোনালদো। ম্যাচের ২৯ মিনিটে পেনাল্টি থেকে করা এই স্ট্রাইকারের দ্বিতীয় গোলই গড়ে দেয় ম্যাচের ভাগ্য। আর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুদেই রোনালদোকে কনুই চালানোর অপরাধে জুভেন্তাস ডিফেন্ডার জর্জিও চিলিয়ানি দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে পরাজয় মেনে নিয়েই মাঠ ছাড়তে বাধ্য হয় সফরকারিরা। এই জয়ের ফলে তিন ম্যাচে পূর্ণ নয় পয়েন্ট নিয়ে ডি গ্রুপে সবার উপরে আছে রিয়াল। আর পারফরম্যান্স নয়, বরং শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে পূর্ণ পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারাকেই বড় করে দেখছেন রিয়াল কোচ কার্লো অ্যানচেলোত্তি। নিজের সাবেক ক্লাবের বিরুদ্ধে জয়ের পর এই ইতালিয়ান বলেন, ‘আমরা হয়তো আরো ভাল খেলতে পারতাম। তবে জয় পাওয়াটাই দিন শেষে আসল ব্যাপার। আমরা বরাবরের মতোই আত্মবিশ্বাসী এবং ক্রমেই আমরা উন্নতির দিকে যাচ্ছি। ম্যাচের প্রথম ঘন্টায় আমাদের পারফরম্যান্স ছিল দারুণ যদিও শেষ দিকে ততটা নয়। এমন ম্যাচে আপনাকে প্রাপ্ত সুযোগগুলো কাজে লাগাতে হবে। দারুণ দুটি সুযোগ পেয়েও আমরা কাজে লাগাতে পারিনি। তবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হচ্ছে ম্যাচের ভারসাম্য আমাদের হাতে ছিল।’ এদিকে এই ম্যাচ দিয়েই রিয়ালের মূল একাদশে ফেরা অধিনায়ক ইকার ক্যাসিয়াসের কণ্ঠেও ছিল সতীর্থদের প্রশস্তি। পাশাপাশি তার কণ্ঠে ছিল ধারাবাহিকতা ধরে রাখার তাগিদও। বিশ্বকাপজয়ী এই গোলরক্ষক বলেন, ‘(নকআউট) পর্বে উত্তরণের দিকে গুরুত্বপূর্ণ একটা পদক্ষেপ ছিল এটি। যদিও এটা মোটেই সহজ ছিল না। তিন ম্যাচ শেষে আমাদের হাতে এখন নয় পয়েন্ট আছে। এখন আমাদের চেষ্টা করতে হবে গ্রুপ পর্বে কোন ম্যাচ যেন না হারতে হয়।’ এদিকে রোনালদোর মতোই দলের জয়ে বড় অবদান রেখেছেন বায়ার্নের প্রাণভোমরা ফ্রাঙ্ক রিবেরিও। ১৯৭১ সালের পর প্রথমবারের মতো ভিক্টোরিয়া প্লাজানের মুখোমুখি হওয়া বুন্দেসলিগা চ্যাম্পিয়নরা শেষবারের মতোই এবারও প্রতিপক্ষকে ভাসিয়েছে গোলবন্যায়। বিয়াল্লিশ বছর আগে সেই ম্যাচে ৭-১ গোলে জেতা বায়ার্ন বুধবার রাতে আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় জিতেছে ৫-০ গোলে। রিবেরির পা থেকে এসেছে দুই গোল। সার্জিও আগুয়েরোর দুই গোলে ম্যানচেস্টার সিটি ২-১ গোলে হারিয়েছে সিএসকেএ মস্কোকে। আর ইনিগো মার্টিনেজের আত্মঘাতি গোলে সিটির নগর প্রতিদ্বন্দ্বী ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ১-০ গোলে হারিয়েছে রিয়াল সোসিয়েদাদকে। এক নজরে বুধবার রাত বায়ার লেভারকুজেন ৪-০ শাখতার ডোনেটস্ক ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ১-০ রিয়াল সোসিয়েদাদ গ্যালাতাসারেই ৩-১ এফসি কোপেনহেগেন রিয়াল মাদ্রিদ ২-১ জুভেন্তাস আন্ডারলেখট ০-৫ প্যারিস সেন্ট জার্মেই বেনিফিকা ১-১ অলিম্পিয়াকোস সিএসকেএ মস্কো ১-২ ম্যানচেস্টার সিটি বায়ার্ন মিউনিখ ৫-০ ভিক্টোরিয়া প্লাজান