লাহলি গ্রাম যেন বিয়ে বাড়ি

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০১৩, ২২:১১
হরিয়ানার অখ্যাত এক গ্রাম লাহলি। তবে সমগ্র ভারত তো বটেই সারা বিশ্বের ক্রিকেটপ্রেমীদের দৃষ্টিই এখন আপাত অখ্যাত এই গ্রামের দিকে। আর সেই আগ্রহের আঁচ লেগেছে লাহলিতেও। পুরো গ্রামই সেজেছে বিয়ে বাড়ির সাজে। পাঠক নিশ্চয়ই অনুমান করতে পারছেন কারণটি। হ্যা, রেকর্ডের বরপুত্র শচীন রমেশ টেন্ডুলকারকে বরণ করে নিতেই এই আয়োজন। ঘরোয়া ক্রিকেটে নিজের শেষ ম্যাচ খেলতে হরিয়ানার বিরুদ্ধে এরই মধ্যে মাঠে নেমে পড়েছেন টেন্ডুলকার। সকল পথ যেন মিশে গেছে রোথাকের চৌধুরী বানসি লাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। ক্রিকেট ভক্ত, লাহলি গ্রামের বাসিন্দা, পার্শ্ববর্তী গ্রামের লোকজন দূর-দূরান্ত থেকে আসা লোকজন সকলের গন্তব্যই স্টেডিয়াম-টেন্ডুলকার দর্শন। স্টেডিয়ামে গত শনিবার অত্যন্ত কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে অনুশীলন করা টেন্ডুলকার রনজি ট্রফিতে চারদিনের একটি ম্যাচে খেলছেন মুম্বাইর হয়ে। আর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে ২০০তম টেস্ট খেলেই ক্রিকেটকে বিদায় জানাতে যাওয়া শচীনের জন্য ঘরোয়া ক্রিকেটে এটিই হয়ে থাকবে শেষ ম্যাচ। গতকাল থেকে শুরু হওয়া ম্যাচে প্রথম ইনিংসে অবশ্য ব্যাট হাতে ভালো কিছু করতে পারেননি শচীন। চার নম্বরে ব্যাট করতে নেমে মহিত শর্মার বলে ফিরে গেছেন মাত্র পাঁচ রান করেই। অবশ্য, এর আগেই হরিয়ানাকে ১৩৪ রানে অল আউট করে দিয়ে ম্যাচে সুবিধাজনক অবস্থানে আছে শচীনের দল মুম্বাই। টেন্ডুলকার ফিরে গেলেও ভক্তদের আকর্ষণ তাতে একবিন্দু কমছে না। ঘরোয়া ক্রিকেটে ক্রিকেট দেবতার শেষ ম্যাচে নিজেদের সাক্ষী রাখতে হরিয়ানাবাসীর প্রাণান্ত প্রচেষ্টা চলছেই। হরিয়ান ক্রিকেট এসোসিয়েশনের (এইচসিএ) এক কর্মকর্তা একটি বার্তা সংস্থাকে বলেন, ‘এ পর্যন্ত এ ম্যাচের মত কোন ম্যাচই এত আকর্ষণ সৃষ্টি করতে পারেনি। এটার একটাই কারণ সবাই শচিনের খেলা দেখতে চায়। রনজি ট্রফিতে এর আগে যতগুলো ম্যাচ এখানে হয়েছে সবকটিতেই গ্যালারির বেশির ভাগই ছিল ফাঁকা।’ স্টেডিয়ামে মোট ধারণক্ষমতা ৮ হাজার। ‘নিরাপত্তার কারণে’ প্রায় ২৬০০ আসনই এইচসিএ কর্তৃক পরিপূর্ণ থাকবে। যে কারণে অনেক লোকই হতাশ কারণ তারা ম্যাচটি দেখতে পারছেন না। লাহলি গ্রামের বাসিন্দা বাহাদুর সিং বলেন, ‘ইতোপূর্বে তারা (এইচসিএ) জানিয়েছিল গ্রামবাসী টিকেট পাবে। অধিকাংশ মানুষই এখনো টিকেট পায়নি। জানি না টিকেটগুলো কোথায় উধাও হয়ে গেল।’ প্রবেশ করতে না দিলে স্টেডিয়ামের সামনে বিক্ষোভ করবে বলে হুমকি দিয়েছে গ্রামবাসী। আরেক ক্রিকেট ভক্ত মনোজ কুমার প্রশ্ন করেন, শচিনের খেলা দেখার আগ্রাধিকার লাহলি গ্রামবাসীর। অন্য জেলায় কেন টিকেট দেয়া হলো? জনগণ বিক্ষোভ করতে পারে বিবেচনা করে হরিয়ানা পুলিশ পুরোপুরি প্রস্তুত। শনিবার থেকেই স্টেডিয়ামের ভিতরে ও বাইরে ৬শ’ পুলিশ সদস্য নিয়োগ করা হয়েছে। পুরো দিনই পুলিশ কর্মকর্তাদের নিরাপত্তার কাজে ব্যস্ত থাকতে দেখা গেছে। এমন উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ায় ম্যাচ চলাকালে অনেক ভিআইপিই মাঠ পরিদর্শনে আসবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এত বেশি উত্তেজনার একটাই কারণ- এটাই ঘরোয়া ক্রিকেটে টেন্ডুলকারের শেষ ম্যাচ হতে পারে। দিল্লি থেকে ৭০ কিলোমিটার দূরে রোথাক শহরে হরিয়ানা সেচ বিভাগের ক্যানাল রেস্ট হাউজে থাকা টেন্ডুলকার খেলছেন জহির খানের অধিনায়কত্বে। হরিয়ানা দলের কোচ ও অধিনায়ক ভারতীয় দলের সাবেক সদস্য অজয় জাদেজাকেও দেখা যাবে এ ম্যাচে খেলতে। এ স্টেডিয়ামে এটা রনজি ট্রফির ২৫তম ম্যাচ। -বাসস।