কক্সবাজার থেকে সরে আসলো ২০১৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। শুরুতে এই ভেন্যুতে মেয়েদের বিশ্বকাপ আয়োজনের কথা থাকলেও এখন সেই খেলাগুলো আয়োজন করা হবে সিলেট বিভাগীয় স্টেডিয়ামে। গতকাল রবিবার দুপুরে স্থানীয় এক হোটেলে ছেলে ও মেয়েদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফরম্যাট, সময়সূচি, ভেন্যু ও টিকিটের দাম ঘোষণা করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)।
সিলেট বিভাগীয় স্টেডিয়ামের নির্মাণকাজ এখনও চলছে। নির্মাণকাজ শেষ করার জন্য আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত সময় পেয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এখানে ছেলেদের ক্রিকেটের গ্রুপ পর্বের কয়েকটি ম্যাচ আগে থেকেই অনুষ্ঠিত হবার কথা। এবার তার সাথে যুক্ত হল মেয়েদের বিশ্বকাপ।
কক্সবাজার থেকে খেলা সরিয়ে নেয়ার কারণ সম্পর্কে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন বলেন, ‘আমরা কিন্তু অনেকগুলো ভেন্যু তৈরি করেছি। বিকেএসপি, সিলেট, ফতুল্লা, চট্টগ্রাম। কক্সবাজার স্টেডিয়ামও তৈরি হয়ে গেছে। কিন্তু এখানে কোনো খেলা হয়নি। একদম নতুন উইকেট। এমন উইকেটে বিশ্বকাপ খেলা কঠিন। শুধু এ কারণেই কক্সবাজারে ম্যাচ দেয়া হয়নি। তবে অনেক প্রস্তুতি ম্যাচ হবে বিশ্বকাপকে ঘিরে। সেটা পুরুষ, মহিলা সব দলেরই থাকবে। আমরা এত ম্যাচ কোথায় দিবো। মিরপুর, চট্টগ্রাম, সিলেটের বাইরেও কয়েকটি স্টেডিয়াম আছে। সেগুলোতেই প্রস্তুতি ম্যাচগুলো হবে।’
আইসিসি’র জেনারেল ম্যানেজার (কমার্শিয়াল) ক্যাম্পবেল জেমিসন বলেন, ‘আগে দক্ষিণ আফ্রিকা, ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও শ্রীলংকায় এই টুর্নামেন্টের আয়োজন এর জনপ্রিয়তার প্রমাণ দিয়েছে। তবে রোমাঞ্চকর বিষয় হচ্ছে এবার এটি বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। যেখানকার ক্রিকেট ঐতিহ্য গর্ব করার মতো। এর আগে ১৯৯৮ সালে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আয়োজন করেছিল বাংলাদেশ। যেটি তখন আইসিসি নক আউট টুর্নামেন্ট নামে পরিচিত ছিল। ২০১১ সালে বাংলাদেশ সহ-আয়োজক ছিল বিশ্বকাপ ক্রিকেটের। সেই সঙ্গে ২০০৪ সালে আইসিসি অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপেরও সফল আয়োজক বাংলাদেশ। সুতরাং আমি নিশ্চিত তারা আরো একটি বিশ্বসেরা টুর্নামেন্ট সফলতার সঙ্গে আয়োজন সম্পন্ন করতে পারবে।’
আগামী ১০ নভেম্বর থেকে টুর্নামেন্টের টিকিট বিক্রি শুরু হবে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়। এই প্রসঙ্গে আইসিসির কর্মকর্তা বলেন, ‘দেশের জনগণের ক্রয়ক্ষমতার ভিত্তিতে বিসিবি এর মূল্য নির্ধারণ করবে। যাতে মাঠে দর্শকদের ব্যাপক উপস্থিতি ঘটে।’
বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান এ সময় বলেন, ‘আমরা ক্রিকেট প্রিয় জাতি। এই দেশে এখন ক্রিকেট হচ্ছে সম্ভবত একত্রিত হবার একটি শক্তিশালী খেলা। ক্রিকেট বিক্রি শুরু হবার পর আমি বাংলাদেশ এবং বিশ্ববাসীকে এখানকার স্টেডিয়ামে উপস্থিত হবার আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। সেই সঙ্গে আহ্বান জানাচ্ছি দলগুলোকে সমর্থন দেয়ার জন্য। আশা করি, বাংলাদেশের আতিথেয়তায় সবাই মুগ্ধ হবে।
