আয়কর রিটার্ন দাখিলে আরো এক মাস সময় বাড়তে পারে

আপডেট : ২৮ অক্টোবর ২০১৩, ১৯:২৬
নির্ধারিত সময়ের পর এক মাস সময় বাড়িয়েও ব্যক্তি শ্রেণির কর দাতাদের আয়কর বিবরণী জমায় সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। গতকাল পর্যন্ত সবমিলিয়ে মাত্র চার লাখের কিছু বেশি রিটার্ন জমা পড়েছে। ঈদ, পূজার ছুটি ও চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা বিশেষত হরতালের কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এই অবস্থায় বিভিন্ন পক্ষের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সময় আরো এক মাস বাড়ানোর চিন্তা করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এনবিআর সূত্রে এ সব তথ্য জানা গেছে। সময় বাড়ানোর বিষয়ে এনবিআর সদস্য (আয়কর নীতি) সৈয়দ আমিনুল করীম গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, আমরা সময় বাড়ানোর চিন্তা-ভাবনা করছি। অর্থমন্ত্রী মহোদয়ের সম্মতি পেলে এ বিষয়ে জানাতে পারবো। তবে কতদিন সময় বাড়ানো হবে এ বিষয়ে তিনি জানাতে রাজি হননি। এনবিআরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২০১২-১৩ অর্থবছরে ১১ লাখ ৬৪ হাজার রিটার্ন দাখিল হয়েছিল। এর আগের বছর এর পরিমাণ ছিল ১০ লাখ ৫৬ হাজার। স্বাভাবিক নিয়মে গত ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ছিল রিটার্ন জমা দেয়ার শেষ দিন। কিন্তু তখন পর্যন্ত মাত্র তিন লাখের মত রিটার্ন জমা হয়। এই অবস্থায় ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে সময় এক মাস বাড়িয়ে চলতি মাসের ৩১ তারিখ পর্যন্ত (আগামী বৃহস্পতিবার) নির্ধারণ করা হয়। এনবিআরের আয়কর বিভাগের সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা এ প্রসঙ্গে ইত্তেফাককে জানান, অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, শেষ সময়ে এসে রিটার্ন জমা হয়। ব্যক্তি শ্রেণির করদাতাদের অনেকে আইনজীবীর মাধ্যমে তাদের রিটার্ন দাখিল করে থাকেন। তারা শেষ সপ্তাহে এসে রিটার্ন জমা দেন। কিন্তু ঈদ ও পূজার ছুটির পর হরতাল শুরু হয়েছে। একটি কর সার্কেলের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ওই সার্কেলে সাধারণত দুই হাজার রিটার্ন জমা হয়। কিন্তু এবার এখন পর্যন্ত মাত্র ৯শ’ রিটার্ন জমা পড়েছে। এই অবস্থায় সঙ্গত কারণেই সময় না বাড়িয়ে উপায় থাকবে না। সময় কতদিন বাড়তে পারে এ প্রশ্নে তিনি বলেন, বিভিন্ন পক্ষ থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় বাড়ানোর জন্য এনবিআরে চিঠি আসছে। তবে অতীতে নভেম্বরের বেশি সময় বাড়ানো হয়নি। সেই বিবেচনায় নভেম্বর পর্যন্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।