দুর্দান্ত ফর্মে থাকা সেরেনা উইলিয়ামস প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ইস্তাম্বুলে ডব্লিউটিএ চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালে পা রেখেছেন। শেষ চারের লড়াইয়ে মহিলা এককের নাম্বার ওয়ান গত বৃহস্পতিবার ৬-২, ৬-৩ গেমে উড়িয়ে দিয়েছেন পেত্রা কোভিতভাকে। যদিও ম্যাচের প্রথম সেটে সেরেনার সার্ভে টানা তিনবার পয়েন্টের সম্ভাবনা সৃষ্টি করা কোভিতভা ঐ সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে ফলটা অন্যরকমও হতে পারতো। এ জয়ের ফলে অবিশ্বাস্য এক মৌসুমে সেরেনা তার জয়ের রেকর্ডকে টেনে নিয়ে গেলেন ৭৬-৪ এ।
ইস্তাম্বুলে এই টুর্নামেন্টে ২০০৯ এবং ২০১২ সালে নিজের সর্বশেষ দুই অংশগ্রহণে একবারের জন্যও হারেননি সেরেনা। আর চলতি বছরে সেরেনার যে ফর্ম তাতে তাকে কে হারাবেন সেই প্রশ্ন উঠতেই পারে। সেরেনার সেই দুর্দমনীয় রূপটিই আরেকবার দেখলেন কোভিতভা। প্রথম সেটে বেশ কয়েকবারই ব্রেক পয়েন্টের সম্ভাবনা জাগিয়েও শেষ পর্যন্ত সমর্থকদের হতাশ করেন এই চেক। আর তার সুযোগ নিয়ে মাত্র দুটি পয়েন্ট খুইয়েই সেট জিতে নেন উইলিয়ামস বোনদের ছোটজন। এরপর দ্বিতীয় সেটে প্রতিপক্ষকে উড়িয়ে দিয়ে পা রাখেন রাউন্ড রবিন পদ্ধতিতে আয়োজিত এই টুর্নামেন্টের সেমিতে।
প্রত্যাশিত এই জয়ের পরেও সেরেনা যথারীতি পঞ্চমুখ ছিলেন প্রতিপক্ষের প্রশংসায়। ৩২ বছর বয়সী এই আমেরিকান বলেন, ‘আমি যখন কোন শীর্ষ বাছাই বা কোভিতভার মতো গ্রান্ড স্ল্যাম জয়ী কোন খেলোয়াড়ের মুখোমুখি হই তখন সতর্কই থাকি। কারণ ম্যাচ শুরুর আগেই আমি জানি আমাকে সেখানে কঠিন কোন পরিস্থিতির মুখে পড়তে হতে পারে। সুতরাং এখানে মনোযোগী হবার কোন বিকল্প নেই। আমি আজ সেটাই করেছি। আর এই ম্যাচে নিজের এই বিষয়টিই আমাকে আনন্দিত করেছে।’
এদিকে হেরে গেলেও নিজের পারফরম্যান্সে সন্তোষই ঝরেছে কোভিতভার কণ্ঠে। পারফরম্যান্সের চাইতে এই হারের পেছনে সারাবছরের ধকলকেই দায়ী করেছেন তিনি, ‘আমার মনে হয় সে দারুণ খেলেছে। তবে বলতেই হচ্ছে, এই সারফেস আমার মোটেই প্রিয় নয়। তবে এটা কোন অজুহাত হতে পারে না। কারণ, সবাইকে একই কোর্টে খেলতে হচ্ছে। আসলে সারা মৌসুম জুড়ে খেলতে খেলতে আমি ক্লান্ত। মনে হচ্ছিল খেলার জন্য আমার গায়ে বোধহয় কোন শক্তিই অবশিষ্ট নেই। তবে তারপরও আমি আমার সেরাটাই ঢেলে দিতে চেয়েছি। কিন্তু এ বছরটাতে আসলে কোন কিছুই ঠিকভাবে হচ্ছে না।’ এই ম্যাচে হেরে গেলেও সেমিতে ওঠার সুযোগ শেষ হয়ে যায়নি তিন নম্বর বাছাই কোভিতভার। গতকালই অনুষ্ঠিত হয়ে যাওয়া ম্যাচে অ্যাঞ্জেলিক কারবারকে হারাতে পারলে এতক্ষণে সেমিতে সেরেনার সঙ্গী হয়েছেন তিনি।
