ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার পঞ্চম ওয়ানডেটি গতকাল শনিবার কটকে ভেজা ‘আউটফিল্ডের’ কারণে পরিত্যক্ত হয়। এর আগে রাচিতে চতুর্থ ম্যাচটিরও একই পরিণতি হয়েছিল। ফলে সাত ম্যাচের সিরিজে বর্তমানে ১-২ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকা স্বাগতিক ভারত বড় জোর শেষ ম্যাচে জিতে সমতা ফেরাতে পারে।
এদিকে ভারতের সাবেক অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলি অস্ট্রেলিয়ার সাথে ওয়ানডে সিরিজটি শেষ হওয়ার পর যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ফর্মহীন বিরেন্দর শেবাগ ও পেসার জহির খানকে জাতীয় দলে ফেরানোর পরামর্শ দিয়েছেন। নির্বাচকরা ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে দুই টেস্ট সিরিজের জন্য মঙ্গলবার দল ঘোষণা করতে পারেন। কোলকাতার ইডেন গার্ডেনে ৬-১০ নভেম্বর এবং মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্ট্রেডিয়ামে ১৪-১০ নভেম্বর টেস্ট দুইটি অনুষ্ঠিত হবে।
গাঙ্গুলি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস পত্রিকার সঙ্গে এক সাক্ষাত্কারে বলেন, তিনি মনে করছেন আগামী এক বছর কিংবা এমন সময়ের জন্য বিদেশে টেস্ট সফরে শেবাগ-জহিরকে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি নির্বাচকদের বিবেচনা করা উচিত।
তিনি বলেন, ‘অনতিবিলম্বে অবশ্যই তাদের ফিরিয়ে আনতে হবে। ভুলে গেলে চলবে না, বিদেশের মাটিতে ভারত ১৩টি টেস্ট ম্যাচ খেলবে এবং সেসব কন্ডিশনের সঙ্গে পরিচিত এবং অভিজ্ঞ খেলোয়াড় দলে প্রয়োজন। শেবাগ-জহিরের সে যোগ্যতা আছে।’
উভয় খেলোয়াড়ই দলে ফেরার আপ্রাণ চেষ্টা করছে; কিন্তু গাঙ্গুলি মনে করছেন- ঘরোয়া ক্রিকেট এ দুই অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের বিচারের মানদণ্ড হতে পারে না।
তিনি বলেন, ‘ঘরোয়া কিংবা প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেট দিয়ে শেবাগের মতো খেলোয়াড়কে বিচার করা উচিত নয়। টেস্ট রেকর্ড দিয়ে তাকে বিচার করা উচিত।’
সম্প্রতি ওয়েস্ট ইন্ডিজ ‘এ’ দলের বিরুদ্ধে চার ইনিংসে সাত উইকেট নিয়ে দলে ফেরার ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে ভাল অবস্থানে আছেন জহির। গাঙ্গুলি বলেন, ‘এখনো ভারতের হাতে থাকা সেরা বোলার জহির। বল হাতে সে অনেক কিছুই করতে পারে।’
আগামী মাসে ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে নিজের ২০০তম ও বিদায়ী টেস্ট খেলা ৪০ বছর বয়সী শচিন টেন্ডুলকার যুগের পর ব্যাটিং অর্ডারে চার এবং ছয় নম্বর পজিশনে ভাল কাউকে সেট করা দরকার বলে মনে করছেন গাঙ্গুলি। তিনি এ দুইটি পজিশনে রোহিত শর্মা ও সুরেশ রায়নাকে সমর্থন করেন।
সব সময়ই যুবরাজ সিংয়ের বড় ভক্ত গাঙ্গুলি বলেন, নির্দিষ্ট করে বলেন ২০১৫ বিশ্বকাপে তাকে দরকার, ‘সে একজন ম্যাচ জয়ী খেলোয়াড় এবং তাকে বাদ দেয়া যাবে না। যুবরাজকে অবশ্যই দলে দরকার।’ এছাড়া উভয় ঘরানার ক্রিকেটেই বাংলার পেসার মোহাম্মদ সামিকে সমর্থন করেন সাবেক অধিনায়ক। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে চতুর্থ ওয়ানডে ম্যাচে সামি ক্যারিয়ার সেরা (৩/৪২) নৈপুণ্য দেখান। এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘সামি একইভাবে টেস্টের জন্যও প্রস্তুত।’ —বাসস
