বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান উন্নয়ন অন্বেষণ’র এক অর্থনৈতিক পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, দেশের বাণিজ্য শর্ত ধীরে ধীরে কমে যাওয়ায় অর্থনীতিতে কাঠামোগত প্রতিকূলতা সৃষ্টি হচ্ছে। এ অবস্থায় যদি কার্যকরী পদক্ষেপ না নেয়া হয় তবে আগামীতে বাণিজ্য শর্ত আরো কমে অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে ।
জানা গেছে, বাণিজ্য শর্ত কোন দেশের আমদানি পণ্যের সাপেক্ষে রপ্তানি পণ্যের আপেক্ষিক দাম নির্দেশ করে। ২০১০-১১ অর্থবছরে বাণিজ্য শর্ত ৭০ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে কমে ২০১১-১২ অর্থবছরে ৭০ দশমিক ১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি এক প্রক্ষেপণে বলেছে যে, যদি দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়া হয় বাণিজ্য শর্ত আগামী বছরগুলোতে আরো হ্রাস পেয়ে ২০১২-১৩, ২০১৩-১৪ এবং ২০১৪-১৫ অর্থবছরে যথাক্রমে ৬৯ দশমিক ২, ৬৮ এবং ৬৬ দশমিক ৭ শতাংশে দাঁড়াতে পারে। উন্নয়ন অন্বেষণ’র মতে, অপেক্ষাকৃত কম মূল্য সংযোজনকারী রপ্তানি পণ্য ও অধিক মূল্য সংযোজনকারী আমদানি পণ্যের পার্থক্য বেড়ে যাওয়ায় বাণিজ্য শর্ত ধীরে ধীরে কমছে। বাণিজ্য শর্ত ক্রমাগত নিম্নমুখী হওয়ায় দিন দিন মূলধন দেশের বাইরেও চলে যাচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এডহক ভিত্তিতে নীতি গ্রহণ প্রক্রিয়া থেকে দ্রুত বেরিয়ে এসে স্বল্প ও মধ্যমেয়াদী অর্থনৈতিক কাঠামো পরিবর্তনকারী কর্মসূচি গ্রহণের জন্য প্রতিষ্ঠানটি আহ্বান জানিয়েছে। উন্নয়ন অন্বেষণ’র মতে, আর্থিক প্রণোদনা, ভর্তুকি এবং কর অবকাশ সুবিধা দেয়ার পাশাপাশি প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, সংযোজন এবং উচ্চমূল্যের ম্যানুফ্যাকচারিং দ্রব্য উত্পাদনের মাধ্যমে বাণিজ্য শর্ত হ্রাসকে রোধ করা যাবে। পাশাপাশি রাজস্ব ও আর্থিক নীতির মধ্যেও সমন্বয় দরকার।
বাণিজ্য উদারীকরণের সাথে সাথে বাণিজ্য শর্ত হ্রাস পাচ্ছে, যা উদারীকরণের যথার্থতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে বলে পর্যালোচনায় উল্লেখ করা হয়। ২০০১-০২ অর্থবছর থেকে ২০১২-১৩ অর্থবছরের মধ্যে বাণিজ্য উদারীকরণ সূচক ২০১২-১৩ অর্থবছরে সর্বোচ্চ ৪৯.৯ শতাংশে দাঁড়ায়।
উন্নয়ন অন্বেষণ মনে করে প্রবাসীদের প্রেরিত অর্থ বৃদ্ধি ও আমদানি ব্যয় কমার ফলে চলতি বাণিজ্য ভারসাম্য বৃদ্ধি পেয়েছে। এদিকে উদ্বৃত্ত বাড়ার পেছনে আরেকটি কারণ হলো শিল্পের কাঁচামাল এবং মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি হ্রাস। যা শিল্প খাতের জন্য ইতিবাচক নয়।
