বাংলা দ্বিতীয়পত্র

সমান গুরুত্ব দাও বিরচন ও ব্যাকরণ উভয় অংশেই

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০১৩, ১৯:২৪
প্রিয় ছাত্রছাত্রী, শুভেচ্ছা নিয়ো। বাংলা দ্বিতীয়পত্র এবার নতুন আঙ্গিকে সাজানো হয়েছে। গতবছর পর্যন্ত ১০০ নাম্বারের পরীক্ষা হলেও এবারই ৫০ নাম্বার বরাদ্দ রয়েছে এ বিষয়টির জন্যে। রচনামূলক অংশে ৩০ যার মধ্যে রচনায় থাকবে ১০; ভাবসমপ্রসারণে ৫ সারাংশ/সারমর্মে ৫ চিঠিপত্রে ৫ অনুচ্ছেদ লিখন /অনুধাবন দক্ষতা যাচাই-এ ৫। পুরো ব্যাকরণ অংশ থেকে এবার ২০ নাম্বার থাকবে। বহুনির্বাচনী প্রশ্নের উত্তর হলো বেশি নম্বর পাওয়ার সিঁড়ি। এবার বানান, অভিধানসহ বেশ কিছু বিষয় নতুনভাবে পাঠ্যে এসেছে। সেদিকে খেয়াল রাখবে এবং প্রতিটি বিষয়কেই গুরুত্বের সাথে নিতে হবে। এ অংশে ভালো প্রস্তুতি মানেই পুরো নাম্বার অর্জন করা যাবে সহজেই। নৈর্ব্যক্তিকে টিকচিহ্ন দিতে হবে। রচনামূলক অংশের বড় জায়গা জুড়ে আছে প্রবন্ধ ও রচনা। প্রয়োজনীয় কোটেশন ও কবিতার লাইন সংযোজন করবে। বোর্ডের রচনা বইটিকে অবশ্যই মূল ভিত্তি হিসেবে ধরে নিয়ে কিছু প্রাসঙ্গিক আলোচনা অন্য রচনার বই থেকে সংগ্রহ করবে। এবার রচনায় ‘সংকেত’ দেয়া হতে পারে। ভাবসমপ্রসারণ অবশ্যই তিন প্যারায় লিখতে হবে। প্যারার নাম উল্লেখ না করাই ভালো। ভাব-সমপ্রসারণ ১৫০ শব্দের মধ্যে লেখা বাঞ্ছনীয়। সারাংশ বা সারমর্ম পড়বে। সহজ, সরল ও প্রাঞ্জল ভাষায় লিখবে। উদাহরণ, দৃষ্টান্ত, উপমা বর্জন করবে। মূলের কথাগুলো সরাসরি লিখবে না। চিঠিপত্র পুরোনো ও আধুনিক— যেকোনো নিয়মেই লেখা যায়, তবে বোর্ডের রচনা বইটি অনুসরণ করবে। ব্যক্তিগত, আবেদনপত্র ও নিমন্ত্রণ/আমন্ত্রণ পত্র—এ তিনটি নিয়ম অবশ্যই আত্মস্থ রাখবে। অনুচ্ছেদ লিখনের ক্ষেত্রে অবশ্যই বাংলা প্রথমপত্র বইয়ের বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দিবে। এ অংশ একটি নতুন সংযোজন অতএব উত্তরের ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক ভাষা ও গঠনমূলক বাক্য ব্যবহার করবে। অনুধাবন দক্ষতা যাচাই-এ একটি উদ্দীপক থাকবে যা থেকে ৪টি প্রশ্ন করা হবে। ক, খ, গ অংশে ১ করে মোট তিন এবং ঘ তে থাকবে ২ নাম্বার। এখান থেকে অনুধাবন দক্ষতা উত্তর করার ভালো ক্ষেত্র হতে পারে। পুরুষকে প্রথম পুরুষে পরিবর্তন করতে হবে। মূল অংশটি তিন ভাগের এক ভাগ হলে সারাংশ/সারমর্ম উপযুক্ত হবে। আবেদনপত্র পাশাপাশি দুই পৃষ্ঠায় লিখতে হবে। অন্যান্য পত্র লেখার ক্ষেত্রেও এই নিয়ম মেনে চলা ভালো। পত্রের ভাষা সহজ-সরল ও বক্তব্য সুস্পষ্ট হতে হবে। রচনার স্তবকগুলো পরস্পরের মধ্যে মিল রেখে সাজাতে হবে। >> পরীক্ষার খাতা প্রথম পাতায় রোল নম্বর, রেজি. নম্বর, বিষয় কোডের বৃত্ত সঠিকভাবে ভরাট করবে। নৈর্ব্যক্তিক পরীক্ষায় সেট কোডের বৃত্ত অবশ্যই সঠিকভাবে ভরাট করতে হবে। খেয়াল রাখবে খাতার কোথাও যেন কালির দাগ না পড়ে। মনে রাখতে হবে, পরীক্ষার খাতায় ভালো উপস্থাপনাই বেশি নম্বর পেতে সহায়তা করে। সুন্দর উপস্থাপনা বলতে পরীক্ষার খাতার সার্বিক পরিচ্ছন্নতা, নির্ভুল, মানসম্মত ও যথাযথ উত্তর লেখাকেই বোঝায়। খাতার ওপরে ও বাম দিকে পেনসিল বা বল পয়েন্ট কলম দিয়ে এক ইঞ্চি পরিমাণ মার্জিন দিতে হবে। প্রতিটি উত্তর শেষ হলে সরলরেখার সমাপ্ত চিহ্ন দিতে হবে। অনেকেই পরীক্ষার খাতায় ভাঁজ দিয়ে থাকে। এটা না করে মার্জিন টানতে হবে। উত্তর লেখার সময় প্রশ্নের নম্বর লিখে নিচে দাগ টেনে দেবে। >> প্রশ্ন নির্বাচন ও উত্তর প্রশ্নপত্র হাতে পেলে তা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দেখে নেবে। এতগুলো প্রশ্নের মধ্যে দু-একটা তোমার অজানা থাকতেই পারে। এ নিয়ে মন খারাপ করবে না। লিখতে লিখতে বিষয়গুলো মনে পড়বে। আবার প্রশ্ন সহজ হয়েছে অথবা কমন পড়েছে ভেবে খুব উত্ফুল্ল হওয়ারও প্রয়োজন নেই। এতে প্রশ্ন ভুলে যাওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। প্রশ্ন পাওয়ার পর বাছাইয়ের কাজটি গুরুত্বপূর্ণ। যে প্রশ্নটার উত্তর তুমি ভালো পার সেটা দিয়ে শুরু করবে। যেসব প্রশ্নের পূর্ণ নম্বর পাওয়া যায়, জানা থাকলে সে ধরনের প্রশ্ন নির্বাচন করা উচিত। একই ধরনের প্রশ্ন হলে, যেটি ভালো জানা সেটি প্রথমে লিখবে। বেখেয়ালে কোনো প্রশ্ন বাদ গেল কি না চোখ বুলিয়ে দেখে নেবে। শেষে রিভিশন দিতে কিন্তু ভুলবেনা। অতিরিক্ত পৃষ্ঠা নিলে সঠিকভাবে স্টেপল হয়েছে কিনা খেয়াল করবে।