রা জ নী তি

রাষ্ট্রীয় নীতি নিয়ে বিতর্ক ছেড়ে চলছে নিছক গদি দখলের কসরত

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০১৩, ২১:২৪
বর্তমান সংসদের মেয়াদ শেষ হবে আগামী ৮৯ দিন পরে, ২৪ জানুয়ারি তারিখে। সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হলে এর আগেই নির্বাচন করতে হবে এবং নির্বাচিত নতুন সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে। তাতে সে নির্বাচন যে ধরনেরই হোক না কেন! পরে কি হয়, তা পরে দেখা যাবে— কিন্তু এই সময়সীমার মধ্যে নির্বাচন হতেই হবে। অর্থাত্ নতুন একটি সরকারের ক্ষমতায় আসার ‘লগ্ন’ উপস্থিত হয়েছে। যদি যথাসময়ে নির্বাচন না হতে পারে তাহলে সাংবিধানিক যে শূন্যতা সৃষ্টি হবে তা পূরণের জন্য কোনো না কোনো একটা ‘সরকার’ আসতে ‘বাধ্য’ হবে। কোন অবস্থায়ই বর্তমান সরকারের পক্ষে ক্ষমতায় থাকাটা ৮৯ দিন পর আর কোনমতেই সম্ভব হবে না। সরকার বদল হওয়ার সময় ঘনিয়ে আসার এই ক্ষণে দেশ ও জনগণের সামনে সবচেয়ে বড় কর্তব্য হলো সরকারের নীতি কি হবে সে বিষয়ে বিতর্কে অংশ নিয়ে মতামত প্রদান করা। অন্যান্য যে কোনো সময়ের তুলনায় রাষ্ট্রীয় নীতির বিষয়টি পুনঃনির্ধারণের জন্য এখনই উপযুক্ত উপলক্ষ ও সে কারণে তা নিয়ে আলোচনা করার ও অর্থপূর্ণ তর্ক-বিতর্ক পরিচালনার বড় একটি সুযোগ। কিন্তু জাতির অনেক দুর্ভাগ্যের মধ্যে বড় একটি দুর্ভাগ্য হচ্ছে দেশ ও জনগণের মৌলিক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট এসব বিষয়ে কোনো আলোচনা আজ মাঠে-ময়দানে নেই বললেই চলে। দেশের বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমেও বিষয়টি মোটেই গুরুত্ব পাচ্ছে না। এই সময়ে যেটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু, রাষ্ট্র পরিচালনার ও সরকারি কাজকর্মের নীতি-দর্শনের কোথায় কতোটা কোন অভিমুখে পরিবর্তন,সংশোধন, পরিমার্জন, উন্নতি সাধন ইত্যাদি করা প্রয়োজন, আলাপ-আলোচনা ও তর্ক-বিতর্কে সে বিষয়টি প্রায় সম্পূর্ণ অনুপস্থিত। সবচেয়ে আগে ও সবচেয়ে গুরুত্ব দিয়ে যা আলোচনা হওয়া উচিত দেশ ও জনগণের জীবনের সেই প্রধান ইস্যুর বিষয়গুলোকে আড়াল করে কার্যত একমাত্র ইস্যু হিসেবে সামনে চলে এসেছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার—অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তথা কি ধরনের সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে সে বিষয়ে বিতর্কটি। এ নিয়েই চতুর্দিক তোলপাড় করে তুলেছে দেশের বড় দুটি বুর্জোয়া রাজনৈতিক দল। শুধু বিতর্ক করেই তারা ক্ষান্ত থাকছে না, এ নিয়ে তাদের মতবিরোধকে তারা সহিংস সংঘাতে পরিণত করে দেশের গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতাকে হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে ও দেশবাসীকে চরম অনিশ্চয়তা, বিপদ ও আতঙ্কে নিক্ষেপ করেছে। দেশের অধিকাংশ মানুষের কাছে এখন প্রধান ইস্যুর অন্যতম বিষয় হলো দ্রব্যমূল্যের অনিয়ন্ত্রিত ঊর্ধ্বগতি, আয়ের সাথে ক্রমবর্ধমান মূল্যস্তরের অসংগতি, কন্ট্রোল দামে রেশনে নিত্যব্যবহার্য দ্রব্য সরবরাহ ব্যবস্থার অনুপস্থিতি, দুর্নীতিমুক্ত ও দক্ষ গণবন্টন ব্যবস্থার অভাব, মুনাফালোভী অসাধু ব্যবসায়ীদের শোষণের অবাধ লীলা ক্ষেত্রে পরিণত করার জন্য ‘বাজারকে’ তাদের জিম্মি করতে দেয়া ইত্যাদি। এর সবগুলো বিষয়ের সাথে জড়িত হচ্ছে সরকার ও রাষ্ট্র অনুসৃত অর্থনৈতিক-সামাজিক ব্যবস্থার ইস্যুটি। সরকার আসে যায়, অথচ মানুষের সামনে দ্রব্যমূল্যের তথা তার ক্রয়ক্ষমতাভিত্তিক ‘প্রকৃত আয়ের’ সেই সমস্যা চলছে তো চলছেই। জীবন-যন্ত্রণার এসব একই রকম প্রশ্ন জনগণকে ক্রমাগত জর্জরিত করে চলেছে। এর কারণ কি? এর কারণ হলো দেশে ‘গদির’ বদল হয় কিন্তু ‘নীতির’ বদল হয় না। জনগণ পর্যায়ক্রমে প্রায় একইভাবে চলতে থাকা তাদের এসব সমস্যার সমাধান চায়। তারা এমন সরকার চায় যারা এই সমস্যা স্থায়ীভাবে দূর করবে। কিন্তু জনগণ এখনো পুরোপুরি বুঝে উঠতে পারেনি যে প্রচলিত ‘নীতি-ব্যবস্থা’ বদল করবে এমন সরকারকে ক্ষমতায় না আনতে পারলে এই সমস্যার সমাধান হবে না। তারা যেন বুঝে উঠতে না পারে সে চেষ্টাও পাকাপোক্ত করে রাখা হয়েছে নানা পন্থায়। এসবের মধ্যে একটি প্রধান পন্থা হলো জনগণকে এমনভাবে ‘গদি’ বদলের বিষয় নিয়ে আলোড়িত করে রাখা যাতে করে তারা যেন ‘নীতি-ব্যবস্থা’ বদলের বিষয়ে দৃষ্টি দেয়ার সুযোগ না পায়। জনগণের সামনে এখন আরো যেসব ভাবনা-চিন্তার বিষয় প্রাধান্য বিস্তার করে রেখেছে তার মধ্যে রয়েছে নিচ থেকে উপর পর্যন্ত সুবিস্তৃত ঘুষ-দুর্নীতির বাস্তবতা, তদবির বাণিজ্য, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, নিয়োগ বাণিজ্য, বদলি বাণিজ্য, পদায়ন বাণিজ্য, প্রমোশন বাণিজ্য, ভর্তি বাণিজ্য, সিট বাণিজ্য, দলবাজি, পরিবারবাজি, দলীয় দাপট দেখিয়ে অপরাধ করা ও তা করে পার পেয়ে যাওয়া, হত্যা-খুন-গুম-ক্রসফায়ার, ছিনতাই-ধর্ষণ-নারী নির্যাতন, প্রজেক্টের টাকা চুরি বা প্রজেক্ট লোপাট ইত্যাদি চোখের সামনে ঘটে যাওয়া অসহনীয় সব ঘটনাবলি। এসবের সাথে মন্ত্রী, এমপি, আমলা, দলীয় ‘ক্যাডার’ বাহিনী, নেতা-পাতি নেতা প্রমুখ জড়িত। একই রকম অবস্থা বিরাজ করছে সব সরকারের আমলেই, সেটি বিএনপি-র নেতৃত্বাধীন সরকার হোক কিংবা হোক তা আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার। ‘গদি’ বদল হয় কিন্তু এসব যন্ত্রণার অবসান হয় না। ক্ষমতা বদলের প্রতিটি লগ্নেই জনগণ এসবের অবসান হবে বলে আশায় বুক বাঁধে, কিন্তু সেসবের অবসান ঘটে না। এর কারণও যে ‘গদির’ বদল হলেও ‘নীতি-ব্যবস্থার’ বদল না হওয়া— সে কথা জনগণ যেন বুঝে উঠতে না পারে তার যাবতীয় আয়োজন ও প্রচলিত ‘ব্যবস্থার’ মধ্যেই করে রাখা হয়েছে। দেশবাসীর সামনে চরম বিচলিত হওয়ার বড় কারণ হলে কল্পনাতীত পরিমাণের লুটপাটের অব্যাহত বাস্তবতা। অর্থমন্ত্রীর হিসেব অনুযায়ী দেশের অপ্রদর্শিত কালো টাকার পরিমাণ জাতীয় আয়ের ৮০ শতাংশের বেশি হওয়াও অসম্ভব নয়। প্রদর্শিত সাদা টাকার সিংহভাগও কোনো না কোনো অসত্ পন্থায় সংগৃহীত মুষ্টিমেয় ব্যক্তি ও পরিবারের ‘অনুপার্জিত আয়ের’ ফসল। সাম্প্রতিক মহাজোট সরকারের আমলের শেয়ার বাজার কেলেঙ্কারি, হলমার্ক কেলেঙ্কারি, ডেসটিনি-যুবক প্রভৃতির প্রতারণা বাণিজ্য, পদ্মা সেতু প্রজেক্ট নিয়ে ‘মামলা’, সোনালী ব্যাংকসহ পাবলিক-প্রাইভেট ব্যাংকের ক্ষমাহীন অনিয়ম, নিয়োগ-ব্যবসার বড় বড় সিন্ডিকেটেড লুটপাট ইত্যাদি প্রকাশ হয়ে পড়া ঘটনা জনগণকে চরমভাবে ক্ষুব্ধ করে তুলেছে। এগুলো হলো কেবল ‘ধরা খাওয়া’ লুটপাটের ঘটনা। এ থেকেই জনগণ অনুমান করতে পারছে যে অপ্রকাশিত ‘সফল’ লুটপাটের পরিমাণ কতো বিশাল। দেশ আজ লুটপাটের এক অবাধ লীলাভূমি হয়ে ওঠায় সমাজে ধন-বৈষম্য ও শ্রেণি-বৈষম্য বেড়ে চলেছে। এরকমই চলেছে পূর্বতম সব সরকারের আমলে। বিএনপি-জামায়াত সরকারের আমলে প্রবর্তিত ছিল কুখ্যাত লুটপাটের কেন্দ্র ‘হাওয়া ভবনের’ লুটপাট বাণিজ্য। আগাগোড়াই চলেছে বিদেশি কোম্পানি ও সংস্থার কমিশন খাওয়ার উত্সব। কমিশন খাওয়া কর্মকর্তাদের দেশপ্রেম ও সততাকে টাকা দিয়ে কিনে নিয়ে সাম্রাজ্যবাদী বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো দেশের সম্পদ লুটে নিয়েছে ও নিচ্ছে। এসব সম্ভব হচ্ছে রাষ্ট্র ও সরকার ‘পুঁজিবাদী-সাম্রাজ্যবাদী বিশ্বায়নের’ প্রবাহে দেশকে পরিপূর্ণভাবে নিমজ্জিত করে ফেলার ফলশ্রুতিতে। দেশকে করে তোলা হয়েছে সাম্রাজ্যবাদের আজ্ঞাবহ সেবাদাস। দেশে একেকবার একেক সরকার ক্ষমতায় আসে। কিন্তু ‘গদির’ বদল হলেও সব সরকারের আমলেই আমাদের দেশকে অর্থনৈতিকভাবে তো বটেই, রাষ্ট্রীয়-প্রশাসনিক-প্রতিরক্ষা-রাজনীতি-বিদেশ নীতি ইত্যাদি সবদিক থেকেই সাম্রাজ্যবাদী শক্তির কাছে আরো বেশি করে বন্ধক দিয়ে দেয়া হচ্ছে। অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে তারা প্রকাশ্যে হস্তক্ষেপ করতে দ্বিধা করে না। দেশের বুর্জোয়া রাজনৈতিক দলগুলো এসব বিদেশি প্রভুশক্তির মুখাপেক্ষী হয়ে থাকে। দেশীয় লুটেরা গোষ্ঠীকে সাথে নিয়ে সাম্রাজ্যবাদী শক্তি ক্ষমতার কলকাঠি নিয়ন্ত্রণ করে। একাধিক্রমে ক্ষমতায় আসা সব সরকারের আমলেই বিদেশি প্রভুদের কাছে জাতীয় স্বার্থ বিকিয়ে দেয়াই শুধু নয়, দেশের সার্বভৌমত্ব ও সম্মান মর্যাদাকেও জলাঞ্জলি দেয়া হচ্ছে। দেশ ও জনগণের কাছে এসবের চেয়ে জরুরি ইস্যু আর কি থাকতে পারে? সরকার পরিবর্তনের সন্ধিক্ষণে উপস্থিত হওয়া সত্ত্বেও এসব নিয়ে আলোচনা কোথায়? এসব মৌলিক ইস্যু নিয়ে খোলামেলা আলোচনা ও তর্ক-বিতর্কের মাধ্যমে জনগণের মতামত গ্রহণের চেষ্টা কোথায়? এসব বিষয়ে জনগণের মতামত গঠন ও গ্রহণের কাজকে পাশ কাটিয়ে নির্বাচনী রায়ের বিষয়টিকে শুধু ‘গদির প্রতিযোগিতার উত্তেজক খেলায়’ সীমাবদ্ধ করে রাখা হচ্ছে। এর ফলে যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক না কেন, রাষ্ট্র ও সরকারের অনুসৃত নীতি-ব্যবস্থার কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না। সে কারণে জনগণের জীবন-যন্ত্রণা ও দেশ-জাতির স্বার্থ বিকিয়ে দিয়ে লুটপাটের যে অবস্থা সব আমলেই চলছে তার কোন হেরফের ঘটছে না। নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশ ‘তত্ত্বাবধায়ক’ না ‘অন্তর্বর্তীকালীন’ বিতর্কের আবর্তে এখন নিপতিত। এই বিতর্ক ও তা নিয়ে সৃষ্ট অচলাবস্থা, দ্বন্দ্ব, সংঘাত, মারমুখি তাণ্ডবের ঘটনাবলির দিকে জনগণের সমস্ত মনোযোগ আবদ্ধ করে রাখা হয়েছে। দুই বুর্জোয়া দলের মধ্যে গদি দখলের এই মরিয়া দ্বন্দ্বের সুযোগে স্বাধীনতাবিরোধী সাম্প্রদায়িক জঙ্গি সন্ত্রাসী শক্তি তাদের দেশদ্রোহী এজেন্ডা এগিয়ে নেয়ার সুযোগ করে নিচ্ছে। বিএনপির আশ্রয়ে, আওয়ামী লীগের দুর্বল নীতি ও ভ্রান্ত কৌশলের সুযোগে ও সাম্রাজ্যবাদের প্রত্যক্ষ প্রশ্রয়ে জামায়াত-শিবির-হেফাজত ‘মোটা-তাজা’ হয়ে দেশের জন্য মহাবিপদ হয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছে। জনগণের ইহলৌকিক জীবনের সমস্যাবলিকে আলোচনা, তর্ক-বিতর্ক ও রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার প্রধান ইস্যু না করে যদি গদি দখলের খেলাকেই প্রধান ও একমাত্র ইস্যু করে তোলা হয়, তাহলে পরিণতিতে এই মহাবিপদের শক্তিই মদত পাবে। রাষ্ট্র ও সরকারের অনুসৃত নীতি-ব্যবস্থা জনগণের স্বার্থে পরিচালনা করতে হলে প্রয়োজন সার্বিক পরিবর্তন। প্রয়োজন ‘গদি’ ও ‘ব্যবস্থা’ উভয়েরই পরিবর্তন। সেক্ষেত্রে জনগণের সংগ্রাম, শক্তি, সচেতনতা, একতা ও সংগঠনই হতে পারে চালিকাশক্তি। এই কাজটি আপনা-আপনি ঘটে যাবে না। সেজন্য পথ তৈরি করার দায়িত্ব নিতে হবে রাজনৈতিকভাবে সচেতন একটি অগ্রবাহিনীর শক্তিকে। সে দায়িত্ব পালনের জন্য গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা (তা যতো দুর্বলতাসম্পন্নই হোক) ও গণতান্ত্রিক অধিকার (তা যতোটা অপরিপূর্ণই হোক) থাকাটা ‘স্বৈরাচারী’ ব্যবস্থার চেয়ে সহায়ক। বর্তমান বাস্তব প্রেক্ষাপটে যখন ‘বিপ্লবের’ আশু সম্ভাবনা তেমন দৃশ্যমান নয়, তখন গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতার বিষয়টি সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষার সাথে সমার্থক হয়ে আছে। সেক্ষেত্রে অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তরের বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচনের ইস্যুর পরিপ্রেক্ষিতেও ‘তত্ত্বাবধায়ক’ বনাম ‘অন্তর্বর্তীকালীন’ নিয়ে বিতর্কটি একমাত্র বিষয় নয়। বরঞ্চ সেক্ষেত্রে টাকার খেলা, পেশীশক্তির দাপট, প্রশাসনিক কারসাজি, সাম্প্রদায়িকতার সুড়সুড়ি দিয়ে ভোট আদায় ইত্যাদি বিকৃতি থেকে নির্বাচন ব্যবস্থাকে রক্ষা করাটা আরো গুরুত্বপূর্ণ ও আসল কাজ। ‘ভোটের অনুপাতে আসন সংখ্যা’ পদ্ধতি প্রবর্তনের জন্য নির্বাচন ব্যবস্থার আমূল সংস্কার করাটা এ প্রসঙ্গে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচন সংক্রান্ত এসব বিষয়কে আড়াল করে ‘তত্ত্বাবধায়ক’ বনাম ‘অন্তর্বর্তীকালীন’ বিতর্ককে কেন্দ্র করে দা-কুড়াল, লগি-বৈঠার সংঘাতে জনগণকে জিম্মি করে কাজের কাজ কিছুই হবে না। জনগণের মৌলিক স্বার্থের বিষয় নিয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে তেমন একটা বিরোধ নেই। উভয়ই মোটা দাগে সাম্রাজ্যবাদ ও লুটেরা ধনিক শ্রেণির স্বার্থের রক্ষক, আপামর জনগণের মৌলিক স্বার্থের বিরুদ্ধে। তারা একজনও পরস্পরের অনুসৃত আর্থ-সামাজিক নীতি-ব্যবস্থার বিরোধী নয়। সেই অর্থে তারা ‘সমমনা’ দল। তাদের দ্বন্দ্ব প্রধানত লুটপাটের ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে। সেজন্য উভয়ের ‘গদি’ চাই-ই-চাই! রাষ্ট্রীয় নীতি নিয়ে বিতর্ক বাদ দিয়ে সে কারণেই তাদের মধ্যে আজ গদি দখলের কসরত। দিন-মাস-বছর ধরে চলতে থাকা যন্ত্রণার সাথে জনগণের জীবনে যুক্ত হচ্ছে জোট-মহাজোটের গদি দখলের কসরত-প্রসূত অতিরিক্ত এক যন্ত্রণা। লেখক : সভাপতি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি- সিপিবি E-mail : [email protected]

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন