পেশাদার ফুটবল লিগের জন্য বিদেশি খেলোয়াড়দের এনে পরীক্ষা নিচ্ছে আবাহনী। গতকাল খুব সকালে ঢাকায় এসে পৌঁছেছেন নাইজেরিয়ান দুই ফুটবলার। তারা সারাদিন ঘুমিয়ে কাটিয়েছেন বলে জানিয়েছে আবাহনী। অভি মাঝমাঠের এবং ওকোনুয়া কিংসলে স্ট্রাইকার। আজ নাইজেরিয়ান দুই ফুটবলার আবাহনীর অনুশীলনে যোগ দেবেন। এই দুইজন নাইজেরিয়াতে মৌসুম শেষ করে এসেছেন বলে জানা গেছে। বায়োডাটা দেখে আবাহনী সন্তুষ্ট। কিন্তু মাঠের পারফরম্যান্স না দেখে সিদ্ধান্ত নিতে নারাজ আবাহনীর ফুটবল কর্মকর্তারা। কারণ আফ্রিকান ফুটবলারদের উপর এখন আর ভরসা রাখতে চাইছে না কোনো ক্লাব। খেলা দেখে নিশ্চিত হতে চায় কার যোগ্যতা কেমন। আর সেকারণেই আবাহনীর ফুটবল ম্যানেজার সত্যজিত্ দাস রুপু বলছেন, বিদেশি খেলোয়াড়রা নিজেদের উন্নতমানের দাবি করলেও আমরা মাঠের খেলাটা দেখে চূড়ান্ত করতে চাই।’ তিনি বলেন, সময়টা বেশি গেলেও যাক। বিদেশি ফুটবল নিয়ে ভুল সিদ্ধান্ত নিতে চাই না।’ রুপু জানিয়েছেন, গতকাল সকালে আসা দুই নাইজেরিয়ান ছাড়াই একই দেশ থেকে আগামীকাল আরো দুইজন ফুটবলার আবাহনীতে আসছেন। এছাড়াও মরক্কো থেকে আসা একজন ডিফেন্ডার এবং একজন লেফট উইংয়ের ফুটবলার এখন দলে ট্রায়াল দিচ্ছেন।
আগামী লিগে একটি দল সাতজন বিদেশি ফুটবলার রেজিস্ট্রেশন করাতে পারবে। আবাহনী বিদেশিদের কোটা নতুন করে পূরণ করতে উদ্যোগ নিয়েছে। কারণ গত চার মৌসুমে আবাহনীর জার্সি গায়ে খেলা ফুটবলার ঘানাইয়ান আউডু ইব্রাহিম, সামাদ ইউসুফ, লাকিপল, থুয়াম ফ্রাঙ্কদের আর হয় তো আবাহনীতে দেখা যাবে না। মৌসুম শুরু হতে যাচ্ছে অথচ তাদেরকে ঢাকা আসার সবুজ সংকেত দেয়া হয়নি। অন্যান্য দেশের ফুটবলারদের পরীক্ষা নেয়া হচ্ছে। যদি ট্রায়ালে আসা খেলোয়াড়রা পরীক্ষায় টিকে যায় তাহলে আবাহনী শিবির থেকে সামা ইব্রাহিমদের দিন শেষ।
আবাহনী শুধু বিদেশি খেলোয়াড়দের লাইনআপেই পরিবর্তন আনছে না। কোচও পরিবর্তন করেছে সেটা আগেই সবার জানা হয়ে গেছে। অষ্ট্রেলিয়ান ফুটবল কোচের কাছে সুজন, ওয়ালী ফয়সালরা তালিম নিচ্ছেন এখন। আবাহনীর ফুটবল অনুশীলন শুরু হয়েছে এক সপ্তাহ হয়ে গেল। অষ্ট্রেলিয়ান কোচ নাথান হল দায়িত্ব নিয়েছেন। এরই মধ্যে কখনো মাঠের অনুশীলন আবার কখনও জিম করছেন খেলোয়াড়রা। আজ বিকালে মাঠে অনুশীলন করবে আবাহনী।
দলবদল চললেও আবাহনী এখনও খেলোয়াড় রেজিস্ট্রেশন করায়নি। তারাও নিশ্চুপ রয়েছে। তবে দলের ম্যানেজার জানিয়েছেন সময় হলেই তারা খেলোয়াড় রেজিস্ট্রেশনের কাজ সম্পন্ন করবেন। তবে আবাহনীর কাছ থেকে এক লাখ টাকা আগাম নিয়ে শেখ রাসেলে ফিরে যাওয়া জাতীয় দলের স্ট্রাইকার মিঠুন চৌধুরীর ব্যাপারে কঠোর হবে আবাহনী। জানা গেছে, মিঠুনের নাম বাফুফেতে জমা পড়লেই আপত্তি তুলতে পারে আবাহনী।
শেখ রাসেলে আসছেন একঝাঁক বিদেশি ফুটবলার
হাইতির ফুটবলার সনি নরদে শেখ জামালে চলে যাওয়ায় শেখ রাসেল ক্রীড়াচক্র বিকল্প একজন খুঁজছিল। খুব সম্ভবত সেটা তারা পেয়েও যাচ্ছেন। বিকল্প হিসাবে জামাইকান ফুটবলার আসছেন শেখ রাসেলে। তিনি মাত্রই লিগ শেখ করেছেন ফিনল্যান্ডে। দেশে ফিরে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেবে বলে জানা গেছে। আক্রমণভাগের এই ফুটবলারের খেলা ইউটিউবে দেখেছেন শেখ রাসেলের কোচ মারুফুল হক। তার নাকি পছন্দও হয়েছে, সনির চেয়ে ভালো খেলে। শেখ রাসেল জামাইকান ফুটবলারের নাম প্রকাশ করেনি। এছাড়াও এক ঝাঁক বিদেশি ফুটবলার ট্রায়াল দিতে আসছেন শেখ রাসেলে। হাইতি থেকে ৫ জন, মরক্কো থেকে ৫ জন এবং উরুগুয়ে থেকে একজন ফুটবলার আসছেন। সব ফুটবলার পালাক্রমে আগামী সপ্তাহে ঢাকায় পৌঁছাবেন বলে জানা গেছে। শেখ রাসেল ক্রীড়া এখন স্থানীয় ফুটবলারদের নিয়ে প্রতিদিন দুই বেলা অনুশীলন করছে। গতকাল খেলোয়াড়দের নিয়ে ক্লাব কর্মকর্তারা বৈঠক করেছেন। কিভাবে তারা দল নিয়ে এগুবেন তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বৈঠকে। প্রয়োজনে ফেডারেশন কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টটিতে স্থানীয় খেলোয়াড়দের নিয়ে মাঠে নামতে পারে ক্লাবটি। খেলোয়াড় রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করেনি। তবে জানা গেছে শেষ দিনে সম্পন্ন করা হবে।
